সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: নাগরিকপঞ্জির খসড়া প্রকাশিত হয়েছে মাত্র। এর ভিত্তিতে কারও বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া যাবে না। মঙ্গলবার এই নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট।
[ পরাধীন ভারতে স্কুল তৈরি পূর্বসূরির, স্বাধীন দেশে ঠাঁই নেই গোটা পরিবারের ]
কেউ স্বাধীনতার আগে এসেছেন এই দেশে। এদেশে এসে স্কুল, সেবাশ্রম প্রতিষ্ঠা করেছেন। অথচ পরিবারের একজনেরও নাম নেই নাগরিকপঞ্জিতে। আবার কোথাও মা-বাবার নাম এসেছে। নাম নেই একরত্তির। খোদ প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি ফকরুদ্দিনের ভাই জিয়াউদ্দিন আহমেদের পরিবারের কারওর নাম নেই নাগরিকপঞ্জিতে। চূড়ান্ত খসড়া প্রকাশ হওযার পর থেকেই একের পর এক অভিযোগ এসে জমা পড়ছে। আতঙ্ক তাড়া করে ফিরছে অসংখ্য অসমবাসীকে। রাতারাতি যাঁরা নাগরিকত্ব হারানোর কোপে পড়েছেন, তাঁরা রাতীমতো দিশেহারা। প্রায় ৪০ লক্ষ মানুষের মাথায় আকাশ ভেঙে পড়েছে। সকলেরই ভয়, এবার কি ভিটেমাটি ছেড়ে ডিটেনশন ক্যাম্পে গিয়ে উঠতে হবে? এই পরিস্থিতিতে চলছে তীব্র রাজনৈতিক চাপানউতোর। কেন্দ্রের দাবি, সুপ্রিম কোর্টের তত্ত্বাবধানেই এই নাগরিকপঞ্জি তৈরি ও প্রকাশের কাজ চলছে। এখানে কেন্দ্র সরকারের আলাদা কোনও ভূমিকা নেই। অন্যদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, মায়াবতীদের দাবি নাগরিকপঞ্জির নামে ধর্মীয় বিভাজনের রাজনীতি করছে বিজেপি। বেছে বেছে টার্গেট করা হচ্ছে সংখ্যালঘু এবং বাংলাভাষীদের। কোনওভাবেই সাধারণ মানুষকে ঘরছাড়া করা যাবে না।
[ নাগরিকপঞ্জি থেকে বাদ প্রাক্তন রাষ্ট্রপতির ভাইয়ের পরিবারের নাম, তুঙ্গে বিতর্ক ]
এই পরিস্থিতিতেই নির্দেশ এল সুপ্রিম কোর্টের। শীর্ষ আদালতের তরফে জানিয়ে দেওয়া হল, এই খসড়ার ভিত্তিতে কারও বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া যাবে না। যে অভিযোগ আসছে তার সুরাহার করার নির্দেশ দেওযা হয়েছে প্রশাসনকে। ৭ আগস্ট থেকেই এই তালিকা প্রকাশ্যে পাওয়া যাবে। যাঁদের যা অভিযোগ আছে সব ৩০ আগস্ট থেকে ২৮ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সমস্ত অভিযোগ জানিয়ে নাগরিকত্ব পাওয়ার দাবি জানানো যাবে বলেই নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের।
[ ‘ছেলেটাকে কি পুলিশ তুলে নিয়ে যাবে?’, অসমে আতঙ্কে কাঁটা একরত্তির মা-বাবা ]