পুজো প্রায় এসেই গেল৷ পাড়ায় পাড়ায় পুজোর বাদ্যি বেজে গিয়েছে৷ সেরা পুজোর লড়াইয়ে এ বলে আমায় দেখ তো ও বলে আমায়৷ এমনই কিছু বাছাই করা সেরা পুজোর প্রস্তুতির সুলুকসন্ধান নিয়ে হাজির sangbadpratidin.in৷ আজ পড়ুন হাতিবাগান সর্বজনীনের পুজোর প্রস্তুতি৷
রোহন দে: আধুনিক যুগে প্রতিনিয়ত মানুষ প্রযুক্তির মায়াজালে আবদ্ধ হয়ে পড়ছে। বর্তমান সময়ে মনের বন্ধন থেকে ছিন্ন হয়ে মানুষ যেন প্রযুক্তির বন্ধনে বেশিই আবদ্ধ হচ্ছে। ঘরে বসে গোটা দুনিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ আজ হাতের মুঠোয়। কিন্তু এটাই নাকি সর্বনাশা! সেই সর্বনাশা বন্ধন থেকে মুক্তির আহ্বান জানানোই হাতিবাগান সর্বজনীনের এবারের থিম। প্রযুক্তির জাল থেকে বেরিয়ে এসে সমাজ সভ্যতা সংস্কৃতির পথে এগিয়ে নিয়ে যেতেই ৮৪ তম বর্ষে হাতিবাগান সর্বজনীনের থিম- ‘অন্তর্জাল’।
[স্টেডিয়ামে বসে পুজো উপভোগ করতে চান? গন্তব্য হোক শহরের এই মণ্ডপ]

থিম শিল্পী দেবজ্যোতি জানার সৃজনে উত্তর কলকাতার এই ঐতিহ্যশালী পুজো এবার সেজে উঠবে এক জালে জড়িয়ে পড়া জীবনের প্রতিচ্ছবির সংমিশ্রণে। শিল্পীর কথায়, একটার পর একটা বন্ধন আবদ্ধ করে ফেলছে মানুষকে। এক বন্ধন জোড়া লাগছে তো অন্য বন্ধন আলগা হয়ে যাচ্ছে। সে মনের বন্ধনী হোক বা প্রযুক্তির বন্ধন। বাঁধন কিছুতেই পিছু ছাড়ে না। কিন্তু বর্তমানে মনের বন্ধন থেকে ছিন্ন হয়ে মানুষ যেন প্রযুক্তির বন্ধনেই বেশি আবদ্ধ। লোহার উপর একটা তার জড়িয়ে জাল দিয়ে তৈরি করা হচ্ছে মণ্ডপ। মণ্ডপের মাঝে শূন্য থেকে ঝুলে থাকবে মানুষের মস্তিষ্কের রেপ্লিকা। মানুষ কীভাবে অসহায়ভাবে মায়ার জালে জড়িয়ে পড়ছে সে বিষয়টিই তুলে ধরবেন শিল্পী। সবশেষে সমস্ত জাল ছিন্ন করে এক রাশ আলোর মাঝখানে অবস্থান করবে দেবী দুর্গার চিন্ময়ী রূপ। যিনি শুধু বাইরের নন, মনের কোণে জমে থাকা দুঃখ কষ্টের কারাগার ভেঙে বেরিয়ে আসবে। গতবার এখানে প্রতিমা ছিলেন ঝুলন্ত অবস্থায়। অনেকটা পাখির ভঙ্গিতে। এবারও থিমের সঙ্গে মানানসইভাবেই প্রতিমা গড়ছেন প্রতিমা গড়েছেন শিল্পী সৌমেন পাল। আর জয় সরকারের আবহ
দর্শনার্থীকে আরও বেশি করে মায়ার জালে জড়িয়ে দেবে। সমস্ত বন্ধনের উপর রয়েছেন স্বয়ং মা দুর্গা। যার কাছে সব বন্ধন, সব মায়া বিলীন হয়ে যায়।

[শুধু দৃষ্টিতে নয়, সমাজসেবী সংঘে এবার অনুভবেরও পুজো]
গতবারের মতো এবছরও শিল্পী দেবজ্যোতি জানার হাত ধরে পুরস্কার ঘরে আনতে চায় হাতিবাগান সর্বজনীন। তবে শুধুই পুরস্কার নয়, পুজোপ্রেমীদের প্রশংসার আশাও করছেন শিল্পী ও উদ্যোক্তারা।