সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: সুপ্রিম কোর্ট তিন তালাককে অসাংবিধানিক ঘোষণা করার পরও বদলায়নি বাস্তব ছবি। এখনও তিন তালাকের নামে নৃশংসতার শিকার হতে হচ্ছে মুসলিম মহিলাদের। এমনই এক ঘটনা সামনে এল উত্তরপ্রদেশ থেকে। ফোনে তিন তালাক দেওয়ার পর স্ত্রীকে একমাস ঘরে বন্দি করে রাখার অভিযোগ উঠল এক ব্যক্তি ও তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে। একমাস খাদ্য ও জলের অভাবে অবশেষে মঙ্গলবার মৃত্যু হয়েছে রাজিয়া নামের ওই মহিলার। অমানবিকতার চূড়ান্ত এই নজির দেখা গিয়েছে উত্তরপ্রদেশের বরেলিতে।
Bareilly: Triple Talaq victim Razia who was allegedly thrashed and confined in a room without food for a month by her husband, died during treatment yesterday. pic.twitter.com/dx2989tO1R
Advertisement— ANI UP (@ANINewsUP) July 11, 2018
মাসখানেক আগে ফোনে রাজিয়াকে তিন তালাক দেন তাঁর স্বামী। ৬ মাসের সন্তান-সহ রাজিয়া অসহায় অবস্থায় শ্বশুরবাড়ি ছাড়তে চাননি। তারপর থেকেই একটি ঘরে বন্দি করে রাখা হত রাজিয়াকে। তাঁর শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাঁকে সময়মতো খাবার দিত না। এমনকি জলও দেওয়া হত না বলে অভিযোগ। প্রায় মাসখানেক এই অবস্থায় আটকে রাখার পর রাজিয়া যখন গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন তখন তাঁকে এক আত্মীয়ের বাড়িতে রেখে পালিয়ে যায় তাঁর স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকেরা। সেখান থেকে রাজিয়াকে উদ্ধার করে বরেলি জেলা হাসপাতালে ভরতি করেন তাঁর বোন। সেখান থেকে লখনউ-এর একটি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। কিন্তু পরিস্থিতির অবনতি হলে তাঁকে ফের বরেলি জেলা হাসপাতালেই পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। সেখানেই মৃত্যু হয় রাজিয়ার।
[চেয়েও মেলেনি শববাহী যান, মোটরবাইকে মায়ের মৃতদেহ মর্গে নিয়ে গেলেন ছেলে]
রাজিয়ার বোনের দাবি, এর আগেও দীর্ঘদিন ধরে পণের দাবিতে অত্যাচার করত তাঁর স্বামী। মারধর করা হত। স্থানীয় একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার এক আধিকারিক জানিয়েছেন, এর আগেও বিয়ে করেছিলেন রাজিয়ার স্বামী নাগিম। আগের স্ত্রীর উপরও একই রকম অত্যাচার করত সে। রাজিয়ার বোন যানাচ্ছেন, এর আগে একাধিকবার ফাহিমের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ জানালেও তা গ্রহণ করেনি পুলিশ। ঘটনায় গোবলয়ে নারী-নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।