সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: ছেলেধরা সন্দেহে গণপিটুনি ও মৃত্যু। গত কয়েকদিনে এ ধরনের একের পর এক ঘটনা শিরোনামে উঠে এসেছে। প্রতি ক্ষেত্রেই দায়ী গুজব। হোয়্যাটসঅ্যাপে গুজব ছড়ানোর কারণেই গিয়েছে একের পর এক প্রাণ। তথ্য বলছে গত চার মাসে মোট ২৯ জনের জীবন কেড়েছে গুজব। আর তারপরই নড়েচড়ে বসল কেন্দ্র। এ ব্যাপারে রিপোর্ট তলব করা হয়েছে রাজ্যগুলির কাছে।
[ ফের মানবিকতার নজির, ১৬০ পাকিস্তানি তীর্থযাত্রীকে ভিসা দিল ভারত ]
হোয়্যাটসঅ্যাপে ছড়িয়েছিল গুজব। ছেলেধরা ঘোরাঘুরি করছে এলাকায়। বহিরাগত দেখলেই যেন নজরে রাখা হয়। এহেন মেসেজই আগুনে ঘি ঢেলেছিল। তার জেরে অন্তত পাঁচ জনের প্রাণ গিয়েছে মহারাষ্ট্রের ধুলে জেলায়। এ অবশ্য নতুন নয়। একইভাবে অসমেও গণপ্রহারে প্রাণ গিয়েছিল দুজনের। মহারাষ্ট্র বা মুম্বই কোনও বিচ্ছিন্ন উদাহরণ নয়। এই ছেলেধরা গুজবের জেরে অন্তত ১০টি রাজ্যে প্রাণ গিয়েছে সাধারণ মানুষের। প্রতি ক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে, সন্দেহের বশেই পিটিয়ে মারা হচ্ছে নিরাপরাধ মানুষকে। পুলিশ যতক্ষণে গিয়ে পৌঁছাচ্ছে ততক্ষণে পরিস্থিত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। উত্তেজিত জনতার হাত থেকে রেহাই পাচ্ছে না আক্রান্তরা। জীবনের বিনিময়েই গুজবের মূল্য চোকাতে হচ্ছে। কারণ কোনও ক্ষেত্রেই সঠিক কোনও তথ্য নেই। ফলে পুলিশি নজরের বাইরেই ঘটে যাচ্ছে ঘটনা। এক্ষেত্রে ভিলেন কিছু হোয়্যাটসঅ্যাপ মেসেজ। নাম-দাম পালটে সেগুলিই ঘুরছে বিভিন্ন রাজ্যে। তার জেরেই এই ঘটনা। চার মাসে প্রায় ২৯ জনের প্রায় গিয়েছে একইভাবে। এ ব্যাপারে রাজ্যের ডিজিপি-দের কাছে রিপোর্ট তলব করল কেন্দ্র। এবং এই ধরনের ফেক নিউজের দিকে নজর রাখারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যাঁরা ফেক নিউজ ছড়াচ্ছেন তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ারও নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে।
[ দীর্ঘদিনের যৌন সম্পর্ক কি বিয়ের সমতুল্য? প্রশ্ন সুপ্রিম কোর্টের ]
দেশে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তার যেমন ভাল দিক আছে, তেমন অভিশাপও কম নয়। ক্রমাগত বাড়তে থাকা গণপিটুনির ঘটনা সেই ইঙ্গিতই দিচ্ছে।