সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: সমকামিতা কি অপরাধ? নাকি অন্যান্য অনেক দেশের মতো ভারতও সমকামিতাকে সাধারণ একটি বিষয় হিসেবেই গণ্য করবে? এই প্রশ্নের উত্তর পেতেই আজ চোখ ছিল সুপ্রিম কোর্টের দিকে। শীর্ষ আদালতেরই পূর্ববর্তী রায় অনুযায়ী সমকামিতা এ দেশে অপরাধ হিসেবে পরিগণিত। তারই বিরুদ্ধে করা মামলার শুনানি ছিল মঙ্গলবার। আজ শীর্ষ আদালত জানাল, পুরনো রায় কতটা সঠিক, তা অবশ্যই খতিয়ে দেখা হবে। মমলার পরবর্তী শুনানি বুধবার।
[ হিন্দু দেব-দেবীর প্রতিকৃতি সম্বলিত মুদ্রা চালু করেছিল ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিও! ]
সমকামিতা আমাদের দেশে অপরাধ। ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৭৭ ধারা অনুযায়ী নিয়মবিরুদ্ধ (এগেনস্ট দ্য অর্ডার অফ নেচার) যৌনতা আইনত নিষিদ্ধ। এবং তার জন্য কারাদণ্ডের শাস্তি হতে পারে। এর আগে ২০০৯ সালে দিল্লি হাই কোর্ট জানিয়েছিল সমকামিতা কখনও অপরাধ হতে পারে না। সমকামিতাকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা অসাংবিধানিক। কিন্তু সুপ্রিম কোর্টেই ২০১৩ সালে দিল্লির আদালতের সেই মতবাদ খারিজ হয়ে যায় এবং সমকামিতা বা প্রান্তিক যৌনতাকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হবেই বলে জানানো হয়। কিন্তু সময় পালটায় গতবছর। সুপ্রিম কোর্টেই এক রায়ে জানায়, সমকামী বা রূপান্তকামীদের যৌনতা তাদের অধিকারের পর্যায়ে পড়ে। এবং তার সাংবিধানিক বৈধতাও থাকা উচিত। এই পর্যবেক্ষণের পরই ৩৭৭ ধারা অবলুপ্তির দাবি ওঠে। এই আইনের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তোলে সমকামী সম্প্রদায়। তার ভিত্তিতেই রায় পুনর্বিবেচনার জন্য মামলা দায়ের হয়। সেই মামলারই শুনানি ছিল আজ।
[ প্রণবের পর এবার আরএসএস-এর অনুষ্ঠানে অতিথি রতন টাটা ]
এদিন আবেদনকারীর পক্ষে সওয়াল করেন সরকারেরই প্রাক্তন ল’ অফিসার মুকুল রোহতগি। তিনি সাফ জানান, প্রথাবিরুদ্ধ যৌনতার বিষয়টি শুধু ব্যক্তিপছন্দের বিষয় হিসেবে বিবেচনা করলে হবে না। বরং এর সঙ্গে জিনেরও সম্পর্ক আছে। ফলে এই অধিকার সুরক্ষিত হওয়া উচিত। তাঁর সওয়াল, পঞ্চাশ বছর আগে যে নিয়ম চালু ছিল আজ আর তার কোনও বৈধতা নেই। পাঁচ বিচারপতির সাংবিধানিক বেঞ্চ এই সওয়াল মন দিয়ে শোনে। তবে আজই কোনও রায় ঘোষণা হয়নি। বরং জানানো হয়, আদালতের পূর্ববর্তী রায় কতটা সঠিক ছিল তা ফের খতিয়ে দেখা হবে। এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য হয়েছে আগামিকাল বুধবার। সেদিনই ৩৭৭ ধারার ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হবে।