সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: জাকির নায়েককে দেশের ফেরানোর প্রক্রিয়ায় বড়সড় ধাক্কা খেল কেন্দ্র। আপাতত বিতর্কিত এই ইসলামিক ধর্মপ্রচারককে ভারতের হাতে তুলে দেওয়ার কোনও প্রশ্নই ওঠে না সাফ জানিয়ে দিল মালয়েশিয়া সরকার। সেদেশের প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মহম্মদ বলেন, “ যতদিন পর্যন্ত জাকির নায়েক মালয়েশিয়ায় সমস্যা সৃষ্টি না করছেন ততদিন তাঁকে ভারতে ফেরানোর কথা ভাবছে না মালয়েশিয়া সরকার। কারণ নায়েককে ইতিমধ্যেই স্থায়ী নাগরিকত্ব দিয়েছে মালয়েশিয়া সরকার।” মালয়েশিয়া সরকারের এই বিবৃতির পর বিতর্কিত এই ধর্মপ্রচারককে দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া আপাতত স্থগিত হয়ে গেল বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞরা।
[দেশবিরোধী স্লোগান! কানহাইয়া-উমর খালিদদের শাস্তি বহাল রাখল জেএনইউ]
শুক্রবার, কয়েকটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম দাবি করেছিল, নায়েককে দেশে ফেরানোর ব্যপারে অনেকটা এগিয়ে গিয়েছে বিদেশমন্ত্রক। এমনকি, মালয়েশিয়া সরকার তাঁকে ফিরিয়ে দিতে রাজি হয়েছে বলেও দাবি করেছিল কয়েকটি সংবাদমাধ্যম। পরে অবশ্য সেসব জল্পনায় জল ঢেলে দেন খোদ বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রবীশ কুমার। তিনি জানান, নায়েককে দেশে ফেরানোর জন্য সবে কথাবার্তা শুরু করেছে বিদেশমন্ত্রক। মালয়েশিয়া সরকারও ভারতের সঙ্গে আলোচনায় সম্মতি দিয়েছে। কিন্তু বিদেশমন্ত্রকের এই বিবৃতি দেওয়ার দিন চারেকের মধ্যেই পালটা বিবৃতি দিল মালয়েশিয়া।
[দেশবিরোধী স্লোগান! কানহাইয়া-উমর খালিদদের শাস্তি বহাল রাখল জেএনইউ]
নায়েকের বিরুদ্ধে জঙ্গি কার্যকলাপে ইন্ধন জোগানো এবং টেলিভিশন চ্যানেলে বিচ্ছিন্নতাবাদী ভাষণের মাধ্যমে সাম্প্রদায়িক হিংসা ছড়ানোর একাধিক অভিযোগ রয়েছে। গত অক্টোবরেই তাঁর বিরুদ্ধে মুম্বইয়ের একটি আদালতে চার্জশিট দাখিল করে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ)। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাটির দাবি, যুবকদের সন্ত্রাসবাদে প্ররোচিত করছে ওই বিতর্কিত ধর্মগুরু। শুধু তাই নয়, তার সংস্থা ‘ইসলামিক রিসার্চ ফাউন্ডেশন’-এর মাধ্যমে সাম্প্রদায়িক হিংসা ছড়ানোর কাজ করছে নায়েক। এসবের আগেই অবশ্য দেশ ছেড়েছিলেন নায়েক। আপাতত তিনি মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে রয়েছেন বলে খবর। প্রশ্ন হচ্ছে, মালয়েশিয়ার সঙ্গে ভারতের প্রত্যর্পণ চুক্তি থাকা সত্ত্বেও ওয়ান্টেড নায়েককে দেশে ফেরানো যাচ্ছে না কেন?