সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: ২১ জুলাইয়ের প্রস্তুতি পর্ব ক্ষতিয়ে দেখতে গিয়েই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে তীব্র কটাক্ষ করলেন তৃণমূল যুবরাজ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়৷ শনিবার মিলনমেলা প্রাঙ্গণে পৌঁছে মোদির রাজ্য সফরের বিরোধিতা করেন তিনি৷ লোকসভা নির্বাচনের আগে বিজেপি ‘কৃষক প্রেমে’র অভিনয় করে ভোটে জেতার চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ তোলেন যুব তৃণমূল সভাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়৷
শহিদ দিবসে দূরবর্তী জেলা থেকে আসা তৃণমূল কর্মীদের রাত্রিবাসের ব্যবস্থা খতিয়ে দেখতে এদিন মিলনমেলা প্রাঙ্গণে যান তিনি৷ কর্মীরা কোথায় থাকবেন, কোথায় খাবেন ও তাঁদের খাওয়া-দাওয়ার জন্য কী ব্যবস্থা রাখা হবে তা নিজে হাতে পর্যবেক্ষণ করেন৷ মিলনমেলা প্রাঙ্গণের প্রস্তুতি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়ার পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হন অভিষেক৷ কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন৷ বলেন, ‘‘কৃষকদের আয় দ্বিগুণ করানোর প্রলোভন দেখিয়ে কেন্দ্রের বিজেপির সরকার অভিনয় করছে৷ মানুষ জানে, তাঁদের পাশে কারা থাকেন৷ আর সেই কারণে তৃণমূলকে এই ধরনের অভিনয় করতে হয় না৷’’
[কিশোরকে মারধর ছেলের, পুলিশের কাছে ব্যবস্থা নেওয়ার আরজি কাউন্সিলরের]
এদিন প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কটাক্ষ করে অভিষেক বলেন, ‘‘বাংলায় এসে মোদি দেখে যান, তৃণমূলের শাসনে এরাজ্যে চাষিরা, সাধারণ মানুষ কেমন আছে!’’ লোকসভা নির্বাচনকে মাথায় রেখে শহিদ দিবসের মঞ্চ থেকে বিজেপি বিরোধী রণকৌশল ঠিক করবেন দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ আর সেই লক্ষ্যেই শহিদদের সম্মান জানিয়ে প্রথম থেকেই এবার সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড় তুলেছে তৃণমূল। মমতার নেতৃত্বে ১৯৯৩-এর ২১ জুলাই যে আন্দোলন হয়েছিল, তাকে প্রতিনিয়ত তুলে ধরা হচ্ছে। ২০১৯-এর লোকসভা নির্বাচনের প্রধান হাতিয়ার করা হয়েছে বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর লড়াইকে। কখনও মমতার সেই লড়াইয়ের ভিডিও, কখনও সেই আন্দোলনের সময়ে মমতার পোস্টার আঁকার ছবি ইতিমধ্যে ভাইরাল হয়ে গিয়েছে দলের ফেসবুক পেজে। তা নিয়ে ইভেন্টও তৈরি হয়েছে। সেই সূত্রেই প্রত্যেক শহিদের বাড়ি গিয়ে এই প্রথম তাঁদের পরিবারের মুখে তুলে আনা হচ্ছে সেদিনের স্মৃতিকথা। শহিদের পরিবারই বলে দিচ্ছে সেদিনের দুর্বিষহ ঘটনার কথা। ছোট ছোট ‘স্টোরি’ আকারে সেইসব তুলে ধরছে তৃণমূলের মিডিয়া সেল। সেসবই অঙ্গীকার দিবসের মঞ্চে দেখানো হবে। সব লড়াইয়েরই একটা প্রস্তুতি থাকে। অস্ত্রে শান দেওয়া থাকে। দলের আরেক নেতা বলছেন, “গত একটা বছর ধরে সেইসব অস্ত্রে শান দেওয়ার কাজ চলেছে। পঞ্চায়েত নির্বাচন ছিল মূল লড়াইয়ের আগে ছোট একটা ছায়াযুদ্ধ। একুশের মঞ্চে মূল বার্তাটা দেবেন নেত্রী। মন্ত্রের মতো সেই বার্তা নিয়েই লড়াইয়ে নেমে পড়বেন তৃণমূলের সৈনিকরা।”
[প্রবেশিকা বিতর্কে এখনও উত্তাল যাদবপুর, দাবিপূরণ না হওয়ায় অনশন পড়ুয়াদের]
সেই প্রস্তুতি কেমন হয়েছে, তার গোটা দায়িত্ব যুবর সভাপতি ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর। ইতিমধ্যে দলের সেই কর্মসূচি নিয়ে উন্মাদনা শুরু হয়ে গিয়েছে। কর্মীরা বিভিন্ন জেলা থেকে আসতে শুরু করছেন। তাঁদের থাকার বন্দোবস্ত কেমন হয়েছে, তা খতিয়ে দেখতে আজ বেশ কিছু এলাকা ঘুরে দেখন অভিষেক৷ প্রথম দফায় মিলনমেলা প্রাঙ্গণে যান তিনি৷