সুকুমার সরকার, ঢাকা: নির্বাচন আসন্ন। এদিকে দলনেত্রী জেলে। শীর্ষ নেতাদের অনেকের বিরুদ্ধে রয়েছে জামাত যোগের অভিযোগ। ডুবন্ত জাহাজ থেকে ইঁদুরের পালের মতো দল ছাড়ছে তৃণমূল স্তরের কর্মীরা। সব মিলিয়ে চরম সংকটে রয়েছে বাংলাদেশের প্রধান বিরোধী দল বিএনপি। তাই একপ্রকার মরিয়া হয়েই সুপ্রিমো খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে প্রবল আন্দোলনের হুমকি দিল দল।
[তাদের দেশের উপর সবসময়ই আক্রমণাত্মক মোদি সরকার, অভিযোগ পাকিস্তানের]
দুর্নীতি মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়ে জেলে রয়েছেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। শুক্রবার, তাঁর মুক্তির দাবিতে রাজধানী ঢাকায় একটি সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করে বিএনপি। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগির শাসকদল আওয়ামি লিগের কড়া সমালোচনা করেন। হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দেগে তিনি বলেন, “পাকিস্তানও এত অত্যাচার চালায়নি। ৭১-এর হানাদারদেরও ছাড়িয়ে গিয়েছে শাসকদলের গুন্ডারা। প্রতিবাদ করার সময় এসেছে। এবার রুখে দাঁড়াতে হবে। দেশে নৈরাজ্য চলছে। ভয়াবহ পরিস্থিতি থেকে দেশের উদ্ধার করতে এগিয়ে আসুক বিবেকবান মানুষরা।” আওয়ামি সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে বিএনপি মহাসচিব অভিযোগ করেন যে দেশে সংবিধানের হত্যা করছে শাসকদল। দুর্নীতি দমনের নাম ফাঁসানো হয়েছে বেগম জিয়াকে। তাঁকে মুক্তি না দিলে চরম আন্দোলনে নামবে দল।
চলতি বছরের শেষেই বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে সাধারণ নির্বাচন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগেই জানিয়েছিলেন, ভোট প্রক্রিয়া হবে সরকারের নজরদারিতেই। কোনও তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন কর হবে না। এই সিদ্ধান্তে প্রবল আপত্তি জানায় বিএনপি। তাদের অভিযোগ, নির্বাচনে কারচুপি করতেই এই পদক্ষেপ সরকারের। একই সঙ্গে পরিকল্পনা করে বেগম জিয়াকে জেলে পাঠানো হয়েছে। একের পর এক মামলা করে তাঁকে কারাগারে আটকে রাখা হচ্ছে। রাজনীতিবিদদের একাংশের দাবি, নির্বাচনকে মাথায় রেখেই দলনেত্রীর মুক্তির মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে বিএনপি। এবং এর ফলে দেশে হিংসা ছড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে।
[মাদকের বিরুদ্ধে অলআউট অভিযানে ব়্যাব, বাংলাদেশে খতম ১৫ পাচারকারী]