স্টাফ রিপোর্টার, নয়াদিল্লি: জাপানে ট্রেন যদি কয়েক সেকেন্ডও দেরিতে চলে, তাহলেও যাত্রীদের কাছে ক্ষমা চান চালক। কিন্তু, লোকাল তো বটেই, এদেশে দূরপাল্লা ট্রেনও দেরিতে চলাই যেন নিয়ম হয়ে গিয়েছে। ফলে যাত্রীদের যেমন হয়রান হতে হয়, তেমনি বিপুল আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ে রেলও। শেষপর্যন্ত সময়ে ট্রেন চালানো সুনিশ্চিত করতে কঠোর সিদ্ধান্ত নিল রেলমন্ত্রক। স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, এবার থেকে ট্রেন যদি ঘণ্টা, মিনিট, এমনকী কয়েক সেকেন্ডও দেরিতে চলে, তাহলে রেলকর্তাদের পদোন্নতি আটকে যাবে। ‘লাইনে কাজ চলছে’-এহেন অজুহাত দিয়েও আর লাভ হবে না। ‘প্রোমোশন অর্ডার’-এ পড়বে লালকালির ঢেরা। তাই প্রতিটি আঞ্চলিক বিভাগের কর্তাদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছে রেল। নয়া এই নির্দেশ ৩০ জুন থেকে কার্যকর হবে। অতএব হাতে আর একমাসও সময় নেই।
[নরেন্দ্র মোদিকে খুনের হুমকি হাফিজ সইদের, বিরোধীদের সঙ্গে তুলনা বিজেপির]
কিন্তু, ট্রেনে লেটের সমস্যা তো আজকের নয়। এর প্রতিবাদে যাত্রী বিক্ষোভ তো কম হয়নি। তাহলে হঠাৎ এই বোধদয়ের কারণটা কী? মে মাসে প্রগতি বৈঠকে ট্রেনের সময়ানুবর্তিতা খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রশ্নের মুখে পড়েছিলেন রেলমন্ত্রী পীষূষ গোয়েল। এরপরই নড়েচ়ড়ে বসে রেলমন্ত্রক। ট্রেনে লেটের পরিসংখ্যান দেখে চোখে কপালে ওঠে রেলকর্তাদের। দেখা যায়, ২০১৭-১৮ অর্থবর্ষে দেশে ৩০ শতাংশ ট্রেনই নির্ধারিত সময়ের তুলনায় অনেকটাই দেরিতে চলেছে। আর ট্রেন লেটের প্রতিযোগিতায় শীর্ষে উত্তর রেল বা নদার্ন রেলওয়ে। এই ডিভিশনেই ট্রেন দেরিতে চলায় সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে যাত্রীরা। তথ্য বলছে, চলতি বছরের ২৯ মে পর্যন্ত উত্তর রেলের ৪৯.৫৯ শতাংশ ট্রেন দেরিতে চলেছে। দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে যথাক্রমে উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেল ও পূর্ব রেল।
[খুদে পড়ুয়াদের হোমওয়ার্কে ‘না’, শীঘ্রই বিল আনার ভাবনা কেন্দ্রের]
গত সপ্তাহে রেলের এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে আঞ্চলিক ম্যানেজারদের সতর্ক করে দেন রেলমন্ত্রী পীষূষ গোয়েল। জানা গিয়েছে, বৈঠকে উত্তর রেলের কর্তাদের রীতিমতো তিরস্কার করেন রেলমন্ত্রী। তাঁর স্পষ্ট বার্তা, ৩০ জুনের মধ্যে সামগ্রিকভাবে পরিষেবার উন্নতি না হয়, সময়মতো ট্রেন না চলে, তাহলে রেলকর্তাদের পদোন্নতি আটকে দেওয়া হবে। ট্রেন চলাচলে দেরি বহর যত বাড়বে, ততই কমবে রেলকর্তাদের পদোন্নতির সম্ভাবনা। চলবে কড়া নজরদারি। লাইনে কাজ চলার মতো ছেঁদো অজুহাত দিয়েও পার পারবেন না রেলকর্তারা।
[সদ্যোজাতকে গির্জার দরজায় ফেলে গেলেন মা-বাবা, ধরা পড়ল সিসিটিভিতে]