সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: রাশিয়া বিশ্বকাপে হামলা চালানোর হুমকি আগেই দিয়ে রেখেছে আইসিস। তাছাড়া রাশিয়াকে নিজেদের শ্রেণিশত্রু হিসেবে গণ্য করে জঙ্গি সংগঠনটি তাই বিশ্বকাপকে টার্গেট করা হতে পারে এমন আশঙ্কা করছেন অনেকেই। তাই নিরাপত্তায় কোনও খামতি রাখতে চাইছেন না আমেরিকা।
[আজ রাশিয়ায় শুরু মহারণ, উদ্বোধনে চাঁদের হাট]
আজ লুঝনিকি স্টেডিয়ামে তারকাখচিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠান যখন শুরু হবে তখন গোটা মস্কো শহরের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবেন ৩০ হাজার সশস্ত্র পুলিশবাহিনী। গোটা শহরের বিভিন্ন প্রান্তে প্রায় ১২০০টি সিসিটিভি ক্যামেরা লাগানো হয়েছে। ৭০০টি ড্রোন প্রস্তুত রাখা হয়েছে। প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে বায়ুসেনা আধিকারিকদের। মস্কোর অদূরেই বেশ কয়েকটি ফাইটার জেটও সাজিয়ে রেখেছে রাশিয়ার বায়ুসেনা। আকাশপথে চালানো হচ্ছে বাড়তি নজরদারি যাতে কোনওভাবেই হামলা চালাতে না পারে কোনও জঙ্গি সংগঠন। স্থলসেনাকেও প্রস্তুত রাখা হচ্ছে যে কোনও পরিস্থিতির মোকাবিলার জন্য। যে কোনও নাশকতামূলক হামলার জবাব দেওয়ার জন্য মক ড্রিলও করানো হয়েছে।
[নস্ট্যালজিক ভান পার্সি, বিশ্বকাপে না খেলার ব্যথা ভুলতে পারছে না ইটালি-নেদারল্যান্ড]
নিরাপত্তার পাশাপাশি স্টেডিয়ামে খেলা চলাকালীন যাতে কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয় সেদিকেও নজর রাখা হচ্ছে। গত ইউরো কাপ চলাকালীন রাশিয়া সমর্থকদের সঙ্গে ঝামেলায় জড়িয়ে পড়েছিলেন ইংল্যান্ড সমর্থকদের একাংশ। রীতিমতো রক্তারক্তি কাণ্ডে ঘটিয়ে ফেলেছিলেন ফুটবল প্রেমীরা। সেই পরিস্থিতি এড়াতে এবার প্রায় ১০ হাজার সমর্থককে রাশিয়া যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়নি। স্টেডিয়ামের নিরাপত্তা বজায় রাখতে সমর্থকদের জন্য ফ্যান-আইডি বাধ্যতামূলক করা হয়েছিল আগেই। এবার স্টেডিয়ামে ফেস-রেকগনিশন ক্যামেরাও লাগানো হয়েছে। অর্থাৎ কোনও ফুটবল সমর্থক যদি কোনওরকম গোলযোগ করার চেষ্টা করেন তাহলে ফেস রেকগিনিশন ক্যামেরা মুহূর্তের মধ্যে তাঁকে শনাক্ত করে ফেলতে পারবে। কোনও ফুটবল সমর্থক যাতে মদ্যপ অবস্থায় গোলযোগ বাধাতে না পারেন সেদিকেও নজর রাখা হচ্ছে। যে শহরগুলিতে ম্যাচ আয়োজন করা হচ্ছে সেগুলিতে ম্যাচের আগে ও পরে সমস্তরকম অ্যালকোহল বিক্রিতে কড়া নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।