সুকুমার সরকার, ঢাকা: বাংলাদেশে ফের খুন এক মুক্তমনা। সোমবার সন্ধায় গুলি করে হত্যা করা হয় বিশাখা প্রকাশনীর মালিক লেখক শাহজাহান বাচ্চুকে। রাজধানী ঢাকা থেকে ৪০ কিলোমিটার দূর কাকালদি গ্রামে এই ঘটনাটি ঘটে।
[রোহিঙ্গাদের ফেরাতে সময় লাগবে, বাংলাদেশের উদ্বেগ বাড়িয়ে জানাল মায়ানমার]
বাংলাদেশে মুক্তমনা লেখক হিসেবে পরিচিত ৫৫ বছরের শাহজাহান বাচ্চু। মুন্সিগঞ্জ জেলা কমিউনিস্ট পার্টির প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক ছিলেন তিনি। পুলিশ সূত্রে খবর, কাকালদি মোড়ে বাচ্চুর উপর হামলা চালায় মোটরসাইকেলে আসা চার দুষ্কৃতী। ওই সময় তিনি একটি দোকানে বসেছিলেন। সেখানেই পরপর গুলি চালানো হয় তাঁর উপর। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় ওই মুক্তমনার। সোমবার রাতেই ফেসবুকে একটি পোস্ট করে বাবার হত্যার খবর জানান দুর্বা জাহান। একটি অপরিচিত নম্বর থেকে ফোন করে তাঁকে বাচ্চুর হত্যার সংবাদ দেওয়া হয়। এক প্রত্যক্ষদর্শীর জানান, বাচ্চুর মৃত্যু নিশ্চিত করতে একাধিকবার গুলি চালানো হয় তাঁর উপর। তারপরই বাইকে করে পালায় হামলাকারীরা।
বাংলাদেশ জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতির প্রাক্তন সভাপতি মাজহারুল ইসলাম জানান, বাংলাবাজারের প্রকাশনা সংস্থা বিশাখা প্রকাশনী নিয়মিতভাবে কবিতার বই বের করে। প্রকাশনীটি নির্মলেন্দু গুণ, মহাদেব সাহার মতো প্রখ্যাত কবিদের কাব্যগ্রন্থ বের করেছে। প্রকাশক হিসেবে সজ্জন ছিলেন বাচ্চু। বাংলাদেশে ধর্মীয় উন্মাদনার জেরে প্রাণ দিতে হয়েছে একাধিক মুক্তমনা ব্লগারকে। যদিও বাচ্চুর হত্যার কারণ জানা যায়নি, তবে এর নেপথ্যে মৌলবাদীদের হাত রয়েছে বলেই সন্দেহ করা হচ্ছে। এখনও পর্যন্ত এই হত্যার দায় স্বীকার করেনি কোনও উগ্রপন্থী সংগঠন।
উল্লেখ্য, প্রায় তিন বছর আগে জাগৃতি প্রকাশনীর মালিক ফয়সল আরেফিন দীপনকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। ২০১৫ সালের ৩১ অক্টোবর শাহবাগে আজিজ সুপার মার্কেটে নিজের অফিসে খুন হন দীপন। তিনিই মুক্তমনা লেখক অভিজিৎ রায়ের বই প্রকাশ করেছিলেন। ওই বছরেরই ফেব্রুয়ারিতে উগ্রপন্থীরা অভিজিৎকে কুপিয়ে হত্যা করে। অভিজিতের পর ব্লগার নীলাদ্রি নিলয়, অনন্ত বিজয় দাস ও অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ওয়াশিকুর বাবুকে একই কায়দায় কুপিয়ে হত্যা করে জঙ্গিরা। হামলার নেপথ্যে আনসার বাংলা জঙ্গি সংগঠনের হাত রয়েছে।
[গান্ধীহত্যায় দায়ী আরএসএস, মন্তব্যের জেরে রাহুলকে আদালতে হাজিরার নির্দেশ]