অর্নব আইচ: ‘টাকা না দিলে আত্মহত্যা করব!’ ‘হবু স্বামী’র কাছ থেকে এই কথা শুনেই ভয় পেয়ে গিয়েছিলেন যুবতী। অনেকটা বাধ্য হয়েই দিনের পর দিন ‘হবু স্বামী’কে টাকা দিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি। শেষ পর্যন্ত সাড়ে তিন লাখ টাকা দেওয়ার পর সম্বিৎ ফেরে যুবতীর। বুঝতে পারেন, ‘হবু স্বামী’ আসলে প্রতারক। এরপরই মোহ ভঙ্গ হয় তাঁর৷ এই বিষয়ে কসবা থানায় তিনি অভিযোগ দায়ের করেছেন৷
[ফের দক্ষিণবঙ্গে নিম্নচাপের ভ্রুকুটি, পশ্চিম মেদিনীপুরে বজ্রাঘাতে মৃত ৩]
পুলিশ জানিয়েছে, গত মার্চ মাসে কসবার বাসিন্দা এক যুবতী একটি বিয়ের ওয়েবসাইটে অ্যাকাউন্ট খোলেন। ওই ওয়াবসাইটের ম্যান্ডেভিলা গার্ডেন্সের বাসিন্দা সিদ্ধার্থ নামে এক যুবকের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়৷ যুবক তাঁকে বিয়ে করতে ইচ্ছুক বলে জানায়। হোয়াটস্অ্যাপে দু’জনের মধ্যে কথা হতে থাকে। এর মধ্যেই যুবক তাঁকে জানায়, সে বিশেষ সমস্যায় রয়েছে। তাই তার টাকার প্রয়োজন। ‘ভাবী স্ত্রী’-র কাছ থেকে টাকা ধার চায় অভিযুক্ত যুবক৷ যুবতী আপত্তি করেননি। তিনি প্রথমে ৬ হাজার ৫০০ টাকা যুবকের অ্যাকাউন্টে দেন। এরপর আরও ১২ হাজার টাকা দাবি করা হয়৷ তা-ও তিনি দেন। এভাবে বারবার টাকা চায় ওই যুবক৷ ‘হবু স্বামী’কে বিশ্বাস করে টাকা দেয় ওই যুবতী৷
[হাওড়া ব্রিজের ফুটপাথ ঢাকবে অত্যাধুনিক শেডে, খুশি পথচারীরা]
কিছুদিন পর সিদ্ধার্থর সঙ্গী গোপাল নামের এক যুবক তাঁর কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা নিয়ে যান। এভাবে দু’লাখ টাকা যুবককে দিয়ে দেন তিনি। প্রাথমিকভাবে যুবতীর সন্দেহ হয়। তিনি ওই যুবককে বলেন, পুরো টাকা ফেরত দিতে৷ যুবক জানিয়ে দেয়, সে সমস্যায় রয়েছে, তাই টাকা ফেরত দিতে পারবে না। উলটে বিভিন্নভাবে ব্ল্যাকমেল করে আরও টাকা দিতে বলে। যুবতী অনেকটা বাধ্য হয়েই মায়ের গয়না বন্ধক দিয়ে একটি সংস্থা থেকে দেড় লাখ টাকা ঋণ নিয়ে যুবককে দেন। এর পরও যুবক আরও টাকা চাইলে তিনি আর দিতে রাজি হননি। তখন ওই ‘হবু স্বামী’ আরও টাকা না পেলে আত্মহত্যা করবে বলে হুমকি দিতে থাকে। যুবতী বুঝতে পারেন, ওই ‘হবু স্বামী’ আসলে প্রতারক৷ এর পরই তিনি সিদ্ধার্থ ও গোপালের বিরুদ্ধে কসবা থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযুক্ত যুবকের মোবাইল নম্বরও পুলিশকে জানান। মোবাইল নম্বর ও ব্যাংক অ্যাকাউন্টের সূত্র ধরে দু’জনের সন্ধান চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ৷
[আশঙ্কাজনক সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়, আরও অবনতি শারীরিক অবস্থার]