সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: রাশিয়া বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচে নামার আগেই বিতর্কে ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো। কর ফাঁকি মামলায় স্প্যানিশ আদালত দোষী সাব্যস্ত করল ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোকে। শাস্তিস্বরূপ দুবছরের কারাদণ্ডের নির্দেশ আদালতের। তবে সেই দেশের আই অনুযায়ী, দুবছরের কারাদণ্ড হলে জেলে যেতে হয় না। এক্ষেত্রে তাঁকেও যেতে হচ্ছে না। জানা গিয়েছে, ফের শিরোনামে তাঁর কর ফাঁকি বিতর্ক। এবার সেই বিতর্কে নয়া টুইস্ট। স্প্যানিশ মিডিয়ার দাবি অনুযায়ী, স্পেনের কর সংস্থার সঙ্গে নাকি রফাসূত্রে পৌঁছেছেন সিআর সেভেন। বহু বিতর্কিত কর ফাঁকি মামলায় জেলযাত্রা এড়াতে সমঝোতায় এসেছেন পর্তুগিজ তারকা। জানা গিয়েছে, ১৮.৮ মিলিয়ন পাউন্ড জরিমানা দিতে রাজি হয়েছেন তিনি। শাস্তি হিসাবে দুবছর হাজতবাস হলেও স্পেনের আইন অনুযায়ী, জেলে তাঁকে থাকতে হবে না। কারণ দুবছরের হাজতবাস হলে সেটা ‘সাসপেন্ডেড সেনটেন্স’ হয়। মানে জেলে থাকতে হয় না। স্পেন ম্যাচের আগে এই খবর প্রকাশ হতেই রাশিয়া জুড়ে সুপারস্টারকে নিয়ে জল্পনা। তবে রোনাল্ডো শিবিরের মতে, কিছুটা হলেও স্বস্তি পেয়েছেন রিয়াল তারকা।
[আজ বিশ্বকাপে ব়্যামোস বনাম রোনাল্ডো, টানটান ম্যাচ দেখার আশায় ফুটবলপ্রেমীরা]
রোনাল্ডোর বিরুদ্ধে ২০১১ সাল থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত ১৪.৭ মিলিয়ন ইউরো (ভারতীয় মুদ্রায় ১১১ কোটি) কর ফাঁকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। বলা হয়েছিল, নিজের ছবির স্বত্ব বিক্রি করে যে টাকা আয় করেছিলেন রোনাল্ডো, সেখান থেকেই কর ফাঁকি দিয়েছেন তিনি। আর জেনে বুঝেই এই কাজ করার অভিযোগ উঠেছিল সিআর সেভেনের বিরুদ্ধে। তবে আদালত কক্ষে নিজের বিরুদ্ধে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেন রোনাল্ডো। বলেন, ‘আমি সবসময় নিজে থেকেই আয়কর জমা দিয়ে থাকি। কারণ আমি মনে করি, প্রত্যেক ব্যক্তিরই ঠিক সময়ে এবং ঠিক পরিমাণে আয়কর জমা দেওয়া উচিত। আমাকে যাঁরা চেনে তাঁরা জানে, আমি সবসময় এই সমস্ত অশান্তি থেকে দূরে থাকতে চাই। এজন্য অ্যাডভাইসরদেরও সবকিছু সময়মতো করে রাখার কথা বলি।’
[সালাহ বিহীন মিশরের বিরুদ্ধে কষ্টার্জিত জয় উরুগুয়ের]
আদালতে রোনাল্ডোর বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে তিনি নাকি নিজের ‘ইমেজ রাইটস’ থেকে প্রাপ্য আয়ের লুকানোর জন্য ২০১০ সালে একটি সংস্থা শুরু করেছিলেন। এবং সেটা তিনি ইচ্ছাকৃতভাবেই করেছিলেন। কিন্তু সিআর সেভেন তখন দাবি করেন, ‘ওই সংস্থাটি ২০০৪ সালে তৈরি হয়েছিল। আর তখন তিনি স্পেনে খেলার কথাই ভাবেননি।’ তবে রোনাল্ডো জানিয়েছিলেন, অকারণে কর ফাঁকি মামলায় তাঁকে চাপে ফেলার চেষ্টা চলছে। তাই আগামিদিনে এই প্রসঙ্গে তিনি আর মুখ খুলবেন না। আর তাই আদালত থেকে বেরিয়েও বাইরে অপেক্ষমান সংবাদমাধ্যমকে একটি কথাও বলেননি। যদিও পরে তাঁর তরফ থেকে একটি বিবৃতি প্রকাশ করা হয়েছিল। এর আগেও তাঁর বিরুদ্ধে কর ফাঁকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। কিন্তু তখনও পর্তুগিজ মহাতারকার বিরুদ্ধে কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এমনকী পর্তুগিজ রেডিও চ্যানেলকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘আমি এমন একজন যে কিছু লুকিয়ে রাখে না। তাই আমার কোনও ভয় নেই।’ কিন্তু শেষমেশ জরিমানা দিয়ে সমঝোতায় আসার খবরে এটা স্পষ্ট যে, তিনি কর ফাঁকি দিয়েছিলেন এবং সেটা মেনেও নিলেন।