পুজো প্রায় এসেই গেল৷ পাড়ায় পাড়ায় পুজোর বাদ্যি বেজে গিয়েছে৷ সেরা পুজোর লড়াইয়ে এ বলে আমায় দেখ তো ও বলে আমায়৷ এমনই কিছু বাছাই করা সেরা পুজোর প্রস্তুতির সুলুকসন্ধান নিয়ে হাজির sangbadpratidin.in৷ আজ পড়ুন শিবমন্দিরের পুজোর প্রস্তুতি৷
রোহন দে: হয় ভিন রাজ্যে নয় তো ভিন দেশে। কর্মসূত্রে আজ বহু বাংলার মানুষই রয়েছেন জন্মভিটে থেকে বহু দূরে। চাইলেও অনেকে ফিরে আসতে পারেন না ছোটবেলার বাড়িটায়। যত দিন যায়, দূরত্ব বাড়ে বাবার সঙ্গে ছেলের কিংবা দাদুর সঙ্গে নাতির। কিন্তু ইচ্ছে থাকলেও কি ফেরা যায় না? এক্কেবারেই যায়। এবছর দুর্গাপুজোয় থিমের মাধ্যমে সেই বিষয়টিই তুলে ধরতে চলেছে দক্ষিণের ঐতিহ্যশালী পুজো কমিটি শিবমন্দির সর্বজনীন। ৮২ তম বর্ষে শিবমন্দির সর্বজনীনের এবারের থিম- ‘মাটির টানে’ মায়ের কাছে ফেরা।

[শুধু দৃষ্টিতে নয়, সমাজসেবী সংঘে এবার অনুভবেরও পুজো]
এবছর অভিনব এক ভাবনা নিয়ে শিবমন্দিরের পুজোমণ্ডপকে সাজাচ্ছেন শিল্পী বিমল সামন্ত। আর এই মণ্ডপসজ্জায় তিনি ব্যবহার করছেন বিভিন্ন মাপের ইট, নারকেলের খোল, দড়ি ইত্যাদি। এই ইট মূলত ব্রিটিশ আমলে তৈরি পুরনো উত্তর কলকাতার বাড়ির ইট যা উত্তর কলকাতা থেকে এনে মণ্ডপ তৈরিতে ব্যবহার করা হচ্ছে। নারকেলের মালা, টিনের কৌটো, ভাঙা ইট, কাচের বোতলের বিভিন্ন সাধারণ জিনিস শিল্পকর্মের ছোঁয়ায় হয়ে উঠেছে অনন্য। যা মণ্ডপে আগত দর্শনার্থীদের নজর কাড়তে বাধ্য। ইউক্যালিপ্টাসের খুঁটিও মণ্ডপে শোভা পাবে। নানা কাজে বিদেশে থাকলেও শিকড়ের টানে পরিবার পরিজন, প্রতিবেশীদের মাঝে আরও একবার ফিরে, আসা এই ভাবনা থেকেই শ্রীজাতর লেখা গানে গলা মেলাচ্ছেন লোপামুদ্রা মিত্র ও সুর দিচ্ছেন জয় সরকার। গোটা মণ্ডপকে আলোকসজ্জায় সাজিয়ে তুলছেন প্রেমেন্দ্র বিকাশ চাকী। মণ্ডপের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই প্রতিমা গড়ছেন সিদ্ধার্থ পাল।

[মোড়কবন্দি সুখে কতটা সুখী মানুষ? পুজোয় উত্তরের খোঁজে ৬৪ পল্লি]
মাটির টানে মায়ের কাছে ফেরা থিমের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই বলা যায় যে এবারের থিম শিল্পী বিমল সামন্তেরও আরও একবার শিবমন্দিরের ঘরে ফিরে আসা। ২০১৬ সালে বিমল সামন্তের অনবদ্য সৃষ্টি এক থিম- ‘চৌখুপি’। যা পুজোপ্রেমীদের মনে আজও গেঁথে রয়েছে। শহর কলকাতার সব পুরস্কারই সেবার শিবমন্দিরের উদ্যোক্তাদের ঘরে এসেছিল শিল্পী বিমল সামন্তের হাত ধরে। মাটির টান যে কতটা দৃঢ় এবার শিবমন্দিরের থিম বোঝাবে সে কথাই।