সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বদান্যতায় বড়সড় পদ পেলেন বহিষ্কৃত সিপিএম সাংসদ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্য আদিবাসী উন্নয়ন কমিটির শীর্ষপদে বসানো হল ঋতব্রতকে। আজ নবান্নে জঙ্গলমহল-সহ গোটা রাজ্যের আদিবাসী উন্নয়ন প্রসঙ্গে একটি জরুরি বৈঠক ডাকেন মুখ্যমন্ত্রী। বৈঠকে জঙ্গলমহলের জেলাগুলির পাশাপাশি গোটা রাজ্যের আদিবাসী উন্নয়ন বোর্ডগুলির প্রতিনিধিরাও হাজির ছিলেন।
[আমরণ অনশনের হুমকি যাদবপুরের পড়ুয়াদের, শিক্ষামন্ত্রীর দ্বারস্থ সুরঞ্জন]
বৈঠক শেষে একটি কমিটি তৈরির সিদ্ধান্ত নেন মমতা। প্রতিটি জেলা থেকে ২ জন করে প্রতিনিধি ওই কমিটিতে থাকছেন। কমিটির শীর্ষস্থানে বসলেন ঋতব্রত। আদিবাসীদের বিভিন্ন সমস্যা মুখ্যমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরবে এই কমিটি। সব জেলার প্রতিদিনিধিদের নিয়ে একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপও তৈরি করা হয়েছে। গ্রুপের মাধ্যমে সরাসরি অভিযোগ জানানো যাবে নবান্নে। জঙ্গলমহল থেকে শুরু করে গোটা রাজ্যে আদিবাসীদের মধ্যে বিজেপির জনপ্রিয়তা যেভাবে বাড়ছে, তাতে শাসকদল যে উদ্বিগ্ন তা বোঝা গিয়েছিল অমিত শাহ সভা করে যাওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তৃণমূল পালটা সভা করার পরই। এরই মধ্য আদিবাসী উন্নয়ন নিয়ে কোর কমিটি গঠনের এই সিদ্ধান্তকে যথেষ্ঠ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। তবে, তার থেকেও তাৎপর্যপূর্ণ দিক হল ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই কমিটির চেয়ারম্যান হওয়া। অনেকেই বলছেন, মমতার এই সিদ্ধান্তের পর কার্যত সরকারিভাবে সিপিএমের তকমা ঝেড়ে ফেলে তৃণমূল শিবিরে ঝুঁকে গেলেন রাজ্যসভার সাংসদ।
[ব্রাজিলেই মন বাঙালির, নেইমার-ট্যাটুতে মজেছেন তরুণ-তরুণীরা]
সিপিএম থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পর থেকেই ঝতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বারবার সংবাদ শিরোনামে এসেছে। প্রকাশ্যেই একাধিকবার তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশংসা শোনা গিয়েছে ঋতব্রতর গলায়। এমনকি বিজেপি বিরোধী লড়াইয়ের সর্বভারতীয় নেত্রী হিসেবে মমতাকে বেছে নিয়েছেন ঋতব্রত। এরাজ্যের তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে তো বটেই দিল্লিতে গিয়ে খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গেও দেখা করেছিলেন ঋতব্রত। তারপর থেকেই বহিষ্কৃত সিপিএম সাংসদের শাসকদলে যোগদান নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছিল। এবার সেই জল্পনায় কার্যত সরকারি সিল পড়ে গেল।