রঞ্জন মহাপাত্র: সচরাচর দেখা মেলে না। শীতের মরশুমে একবার দু’বার দেখা গেলেও, বর্ষার সময় তো নৈব নৈব চ! তবে এই জুলাইয়ে যাঁরা দিঘা সফরে বেরিয়েছিলেন তাদের পোয়া বারো। কারণ দিঘার মোহানায় দেখা মিলল উড়ুক্কু মাছের। বিরলদর্শন মাছটিকে দেখতে ঢল নামল পর্যটকদের।
[ বায়ুসেনার ছাউনির কাছেই রহস্যজনকভাবে উদ্ধার ড্রোন, চাঞ্চল্য রাঙ্গাপানিতে ]
মাছটির ওজন প্রায় ১৬০ কেজি। ৮ ফুট দৈর্ঘ্যের এই উড়ুক্কু মাছকে অতিকায় বলা যায়। সাধারণত বঙ্গোপসাগর উপকূলে এই ধরনের মাছের দেখা মেলে না। গভীর সমুদ্রে তাদের আনাগোনা। সাধারণত জলস্তরের উপরে ৩০ সেকেন্ড পর্যন্ত ভেসে থাকতে পারে এই মাছ। তবে এদের কোনও ডানা থাকে না। বক্ষপাখনার বিশেষ গঠনের কারণেই এরা বাতাসে উড়ান দিতে পারে। বলা হয়, পাখিদের আগেও এই মাছ উড়তে পারত। এমনকী ডাইনোসরের আগেও অস্তিত্ব ছিল উড়ুক্কু মাছের। আত্মরক্ষার কারণেই জলের উপরে তাদের বিশেষ এই ওড়ার ক্ষমতা। তবে সে কারণে আবার কখনও সখনও গভীর সমুদ্রের জাহাজের উপরও চলে আসে। তবে যা হয় সবই মাঝ সমুদ্রে। কদাচিৎ উপকূলের কাছাকাছি চলে আসে এই ধরনের মাছ। মঙ্গলবার সকালে একেবারে দিঘার মোহানায় দেখা যায় মাছটিকে। ধরা পড়ে মৎস্যজীবীদের জালে। এর আগে শীতকালেই এই ধরনের মাছের দেখা মিলেছিল। বর্ষার মরসুমে উড়ুক্কু মাছের দেখা পাওয়ার কথাই নয়। অসময়ের এমন আকর্ষণে অবশ্য দেদার আমোদ পর্যটকদের। যাঁরা বেড়াতে গিয়েছেন তাঁরা তো বটেই, স্থানীয়রা ভিড় করে দেখতে এসেছেন।
[ জলের অভাবে বন্ধ মিড ডে মিল, স্কুলে দেখা নেই পড়ুয়াদের ]
তবে ঘটনায় চিন্তার ছায়া মৎস্যদপ্তরে। যে মাছের গভীর সমুদ্রে থাকার কথা, সে মাছ বর্ষার সময় উপকূলে কীভাবে মৎস্যজীবীদের জালে ধরা পড়ল তা নিয়ে চিন্তা বেড়েছে। এই ধরনের মাছ বিদেশি জাহাজের শিকার কি না, তা নিয়েও সংশয়ে দপ্তরের কর্তারা। বিদেশি ট্রলারে কোনওভাবে মাছটি হয়তো ধরা পড়েছিল। পরে সেটিকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে, তাই গভীর সমুদ্র থেকে উপকূলে চলে এসেছে, এমন সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না।