সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: মুসলিম সমাজের কেউ তাঁ সঙ্গে যোগাযোগ রাখবে না। অসুখে মিলবে না ওষুধ। এমনকী কবরস্থানেও অন্তিমে জায়গা হবে না। এক মুসলিম মহিলাকে পড়তে হল এরকমই ফতোয়ার মুখে। তাঁর একমাত্র অপরাধ যে, তিনি তিন তালাকের বিরোধিতা করেছিলেন।
[ নাবালিকাকে একমাস ধরে লাগাতার গণধর্ষণে গ্রেপ্তার ১৮ অভিযুক্ত ]
নিদা খান নামে ওই মহিলা নিজে তিন তালাকের শিকার হয়েছিলেন। তাঁর স্বামী তাঁকে তিন তালাক দিয়েছিলেন বিয়ের এক বছরের মধ্যে। তাঁর উপর এমন অত্যাচার চালানো হয়েছিল, যাতে তাঁর গর্ভপাত হয়। বছরখানেকের মধ্যেই তাঁদের বিচ্ছেদ হয়। কিন্তু তাতে ভেঙে পড়েননি ওই মহিলা। বরং তিন তালাকের শিকার হওয়া মহিলাদের একত্রিত করে একটি সংগঠন গড়ে তুলেছেন। যাতে নির্যাতিতারা বিচার পায়। আর তাতেই মৌলবিদের চক্ষুশূল হয়েছেন তিনি। তিন তালাকের বিরোধিতা শরিয়তের বিরোধিতার শামিল। এই অভিযোগ তুলেই বরেলির এক মৌলবি তাঁর বিরুদ্ধে ফতোয়া জারি করেছে। তাঁর হুমকি, অসুখ করলেও কেউ ওই মহিলাকে সাহায্য করবেন না। এমনকী শেষ দিনে কেউ তাঁর জন্য নমাজ পড়বেন না। কবরস্থানেও জায়গা হবে না তাঁর। মুসলিম সমাজের কেউই তাঁর সঙ্গে কোনওরকম যোগাযোগ রাখবে না। যদি কেউ রাখেন তবে তাঁকেও একই রকম শাস্তির মুখে পড়তে হবে।
[ গণপিটুনি বিপজ্জনক প্রবণতা, কেন্দ্র ও রাজ্যকে পদক্ষেপের নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের ]
এই হুমকির মুখেও অবশ্য ভেঙে পড়ছেন না সাহসী ওই মহিলা। তিনি জানাচ্ছেন, যে মৌলবি ফতোয়া জারি করেছেন তাঁর পাকিস্তানে চলে যাওয়া উচিত। কারণ ভারত গণতান্ত্রিক দেশ। এখানে কেউ কারও উপর জুলুম করতে পারেনা। একমাত্র আল্লাই বিচার করতে পারেন যে, কে প্রকৃত দোষী। তিন তালাক বিরোধী কাজকর্ম যে তিনি চালিয়ে যাবেন, তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন অকুতোভয় নিদা খান।