সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: দিনের ব্যস্ততম সময়ে বিপত্তি উল্টোডাঙা স্টেশনে। ট্রেনের ছাদে আগুন লেগে মৃত্যু মানসিক ভারসাম্যহীন যুবকের। ঘটনার জেরে দীর্ঘক্ষণ বন্ধ শিয়ালদহ-বনগাঁ ডাউন লাইনের ট্রেন চলাচল।
[চলন্ত ট্রেনের গেটে দাঁড়িয়ে মোবাইলে কথা, আচমকা পড়ে মৃত্যু যুবকের]
স্থানীয় সূত্রের খবর, বনগাঁ থেকে শিয়ালদহের দিকে যাচ্ছিল ট্রেনটি। উল্টোডাঙা স্টেশনে ঢোকার আগে হঠাৎ ছাদ থেকে আগুনের ফুলকি দেখতে পান যাত্রীরা। উঁকিঝুঁকি মেরে জানা যায় ট্রেনের ছাদে উঠে পড়েছে দুই মানসিক ভারসাম্যহীন। যাত্রীরা বারবার তাদের বসে পড়তে জন্য অনুরোধ করেন। কিন্তু তাদের মধ্যে একজন হঠাৎই দাঁড়িয়ে পড়ে। ওভারহেড তারে স্পর্শ করা মাত্রই যুবকের দেহে আগুন লেগে যায় বলে জানাচ্ছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। উল্টোডাঙায় ট্রেন থামলে জিআরপি এসে আগন নেভায় । দেহ নামিয়ে এনে সনাক্ত করার চেষ্টা করছে জিআরপি। অপর যে যুবক ট্রেনের ছাদে উঠে পড়েছিল তাঁর খোঁজ মিলছে না।
এই ঘটনাটি ঘটে সন্ধে ৬ টা বেজে ৫১ মিনিট নাগাদ। এরপর দীর্ঘক্ষণ শিয়ালদহ-বনগাঁ ডাউন স্টেশনে ট্রেন চলাচল ব্যহত হয়। অফিস থেকে ফেরার টাইমে ট্রেনের গন্ডগোলে রীতিমতো সমস্যায় পড়েন নিত্যযাত্রীরা। প্রায় ঘণ্টাখানের পরে স্বাভাবিক হয় ট্রেন চলাচল। ওই দুই মানসিক ভারসাম্যহীন কীভাবে ট্রেনের ছাদে উঠল খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঠিক কোন স্টেশন থেকেই বা এমন কাণ্ড ঘটাল মৃত যুবক তাও জানার চেষ্টা চলছে।
[‘সুজয়দা-পুঁচকি’র প্রেমকাহিনি দিয়েই সচেতনতার পাঠ কলকাতা ট্রাফিক পুলিশের]
আজ বিকেলেই অসাবধানতার বশে আরও একটি দুর্ঘটনার শিকার হন আরেক ট্রেনযাত্রী। স্টেশনের কাছে চলন্ত ট্রেন থেকে পড়ে বেঘোরে মারা প্রাণ হারাতে হয় এক যুবককে। শিয়ালদহগামী কৃষ্ণনগর লোকাল চেপে সরকারি চাকরি পরীক্ষা দিতে যাচ্ছিলেন নিত্যানন্দ দাস। বেলঘরিয়া স্টেশন থেকে ট্রেনে উঠেছিলেন তিনি। শিয়ালদহ থেকে বিভিন্ন রুটে লোকাল ট্রেন চলে। ছুটির দিনে ট্রেনে বাদুড়ঝোলা ভিড় ছিল না ঠিকই। তবে ট্রেন একেবারে খালিও ছিল না। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ট্রেনে ওঠা ইস্তক মোবাইল ফোন কথা বলে যাচ্ছিলেন নিত্যানন্দ। ট্রেন যখন দমদম স্টেশনে কাছাকাছি পৌঁছায়, তখন আচমকাই চলন্ত ট্রেন থেকে পড়ে যান তিনি। ঘটনাস্থলেই মারা যান নিত্যানন্দ দাস।