সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: মদ খাওয়া বড় দায়!
এই কথাটাই মনে মনে আওড়াতে আওড়াতে এখন তামিলনাড়ু ভিড় করছে মদের দোকানের সামনে।
এবারের বিধানসভা নির্বাচনে জেতার আগে কথা দিয়েছিলেন জয়ললিতা, পুরোপুরি না হলেও তামিলনাড়ুতে মদ বিক্রি তিনি কিছুটা অন্তত কমিয়ে দেবেনই! তাঁর এই প্রতিশ্রুতিতে কিন্তু ফল হল উল্টো। মদের বন্যায় ভেসে গেল রাজ্য। দোকানে দোকানে বাড়ল বিক্রি। সকলেই মদ কিনে বাড়িতে সঞ্চয় করে রাখতে চান!
আসলে মদ খাওয়া নিয়ে বরাবরই একটা সমস্যায় ভুগছে তামিলনাড়ু। বিধানসভা নির্বাচনের আগে একটি সমীক্ষায় দেখা গিয়েছিল, রাজ্যের অনুন্নয়নের জন্য মদ খাওয়ার অভ্যেসকেই দুষছেন সবাই। পাশাপাশি ছিল রাজ্যের গান্ধীবাদী নেতা শশীপেরুমলের মদ্যপানবিরোধী প্রচার। কোমর বেঁধে উঠে-পড়ে লেগেছিলেন শশী রাজ্যে মদ বিক্রি একেবারে বন্ধ করে দেওয়ার জন্য। গত বছরে দুর্ঘটনায় তাঁর আকস্মিক মৃত্যুতে সেই দাবি আরও জোরদার হয়।
ফলে, জয়ললিতাকেও নীতি বদলাতে হয়েছে। ৪ এপ্রিল একটি বক্তৃতায় বলেছেন তিনি, ক্ষমতায় আসার পর তামিলনাড়ু স্টেট মার্কেটিং কর্পোরেশনের আওতায় থাকা কিছু মদের দোকান তুলে দেবেন। তুলে দেবেন সেই সব দোকান-সংলগ্ন পানশালা। আর কমিয়ে দেবেন পানশালা এবং দোকান খোলা রাখার মেয়াদ। প্রথমে এই ভাবে আলতো করে শাসনের পর ধীরে ধীরে বন্ধ করে দেবেন রাজ্যে মদের বেচাকেনা।
আম্মার এই প্রতিশ্রুতিতেই এখন আতঙ্কিত রাজ্যবাসী। তামিলনাড়ু স্টেট মার্কেটিং কর্পোরেশনের আওতায় থাকা এক মদের দোকানদার জানিয়েছেন, মদ বিক্রি হু-হু করে বেড়ে গিয়েছে। এবং ব্যাপারটা সঞ্চয়ের বলে ৭৫০ মিলিলিটারের নিচের বোতল প্রায় কেউই কিনছেন না।
বোঝাই যাচ্ছে, তামিলনাড়ু আম্মার এই সিদ্ধান্তে একটুও খুশি নয়। বরং, রাজ্য জুড়ে এখন বইছে আতঙ্কের হাওয়া।
তবে, শুধুই ক্রেতারা নয়। বিক্রেতাদের মধ্যেও আম্মার এই সিদ্ধান্তে দেখা দিয়েছে অসন্তোষ। তামিলনাড়ু স্টেট মার্কেটিং কর্পোরেশনের আওতায় থাকা এক মদের দোকানদার জানিয়েছেন, মদের ব্যবসায় এই রাজ্য ৩০,০০০ কোটি টাকা আয় করে। তাই আম্মার এই সিদ্ধান্তকে বোকামি বলেই মনে করছে তামিলনাড়ু।