অরিজিৎ গুপ্ত, হাওড়া: ফের গতির বলি চালক। বিদেশি গাড়িতে কার রেসিংয়ে নেশা, আর সেই নেশায় প্রাণ কাড়ল কলকাতার ট্রায়াঙ্গুলার পার্কের বাসিন্দা এক ব্যবসায়ীর। গুরুতর আহত ব্যবসায়ীর সঙ্গী আশা জৈনও। ঘটনায় চাঞ্চল্য হাওড়ার সলপে।
[গায়ে পেট্রল ঢেলে পুড়িয়ে মারার চেষ্টা, কোনওমতে প্রাণে বাঁচলেন তৃণমূল নেতা]
রবিবার সকাল দশটা নাগাদ নিজের বিলাসবহুল বিদেশি গাড়িতে অত্যন্ত দ্রুত গতিতে ডানকুনি থেকে খড়গপুরের দিকে যাচ্ছিলেন শিবাজী রায় নামের ওই ব্যবসায়ী। তাঁর সঙ্গে আশা জৈন নামে এক মহিলাও ছিলেন গাড়িতে। পাকুড়িয়া ব্রিজের উপর দিয়ে যাওয়ার সময় হঠাৎই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে ওই ব্যাবসায়ীর গাড়ি। অত্যন্ত দ্রুত গতিতে ফ্লাই-ওভারের ডানদিকের রেলিংয়ে ধাক্কা মারে গাড়িটি। পুলিশ সুত্রে খবর, সেসময় গাড়িটির গতি ছিল ঘণ্টায় প্রায় ১৪০ কিলোমিটার। গতি বেশি থাকার দরুন বেশ খানিকটা রাস্তা সঙ্গে ঘর্ষণরত অবস্থায় এগিয়ে যায় গাড়িটি। এরপরই উলটে যায় । দ্রুত গতিতে থাকার দরুন গাড়িটি দুমড়ে-মুচড়ে একাকার অবস্থা হয়েছে। গুরুতর আহত অবস্থায় গাড়ির ভিতর থেকে উদ্ধার হন দুই আরোহী। ব্যবসায়ী শিবাজী রায় এবং তাঁর সফরসঙ্গী আশা জৈন। দুজনকেই দ্রুত কলকাতার একটি নার্সিংহোমে ভরতি করা হয়। এর কয়েক ঘণ্টা পরই মৃত বলে ঘোষণা করা হয়েছে চালক শিবাজি রায়কে। শিবাজি রায় কলকাতার ট্রায়াঙ্গুলার পার্কের বাসিন্দা। পারিবারিক স্যানিটারি ওয়্যার এন্ড ফিটিংসের ব্যবসা করতেন তিনি। তাঁর সফর সঙ্গী আশা জৈন তাঁরই বন্ধুর মেয়ে। তাঁর অবস্থাও আশঙ্কাজনক।
দেখুন ভিডিও-
[ডাইনি অপবাদে মারধর দুই বৃদ্ধাকে, গুরুতর অবস্থায় চিকিৎসাধীন হাসপাতালে]
এই ঘটনায় স্বতঃপ্রণোদিত মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। গাড়িটিকেও উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আপাতত স্বাভাবিক যান চলাচল। স্থানীয়দের দাবি, এই প্রথম নয় প্রায় প্রতি রবিবারই এই এলাকায় অত্যন্ত দ্রুতগতিতে অঘোষিত কার রেসিংয়ে মাতে কয়েকটি বিদেশি গাড়ি। প্রায় নিয়মিত রবিবার সকালবেলা ৩-৪ টি গাড়ি প্রায় দেড়শো কিলোমিটার বেগে এই এলাকা দিয়ে যায় বলেও দাবি স্থানীয়দের। তাদের অধিকাংশই কলকাতার বাসিন্দা। এর আগেও ডোমজুড় এলাকায় একই রকমভাবে দুর্ঘটনার শিকার হয়েছিলেন এক ব্যবসায়ী। তা সত্ত্বেও, সচেতনতার বালাই নেই প্রশাসনের। হাইওয়েগুলিতে পর্যাপ্ত ট্রাফিক পুলিশের নজরদারি নেই বলেও অভিযোগ স্থানীয়দের। শুধু এই এলাকা নয়, দুর্গাপুর এক্সপ্রেসওয়েতেও একইরকম অঘোষিত কার রেসারদের রমরমা দেখা যায়। তা সত্ত্বেও কার্যত ভ্রুক্ষেপ নেই প্রশাসনের।