Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
  • শুক্রবার
  • ৫ জুন ২০২৬

ভাঙল শ’খানেক গাছ, আগামী গ্রীষ্মে ছায়া পাবে কি কলকাতা?

বেলেঘাটা থেকে যাদবপুরের রাস্তায় বেসামাল গাছপালা দেখলে কে বলবে সামান্য ঝড়!

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: আগস্ট ১৯, ২০১৬, ১১:০৪

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: আগস্ট ১৯, ২০১৬, ১১:০৪

options
link
ভাঙল শ’খানেক গাছ, আগামী গ্রীষ্মে ছায়া পাবে কি কলকাতা? zoom

অভিরূপ দাস: বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপের জের৷ পুরসভার হিসাবে বুধবার ঝড়ের তাণ্ডবে উপড়ে গিয়েছে আশিটি গাছ৷ যার জেরে ছায়া কমল কলকাতার রাজপথে৷
মাত্র ৭০ কিলোমিটার ঝড়ের বেগে অক্সিজেনের এত ঘাটতি! সইতে পারবে তো শহরের মানুষ? চিন্তায় পরিবেশবিদরা৷ সাইক্লোন আয়লার তাণ্ডবেও উপড়ে গিয়েছিল আড়াইশো গাছ৷ তবে আয়লার গতিবেগ ছিল ১২০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা৷ বুধবারের ঝড়ের দাপট সে তুলনায় ছিল অপেক্ষাকৃত কম৷
বেলেঘাটা থেকে যাদবপুরের রাস্তায় বেসামাল গাছপালা দেখলে কে বলবে সামান্য ঝড়! ফি বছর শহরে যত কালবৈশাখী হয়, এ বছর তার সিকিভাগও হয়নি৷ “ভাগ্যিস হয়নি৷” বুধবারের ঝড়ের পর এমনটাই বলছেন পরিবেশবিদরা৷ আরও খান চারেক ঝড়ে শহরের সবুজ আরও কমে যেত৷
পরিবেশবিদরা জানিয়েছেন, পরিকল্পনাহীন বৃক্ষ রোপণেই অকালে ঝরে গেল এত সবুজ৷ দেখা গিয়েছে, বুধবার যত গাছ পড়ে গিয়েছে, তার বেশিরভাগই লাগানো হয়েছে গত ২৫ বছরে৷ চটজলদি বেড়ে ওঠার জন্যই লাগানো হয়েছিল কৃষ্ণচূড়া, অশোক জাতীয় গাছ৷ কিন্তু এই ধরনের গাছ সামান্য ঝড়েই ভেঙে পড়ে৷ পরিবেশবিদ সুভাষ দত্ত-র কথায়, “তাড়াতাড়ি বাড়বে বলেই পুরসভা এই সমস্ত বৃক্ষ রোপণ করে৷ কিন্তু গাছ লাগানোর সময় উদ্ভিদবিদদের পরামর্শ নিলে এমনটা হত না৷” তাঁর পরামর্শ, “কোনও দিন শুনবেন না বট বা অশ্বথ জাতীয় গাছ সামান্য ঝড়ে ভেঙে পড়েছে৷ কিন্তু এই সমস্ত গাছ বড় হতে সময় লাগে বলে লাগানো হয় না৷” শুধু তাই নয় যত্রতত্র নগরায়নকেও দায়ী করেছেন পরিবেশবিদরা৷ শহরের বেশিরভাগ গাছের গুঁড়ি বাঁধিয়ে দেওয়া হয়েছে৷ স্বাভাবিক ভাবেই দুর্বল হয়ে গিয়েছে গাছের শিকড়৷ সুভাষবাবুর কথায়, “গাছের শিকড় মজবুত রাখতে মাটি দরকার৷ সিমেন্টে গাছ দুর্বল হয়ে পড়ে৷”
ছোটোখাটো ঝড় থেকে বাঁচতে পারে কোন গাছ? “বড় বড় পাতা, শীতের মরশুমেও যা ঝরে পড়ে না, এমন গাছেরই ক্ষমতা রয়েছে ঝড় ঠেকানোর৷ অন্যান্য গাছের তুলনায় এরা অক্সিজেনও বেশি দেয়৷” বলেছেন পরিবশেবিদ সুভাষ দত্ত৷ এত গাছ পড়ে যাওয়ায় চিন্তিত মেয়র পারিষদ (উদ্যান) দেবাশিস কুমারও৷ তাঁর কথায়, “শহরে পুরসভার হিসাবে আশিটি গাছ পড়েছে৷ ঝড় হলে গাছ পড়বেই৷ যেখানে যেখানে গাছ পড়েছে সে সমস্ত জায়গা চিহ্নিত করে ফের গাছ লাগাবে পুরসভা৷”
পুরসভার হিসাবে বুধবার সন্ধের ঝঞ্ঝায় প্রায় আশিটা গাছ উপড়ে গেলেও বেসরকারি হিসেবে এই সংখ্যাটা ১৪২৷ রাস্তার দু’ধারের গাছ বাঁচাতে আরও সচেতন হোক পুরসভা৷ এমনটাই চাইছেন পরিবেশবিদরা৷ সুভাষবাবুর আশঙ্কা, “আসছে গ্রীষ্মে যেন ছাঁয়া খুঁজতে মাথা কুটতে না হয়৷”

Advertisement
২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'নজরে নবান্ন' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.