দীপঙ্কর মণ্ডল: ভিন রাজ্য থেকে আসা মাছে বিষাক্ত ফরমালিন আছে কি না তা ফের খতিয়ে দেখা শুরু হল। বৃহস্পতিবার সকালে পাতিপুকুর বাজার থেকে মাছের নমুনা সংগ্রহ করেন পুর আধিকারিকরা। ফল, মাছ ও সবজি টাটকা রাখতে ফরমালিন মেশায় অসাধু ব্যবসায়ীরা। এই রাসায়নিক তীব্র ক্ষতিকর। চিকিৎসকদের মতে ক্যানসারের অন্যতম কারণ হল ফরমালিন। একদিকে দ্রুত বৃদ্ধি করতে গিয়ে রাসায়নিক প্রয়োগ, অন্যদিকে তা সংরক্ষণ করতে গিয়ে ফরমালিন ও তাজা রাখতে তুঁতে প্রভৃতি বিষ প্রয়োগ হয়। কঠোর আইন থাকলেও তার প্রয়োগ নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। কলকাতা পুরসভা কর্তৃপক্ষ এই বিষয়ে সতর্ক। প্রতিবছর নিয়ম করে বাজারগুলিতে নজরদারি চলে। দু’সপ্তাহের মধ্যে নমুনা পরীক্ষার ফল পাওয়া যাবে বলে এদিন জানিয়েছে পুরসভা।
[সাউথ সিটি মলের সামনে বোমাতঙ্ক, ঘটনাস্থলে বম্ব স্কোয়াড]
ফরমালিনের কারণে অন্ধ্রের মাছের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে বিহার-সহ কয়েকটি রাজ্য। যদিও গত বছর অন্ধ্রপ্রদেশ সরকার দাবি করেছিল, তা পরীক্ষা করে দেখেছে সেই রাজ্য থেকে পাঠানো মাছে ফরমালিন মেশানো হয় না। সবজি বা মাছ কেনার সময় সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। মাছে মাছি বসলে, পায়ু শক্ত থাকলে, আঁশ খুব উজ্বল না হলে মাছ কেনা যেতে পারে বলে জানিয়ে দিয়েছেন তাঁরা। বিশেষজ্ঞদের মতে, তাজা মাছ কখনো শক্ত হবে না, আবার নরমও হবে না। তাজা মাছ হবে ‘বাউন্সি’। যদি আঙুল দিয়ে চাপ দিলে দেখা দেখেন, যে মাছ একদম শক্ত, বুঝবেন যে সেটা ফ্রিজে রাখা ছিল। আর যদি আঙুল দিলেই বসে যায় ভিতরে, তাহলে বুঝতে হবে গন্ডগোল আছে।
বাজারে মাছ কেনার আগে মাছের চোখের দিকে খেয়াল রাখার পরামর্শও আছে। তাজা মাছের চোখ সবসময় স্বচ্ছ হবে। দেখলে মনে হবে মাছটি জীবন্ত। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই চোখ ঘোলাটে, মৃত হয়ে আসে। যত সময় যায়, চোখ তত নিষ্প্রাণ হয়। ফরমালিনে মাছের দেহ পচে না ঠিকই, কিন্তু চোখের জীবন্ত ভাব নষ্ট হওয়া ঠেকানো যায় না। চোখ দেখলেই চিনে নিতে পারবেন সেটি তাজা মাছ। মাছের কানকো দেখাটা তাজা মাছ চেনার আর একটা ভাল উপায়। যদিও মাছের কানকোতে এখন রং মিশিয়ে রাখেন দোকানিরা। তাই শুধু কানকো দেখে মাছ কেনা ঠিক নয়। তাজা মাছের কানকো হবে তাজা রক্তের রঙের এবং পিচ্ছিল, স্লাইমি ভাব থাকবে। যে মাছ থেকে দুর্গন্ধ আসবে, সেটা নিঃসন্দেহে তাজা মাছ নয়।
[ সুখবর, এই প্রথম চতুর্থী থেকে সকাল ৮ টাতেই চালু মেট্রো]