Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
  • শুক্রবার
  • ৫ জুন ২০২৬

প্রেসিডেন্সির সমাবর্তন নন্দনে, থাকছেন না রাজ্যপাল

শেষ মুহূর্তে নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত কর্তৃপক্ষের

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: সেপ্টেম্বর ১১, ২০১৮, ০৯:২০

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: সেপ্টেম্বর ১১, ২০১৮, ০৯:২০

options
link
প্রেসিডেন্সির সমাবর্তন নন্দনে, থাকছেন না রাজ্যপাল zoom

দীপঙ্কর মণ্ডল : আপন ঘরেই ঠাঁই হল না। হস্টেলের দাবিতে ছাত্র বিক্ষোভের জেরে নিজের চত্বর তালাবন্ধ। তাই সমাবর্তন আয়োজনের জন্য ঘর ছেড়ে বাইরে যেতে হল প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়কে। আজ প্রেসিডেন্সির ষষ্ঠ সমাবর্তন হবে নন্দনে। অনুষ্ঠানের কয়েক ঘণ্টা আগে, সোমবার রাতে এমনই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ। এবং রাতে রাজভবন সূত্রে জানা গিয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য তথা রাজ্যপাল কেশরীনাথ ত্রিপাঠী সমাবর্তনে থাকছেন না। অনুষ্ঠানে পৌরোহিত্য করার দায়িত্ব তিনি সঁপেছেন উপাচার্য অনুরাধা লোহিয়াকে। তবে অনুষ্ঠানে ছাত্রছাত্রীরা ডিগ্রি পাবেন না। শুধুমাত্র সাম্মানিক ডিলিট এবং ডিএসসি প্রদান করা হবে।

[ছাত্র বিক্ষোভের জেরে নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত প্রেসিডেন্সির, ক্যাম্পাসে হচ্ছে না সমাবর্তন]

২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'নজরে নবান্ন' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

আচার্য একই শহরে থাকা সত্ত্বেও বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন পরিচালনা করছেন উপাচার্য, এমন দৃশ্য বিলক্ষণ নজরকাড়া। তেমনই ফিল্ম প্রদর্শন ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানাদির জন্য নির্দিষ্ট নন্দনে কোনও বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন হচ্ছে, এটাও অভূতপূর্ব। ছাত্র আন্দোলনের নামে জঙ্গিপনার পরিণতিতেই রাজ্যকে এহেন দুর্ভাগ্যজনক ঘটনার সাক্ষী থাকতে হচ্ছে বলে আক্ষেপ শোনা যাচ্ছে শিক্ষা মহলের আনাচে কানাচে। “প্রেসিডেন্সি ক্যাম্পাসে সমাবর্তনের সব প্রস্তুতি সারা হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু অযৌক্তিক আন্দোলনের কারণে এখানে তা করা গেল না।”-এদিন রাতে বলেন প্রেসিডেন্সির এক কর্তা। তাঁর খেদ, “দু’শো বছরের একটি প্রতিষ্ঠানের কাছে এর চেয়ে বড় লজ্জার আর কী আছে?” শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ও পড়ুয়াদের গেট বন্ধ করে বিক্ষোভের সমালোচনা করেছেন।
পুরো বিষয়টির সূত্রপাত হিন্দু হস্টেলের আবাসিকদের স্থানান্তর ঘিরে। শতাব্দী প্রাচীন ইডেন হিন্দু হস্টেল ভবনে সংস্কার চলছে তিন বছর যাবৎ। ওখানকার আবাসিকরা সবাই প্রেসিডেন্সির স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পড়ুয়া। আপাতত তাঁদের রাখা হয়েছে প্রেসিডেন্সির সল্টলেক হস্টেলে। কিন্তু ওঁরা এখন ফিরে আসতে চান। আবাসিকদের দাবি, সল্টলেক থেকে কলেজ স্ট্রিটে যাতায়াত সময় সাপেক্ষ। কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, মেরামতি না হলে কাউকে হিন্দু হস্টেলে ফেরানো সম্ভব নয়।

[বড় উপহার মুখ্যমন্ত্রীর, বাংলার সব পুজো কমিটিকে অনুদান রাজ্যের]

এই নিয়ে বেশ কয়েকদিন ধরে চাপানউতোর চলছিল। মাসখানেক ধরে ক্যাম্পাসে অবস্থান চালাচ্ছিলেন পড়ুয়ারা। শেষমেশ তা গড়িয়েছে জঙ্গিপনায়। এদিন পুরনো হস্টেল ফেরানোর দাবিতে মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন বিক্ষোভকারীরা। এদিন ছিল গভর্নিং বোর্ডের বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। উপাচার্য অনুরাধা লোহিয়া, রেজিস্ট্রার দেবজ্যোতি কোনার, বোর্ডের সদস্য, অধ্যাপক ও কর্মীদের কাউকেই ঢুকতে দেওয়া হয়নি। ক্যাম্পাসের দখল চলে যায় আন্দোলনকারীদের হাতে। উপাচার্য জানান, “সবাই বিক্ষোভ দেখাননি। কয়েকজন বেআইনি কাজ করছেন। কোনও পরিস্থিতিতেই পুলিশ ডাকব না।” বেশ কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে তিনি ফিরে যান। অন্যদিকে, মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন উৎসব। কলেজ স্ট্রিট ক্যাম্পাসের ডিরোজিও হলে অনুষ্ঠান হওয়ার কথা ছিল । সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়কে সাম্মানিক ডি-লিট ও ভারতরত্ন বিজ্ঞানী সি এন আর রাওকে ডিএসসি দেওয়া হবে। ক্যাম্পাসে ফের নৈরাজ্য হতে পারে ভেবে সমাবর্তন স্থগিত করার কথা ভাবে কর্তৃপক্ষ। শুধুমাত্র সাম্মানিক ডিগ্রি প্রাপকদের জন্য রাজভবনে ছোট অনুষ্ঠানের কথা ভাবা হয়। কিন্তু রাজ্য বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য তথা রাজ্যপাল কেশরীনাথ ত্রিপাঠী সমাবর্তনের পৌরোহিত্য করার দায়িত্ব দেন উপাচার্যকে। শেষ পর্যন্ত রাতে নন্দন-৩-এ অনুষ্ঠান করার সিদ্ধান্ত হয়।

২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'নজরে নবান্ন' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.