সুকুমার সরকার, ঢাকা: শাসক-বিরোধী তরজায় সরগরম বাংলাদেশের রাজনীতি। বিএনপি ও আওয়ামি লিগের মধ্যে আসন্ন সাধারণ নির্বাচনে জনমত দখলের লড়াই তুঙ্গে। অভিযোগ পালটা অভিযোগে মেতেছেন দুই শিবিরের নেতারাই। এমনই পরিস্থিতিতে পারদ চড়িয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন আওয়ামি নেতা ও বিদেশমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম। তাঁর দাবি, বাংলাদেশের নাগরিকই নন বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার পুত্র তারেক। তাঁর মন্তব্য ইতিমধ্যে উসকে দিয়েছে জোর বিতর্ক।
[যে কোনও মুহূর্তে পক্ষাঘাত হতে পারে খালেদার, চক্রান্তের ইঙ্গিত বিএনপি’র]
রবিবার, জাতীয় সংসদে বাজেট অধিবেশন চলাকালীন এই মন্তব্য করেন বিদেশমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম। তিনি বলেন, “তারেক জিয়া একটি ব্রিটিশ ব্যবসায়ীক সংস্থার ডিরেক্টর। বহু আগেই বাংলাদেশের পাসপোর্ট ও নাগরিকত্ব বর্জন করেছেন তারেক।” আলম এদিন আরও দাবি করেন, একটি ব্রিটিশ কোম্পানির ডিরেক্টর হিসেবে তার নাম উল্লেখ রয়েছে, সেখানে ব্রিটিশ নাগরিক বলে উল্লেখ করা হয়েছে তাঁকে। উইকিলিকস-সহ একাধিক সংস্থার রিপোর্টেও এর জোরাল প্রমাণ রয়েছে। উল্লেখ্য, এমন অভিযোগ আগেও করেছেন আলম। তাঁর বিরুদ্ধে মানহানির মামলাও দায়ের করেছে বিএনপি। এখনও চলছে সেই মামলা।
এদিকে আলমের অভিযোগে এখনও পর্যন্ত কোনও প্রতিক্রিয়া আসেনি বিএনপি শিবির থেকে। চলতি বছরের শেষের দিকে বাংলাদেশে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। বিশ্লেষকদের মতে, তারেককে দেশের বাইরে রাখতে পারলে লাভ হবে শাসক দলের। এমনিতে দুর্নীতি মামলায় কারাগারে রয়েছেন বেগম জিয়া। তৃণমূলস্তরে পরিকাঠামো প্রায় ভেঙে পড়ার শামিল। শক্ত হাতে দলের রাশ ধরার মতো নেতৃত্বের অভাব রয়েছে। সব মিলিয়ে বিরোধী দলের পরিস্থিতি খুব একটা ভাল নয়। এবার তারেকের নাগরিকত্ব প্রশ্নের মুখে পড়লে নির্বাচনে তাঁর ভূমিকা ঘিরে সংশয় দেখা দেবে।
[কোণঠাসা খালেদা জিয়া, ফের নামঞ্জুর জামিনের আবেদন]