রূপায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়: পঞ্চায়েত মামলায় সুপ্রিম কোর্টে মুখ পুড়েছে বিরোধীদের। গ্রামবাংলায় পঞ্চায়েত বোর্ড গঠন নিয়ে আর কোনও সমস্যা রইল না। এবার বোর্ড গঠন প্রক্রিয়াকে সন্ত্রাসমুক্ত করার আবেদন নিয়ে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ বিজেপি। হাই কোর্টে মামলা করেছেন গেরুয়া শিবিরের নেতা সায়ন্তন বসু।
[ পঞ্চায়েত মামলায় রাজ্যের পক্ষে রায় সুপ্রিম কোর্টের, ধাক্কা বিরোধীদের]
মে মাসে রাজ্যে একদফার পঞ্চায়েত ভোট অনুষ্ঠিত হয়। ফল ঘোষণা হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু, আইনি জটিলতায় বোর্ড গঠন করতে গিয়ে সমস্যায় পড়েছিল প্রশাসন। কারণ, ১৬ হাজারের বেশিও আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জিতেছেন শাসকদলের প্রার্থীরাই। আর সেই ফলকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে মামলা করেছিল বিরোধীরা। তাদের অভিযোগ ছিল, মনোননয়নপত্র পেশ করতে দেওয়া হয়নি। তাই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জেতা আসনে ফের ভোট করতে হবে। মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জেতা আসনে ফল ঘোষণায় স্থগিতাদেশ জারি করেছিল সুপ্রিম কোর্ট। শুনানি শেষ হয়ে গেলেও বারবারই রায়দান স্থগিত হয়ে যাচ্ছিল। এদিকে গ্রাম পঞ্চায়েত, পঞ্চায়েত সমিতি ও জেলা পরিষদগুলির মেয়াদও শেষ হতে চলেছে। বোর্ড গঠন না হলে, গ্রামবাংলায় উন্নয়ন থমকে যাবে। ফলে বাধ্য হয়ে আপাতত বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জেতা পঞ্চায়েতে প্রশাসক নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেয় রাজ্য সরকার।
সুপ্রিম কোর্টে পঞ্চায়েত মামলার নিষ্পত্তি হল শুক্রবার। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় শাসকদলের জয়কেই মান্যতা দিল সুপ্রিম কোর্ট। ফলে বোর্ড গঠন করা নিয়ে আর কোনও জটিলতা নেই। রাজ্যে এবার পঞ্চায়েত ভোটে ভাল ফল করেছে বিজেপি। বেশ কয়েকটি গ্রাম পঞ্চায়েত ও পঞ্চায়েত সমিতি দখল করেছে তারা। গেরুয়া শিবিরের আশঙ্কা, পঞ্চায়েতে বোর্ড গঠনকে কেন্দ্র করে সন্ত্রাস হতে পারে। কলকাতা হাই কোর্টে মামলা করেছেন বিজেপি নেতা সায়ন্তন বসু। তাঁর আরজি, বোর্ড গঠন প্রক্রিয়ায় যাতে সন্ত্রাস না হয়, তা নিশ্চিত করুক আদালত। মামলাটি গ্রহণ করেছেন হাই কোর্টের বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী। আগামী সোমবার মামলার শুনানি।
[ কুৎসার বিরুদ্ধে মানুষের জয়, সুপ্রিম রায়কে স্বাগত জানিয়ে প্রতিক্রিয়া মমতার]