পলাশ পাত্র, তেহট্ট: সালিশি, থানা-পুলিশ কিছুতেই কিছু হল না! পারিবারিক সম্পত্তি-সংক্রান্ত গন্ডগোলের জেরে পঁচাত্তর বছরের বিধবা মাকে খুন করল ছেলে। আগে থেকেই মাকে খেতে না দেওয়া, মারধর করার মতো গুরুতর অভিযোগ ছিল ‘গুণধর’ ছেলের বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত ছেলে নীলকমল রায় নদিয়ার নাকাশিপাড়া থানার গলাইদড়ি পূর্ব খিদিরপুরের বাসিন্দা। মায়ের মৃত্যুর পর ধুলোয় লুটোপুটি খেয়ে কান্নাকাটির নাটক করলেও শেষরক্ষা হয়নি নীলকমলের। নির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
[পুরুলিয়ায় দাঁড়িয়ে বাংলায় পরিবর্তনের ডাক অমিতের]
মঙ্গলবার থেকে নিখোঁজ ছিলেন যমুনা রায় নামে বছর পঁচাত্তরের ওই বৃদ্ধা। বৃহস্পতিবার বাড়িরই এক দমবন্ধ হওয়া ঘর থেকে বৃদ্ধার পচা দুর্গন্ধযুক্ত দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তার দেহে বিভিন্ন জায়গায় অপটু হাতে কোপানোর চিহ্ন ও মুখে কালো ছাপ দেখা গিয়েছে। ঘটনার খবর প্রকাশ্যে আসতেই এলাকার প্রচুর মানুষ উত্তেজিত হয়ে রায়-বাড়ির সামনে জড়ো হন। তারা অভিযুক্ত ছেলের কঠোর শাস্তি দাবি করেন। রীতিমতো রণক্ষেত্রে পরিণত হয়ে যায় এলাকা। ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশের একটি দল পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। একইসঙ্গে মৃতার পাঁচ ছেলেকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ।
[আগে দিল্লি সামলান, বিজেপি সভাপতিকে পালটা পার্থর]
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার থেকে নিখোঁজ থাকা যমুনা রায় দীর্ঘদিন আগেই স্বামীকে হারিয়েছেন। তার পাঁচ ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে থাকতেন। প্রায় দশ কাঠা জমির ওপর তৈরি যমুনা দেবীর বাড়ি। বাড়িতে এক সময় সব দাদা-ভাইরা থাকলেও বর্তমানে তা নীলকমলের দখলে। নীলকমলের ঘরের পাশে একাই একটি ঘরে থাকতেন যমুনা রায়। রায়বাড়ির সম্পত্তি নিয়ে গয়না ব্যবসায়ী নীলকমলের সঙ্গে সব দাদা-ভাইদের দীর্ঘদিনের ঝামেলা। তাঁর বিরুদ্ধে মা’কে মারধর, খেতে না দেওয়ার দীর্ঘদিনের অভিযোগ রয়েছে। এ নিয়ে এলাকায় সালিশি সভাও হয়।
[ভূত তাড়ানোর নামে বেধড়ক মার গুনিনের, বেঘোরে মৃত্যু পক্ষাঘাতে আক্রান্ত যুবকের]
বাড়ির একপাশে কোনওরকমে ঘর করে থাকে পেশায় কাঠমিস্ত্রি সেজ ছেলে অজিত রায়। অজিত এর আগে ভাই নীলকমলের নামে তাঁর ঘরে ঢুকে ভাঙচুর চালানোর অভিযোগ করে থানায়। অজিত রায় বলেন, মায়ের বাড়ির সম্পূর্ণটাই ও দখল করতে চাইতো। তাই অন্য দাদাদের বাড়ির জমির অংশ কিনে নিয়েছে। ওর অবস্থা ভাল হলেও মাকে দেখত না। অজিত আরও বলেন, ‘মঙ্গলবার সকালে প্রতিদিনের মতো মায়ের সঙ্গে দেখা হয়েছিল। বিকেল থেকে আর দেখতে পাইনি। দাদাদের বাড়ি, মামার বাড়ি-সহ আত্মীয়দের বাড়ি যায়। কোথাও পাইনি মাকে। কাকিমার বাড়িতে না পেয়ে সব বলি আত্মীয়দের। ওঁরা এসে ঘরের জানলা ঠেলা মারতেই পচা গন্ধ আসে। এরপর পুলিশ এসে বাইরে থেকে তালা ভেঙ্গে ঘর থেকে মাকে উদ্ধার করে।’ এদিন মৃতার বড় ছেলে রমেশ ভাই নীলকমলের নামে খুনের অভিযোগ করে। পুলিশ এরপরই তাকে গ্রেপ্তার করে। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান সম্পত্তির কারণেই বৃদ্ধা মাকে প্রথমে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপায়।