স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: প্রকৃতির আজব উলটপুরাণ! তাপের নিরিখে ঘোর গ্রীষ্মকে হার মানাল বর্ষা। মাঝ জুনে কলকাতার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি ছুঁইছুঁই। যা কি না এপ্রিল বা মে মাসেও হয়নি। আগামী দু’দিনের মধ্যে নিষ্কৃতির যে কোনও আশা নেই, আবহাওয়া দপ্তর তাও জানিয়ে রেখেছে। বলেছে, আগামী ৪৮ ঘণ্টায় তাপপ্রবাহ পরিস্থিতির মুখে পড়তে হতে পারে।
বাস্তবিকই সব হিসাব গুলিয়ে যাচ্ছে। ক্যালেন্ডার বলছে, আজ আষাঢ়স্য প্রথমদিবস। আলিপুরও বলছে, দক্ষিণবঙ্গে ঢুকে পড়েছে মৌসুমি বায়ু। মানে, বর্ষা ঢুকে পড়েছে। তিন দিন আগেই প্রবল বর্ষণে ভেসেছে মহানগর কলকাতা-সহ বিভিন্ন অঞ্চল। কিন্তু তারপর থেকেই বর্ষার যেন কোমরভাঙা দশা। বৃষ্টির তো নামগন্ধ নেই, উলটে তেতে পুড়ে নাজেহাল তামাম দক্ষিণবঙ্গ।
[ প্রস্তুতি সম্পন্ন, খাদ্যরসিকদের স্বস্তি দিয়ে শুরু ইলিশ অভিযান ]
হ্যাঁ। তেতেপুড়ে। বর্ষার মরশুমে বৃষ্টির বিরতিকালে যেমনটা হয়ে থাকে, সেরকম গুমোট গরমে ঘেমেনেয়ে নয়। এই বর্ষায় যেন ফিরে এসেছে মাঝ বৈশাখের প্রখর গ্রীষ্ম। তপ্ত বাতাস চোখমুখে জ্বালা ধরাচ্ছে। যেন লু বইছে। শুক্রবার আলিপুরে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে ৪০ ডিগ্রির সেলসিয়াস। এ বছরে পারদ উত্থানের ক্ষেত্রে যা কি না কার্যত রেকর্ড। বৃষ্টি তো দূর অস্ত, আগামী ৪৮ ঘণ্টায় কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গে তাপপ্রবাহের পরিস্থিতি তৈরি হবে বলে জানিয়েছে আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর। এদিন আপেক্ষিক আর্দ্রতা ছিল ৪৯ শতাংশ। যে কারণে প্যাচপেচে ঘামের হাত থেকে রেহাই মিললেও শুকনো গরমের দাপট মালুম হয়েছে দিনভর। আলিপুর আবহাওয়া দপ্তরের অধিকর্তা গণেশকুমার দাস এদিন জানিয়েছেন, শুষ্ক ও তপ্ত পশ্চিমি বাতাসের বাড়বাড়ন্তের সুবাদেই এহেন তাপপ্রবাহ পরিস্থিতি।
[ খারাপ ফলের জন্য ঠাঁই মিলল না স্কুলে, আত্মঘাতী পড়ুয়া ]
আলিপুরের পূর্বাভাস, আজ, শনিবার ও কাল রবিবারও তা বহাল থাকার প্রভূত সম্ভাবনা। আগামী ৪৮ ঘণ্টা কলকাতার তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রির আশপাশে ঘোরাফেরা করবে। দক্ষিণবঙ্গের অন্যান্য অংশে, বিশেষত পশ্চিমের রাঢ়বঙ্গে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রিও ছাপিয়ে যেতে পারে। বৃষ্টির আশা তেমন নেই। উলটে গরম বাড়বে। নাজেহাল হতে হবে শহর থেকে জেলাবাসীকে। আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, রাজ্যে বর্ষা ঢুকলেও তা খুব দুর্বল প্রকৃতির। গতি শ্লথ। যে কারণেই বৃষ্টির দেখা নেই। উলটে চড়চড়িয়ে বাড়ছে তাপমাত্রা। শুক্রবার হাওয়া অফিস জানিয়েছে, ছিটেফোঁটা বৃষ্টি হয়েছে মাত্র। ফলত শনি ও রবিবার রাজ্যবাসীর দুর্ভোগ আরও বাড়ছে।