অর্ণব আইচ: ওষুধের বাক্সের উপর রুপোলি গুঁড়ো। সূর্যের আলোয় যেন চকচক করে ওঠেছিল বাক্স। সন্দেহ হয় টহলরত পুলিশের। বাক্স খুলতেই বেরিয়ে পড়ে শব্দবাজির সম্ভার। বৃহস্পতিবার দুপুরে হাওড়া ব্রিজের কাছ থেকে উত্তর বন্দর থানার পুলিশের হাতে ধরা পড়ল ৯০ কিলোগ্রাম শব্দবাজি।
[বাড়ি ফাঁকা রেখে পুজোয় ঘুরতে যাবেন না, সাবধানবাণী কলকাতা পুলিশের]
কালীপুজো ও দেওয়ালির ঢের দেরি। পুজোর আগেই শহরে চলে এল নিষিদ্ধ শব্দবাজি। শহরের বাইরে থেকে এই শব্দবাজি নিয়ে এসে গোপন গুদামে লুকানোর চেষ্টা করেছিল পাচারকারীরা। কিন্তু, শেষরক্ষা হল না। মহম্মদ বসির ও মহম্মদ দাউদ নামে দুই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পলাতক আরও এক। পুলিশ জানিয়েছে, হাওড়া ব্রিজের কাছে বাইক নিয়ে টহল দিচ্ছিলেন উত্তর বন্দর থানার পুলিশকর্মীরা। একটি সাইকেল ভ্যানে করে বাক্স নিয়ে যাচ্ছিল ভ্যানচালক। বাক্সগুলির বাইরে চকচক করছিল রুপোলি গুঁড়ো। বাক্সে কী রয়েছে জিজ্ঞাসা করতেই একজন বলে, ভিতরে ওষুধ রয়েছে। আরও একজন জানায়, বাগরি মার্কেটের পোড়া ওষুধ নষ্ট করতে যাচ্ছে তারা। শুনেই চমকে ওঠেন পুলিশকর্মীরা। বাগরি মার্কেট থেকে এক পাতা ওষুধ বাইরে বের হওয়া নিষিদ্ধ, সেখানে আস্ত কয়েকটি বাক্স কীভাবে মার্কেট থেকে বের হল? পুলিশকর্মীরা প্রশ্ন করতেই মুখ চাওয়াচাওয়ি করতে থাকে তিনজন। হঠাৎই একজন ছুটে পালায়। বাকি দু’জনকে পুলিশ ধরে ফেলে। বাক্স খুলতেই বেরিয়ে পড়ে ভর্তি চকোলেট বোমা, দোদোমার মতো নিষিদ্ধ শব্দবাজি।
তদন্তকারীদের দাবি, জেরার মুখে ধৃতরা জানায়, বাক্সগুলি তারা পোস্তা এলাকার একটি পরিবহণ সংস্থার গুদামে নিয়ে যাচ্ছিল। সেখান থেকে এগুলি বাইরে পাঠানো হত। ওই গুদামটির সন্ধান চালানো হচ্ছে। পুলিশের মতে, সাধারণত কালীপুজোর আগেই শহরে বেশি সংখ্যক নিষিদ্ধ বাজি পাচারের চেষ্টা হয়। কিন্তু এই বছর দুর্গাপুজোর আগেই শুরু হয়েছে নিষিদ্ধ বাজি পাচার। এই পাচার রোধে এখন থেকেই নজরদারি বাড়ানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
[বাড়ি ফাঁকা রেখে পুজোয় ঘুরতে যাবেন না, সাবধানবাণী কলকাতা পুলিশের]