সৌরভ মাজি, বর্ধমান: রোগীকে পরমাত্মীয় ভেবে সেবা করার অঙ্গীকার। একই সঙ্গে চিকিৎসকদের সঙ্গে রোগীর আত্মীয়দের মধ্যে বন্ধুতার সম্পর্ক গড়ে তোলা। এই যৌথ ভাবনাকে সফল করতে হাসপাতালে আগত রোগী ও রোগীর আত্মীয়দের রাখি পরালেন চিকিৎসকরা। বাদ গেলেন না ডাক্তারি পড়ুয়ারাও। এককথায় রাখি পরিয়ে রোগী ও তাঁর পরিবারকে সৌভাতৃত্বের বার্তা দিলেন চিকিৎসকরা। অভিনব ঘটনাটি ঘটেছে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। মূলত এহেন রাখি বন্ধনের মাধ্যমে সুস্থ পরিষেবার বার্তা দিলেন হাসপাতালের ডেপুটি সুপার।
কয়েকবছর ধরে রোগীর পরিবার ও হাসপাতালের চিকিৎসকদের সম্পর্কের বিস্তর অবনতি ঘটেছে। সামান্য ঘটনাতেই দু’পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছে যাচ্ছে। সৌজন্যতার সীমা ছাড়িয়ে আক্রমণের ঘটনা এখন হামেশাই ঘটছে। একইভাবে চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগের ঘটনাও প্রচুর।স্বাভাবিকভাবেই রোগীর পরিবারের লোকজন ডাক্তারবাবুদের বিশ্বাস করেন না। একইভাবে মরণাপন্ন রোগীকে নিয়ে নিরাপত্তার অভাববোধ করেন চিকিৎসকরা। সবমিলিয়ে চিকিৎসা পরিষেবাই বিঘ্নিত হয়। এই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে এসে দু’পক্ষের মধ্যে সৌভাতৃত্বের সম্পর্ক গড়ে তুলতেই এদিন হাসপাতালের ব্লাড ব্যাংকের সামনে চিকিৎসকরা জড়ো হন। সঙ্গে ছিলেন মেডিক্যাল কলেজের পড়ুয়ারাও। চিকিৎসকদের তরফে হাসপাতালে উপস্থিত রোগী ও রোগীর পরিবারের লোকজনকে রাখি পরিয়ে দেওয়া হয়। সেই সঙ্গে সুস্থ পরিষেবার বার্তা দেন হাসাপাতালের ডেপুটি সুপার অমিতাভ সাহা। চিকিৎসকদের পাশাপাশি রোগীর আত্মীয়দেরও সহনশীল হতে বলেন তিনি। বলেন, “ডাক্তারি করার সঙ্গে সঙ্গে মানবিকতার মুখটাও রাখতে হবে। কোনও রোগীর জায়গায় আমাদের বোন, ভাই, বাবা, মা থাকলে আমরা কীভাবে পরিষেবা দিতাম সেটা ভাবতে হবে। সেটা ভেবেই হাসপাতালের রোগীদের পরিষেবা দিতে হবে। পরিষেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে অনেক কিছুর অভাব হয়তো রয়েছে, কিন্তু মানবিকতার মুখটা ফুটে উঠলে সেই সব প্রতিবন্ধকতাও থাকবে না। রোগীর আত্মীয়দেরও ধৈর্য হারালে চলবে না। ডাক্তার ও রোগীর মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি দূর করতে রাখি বন্ধন সেতু হিসেবে কাজ করবে। একদিন রাখি পরালেই হবে না, এই মানসিকতা বছরভর রাখতে হবে।”

[হেলমেটবিহীন বাইক চালকদের রাখি পরিয়ে ‘গান্ধীগিরি’, সুরক্ষার পাঠ বিডিও-র]
সপ্তাহখানেক আগে রোগী মৃত্যু ঘিরে ধুন্ধুমার বেধেছিল এই হাসপাতালে। রোগীর আত্মীয়রা তুমুল বিক্ষোভ দেখান। তারও কিছুদিন আগে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের মারধর, হেনস্থার অভিযোগ ওঠে রোগীর আত্মীয়দের বিরুদ্ধে। প্রতিটি ক্ষেত্রেই চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ তুলেছিলেন রোগীর আত্মীয়রা। এই রাখি বন্ধন সেই ক্ষততে কতটা প্রলেপ দেয় এখন সেটাই দেখার।
[দরিদ্রদের জন্য ‘ভগবানের দোকান’ খুললেন দেবলীনা-তথাগত]
