সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: এতদিন পর আন্দোলন কার্যত সফল হল মারাঠাদের। মহারাষ্ট্রে এবার থেকে মারাঠাদের জন্য শিক্ষা ও চাকরিক্ষেত্রে থাকবে সংরক্ষণ। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়ণবিস রবিবার একথা জানিয়েছেন। মহারাষ্ট্রে মারাঠাদের সংরক্ষণের দাবিতে রাজ্য সরকারের কাছে রিপোর্ট পেশ করেছিল স্টেট ব্যাকওয়ার্ড ক্লাস কমিশন। মারাঠা সম্প্রদায়ের সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থা তাতে বর্ণনা করা হয়। রিপোর্ট অনুযায়ী, রাজ্যের বেশিরভাগ মারাঠাই পিছিয়ে পড়া। তাঁদের উন্নয়নের জন্য সংরক্ষণ প্রয়োজন। সেই রিপোর্টের উপর ভিত্তি করেই মুখ্যমন্ত্রী এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। শিক্ষা ও চাকরিক্ষেত্রে মারাঠাদের সংরক্ষণের দাবি অবশ্য নতুন নয়। এই দাবিতে অন্তত ৫৮ বার মিছিলে হেঁটেছেন মারাঠারা। ঔরঙ্গাবাদ থেকে এরকম মিছিলের সূত্রপাত হয় গতবছর। ‘সকল মারাঠা সমাজ’-এর ডাকে ওই মিছিলের আয়োজন করা হয়।
[ রিজার্ভ ব্যাংক দখল করে নিতে চাইছে কেন্দ্র, তোপ চিদম্বরমের ]
মারাঠা সম্প্রদায়ের জন্য ১৬ শতাংশ সংরক্ষণের দাবিতে এর আগে জুলাই মাসে কাকাসাহের শিণ্ডে নামের যুবক আত্মহত্যা করেন৷ এই ঘটনার প্রতিবাদে গত ২৫ জুলাই গোটা মুম্বইজুড়ে বনধ ডাকে মুম্বই ক্রান্তি মোর্চা৷ ঔরঙ্গাবাদের গঙ্গাপুর এলাকায় এই ঘটনায় মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়ণবিসের বিরুদ্ধে স্লোগান উঠতে শুরু করে৷ রাজ্য প্রশাসনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেন মারাঠা সম্প্রদায়ের লোকেরা৷ শিব সেনা সাংসদ চন্দ্রকান্ত খাইরে ও কংগ্রেস নেতা সুভাষ জাম্বাসের উপরও চড়াও হয় উত্তেজিত জনতা৷ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে পুলিশ৷
কিন্তু এই ঘটনা আন্দোলন দমাতে পারেনি। সংরক্ষণের দাবিতে তার পরের মাসেই মুম্বইয়ের রাজপথে মৌনমিছিল করেন প্রায় হাজার খানেক মারাঠা। আন্দোলনকারীদের হাতে ছিল গেরুয়া পতাকা। শুধু রাজপথ নয়, মহারাষ্ট্র বিধানসভাও এদিন সংরক্ষণ ইস্যুতে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। শাসক ও বিরোধী-দুই দলই বিক্ষোভ দেখায়। অন্তত তিনবার মুলতুবি রাখতে হয় বিধানসভা। বহু বিধায়ককে ‘মারাঠা মোর্চা’য় হাঁটতে দেখা যায়। মিছিলের জন্য দিনের ব্যস্ততম সময়ে জেজে ফ্লাইওভার বন্ধ করে দেওয়া হয়। দক্ষিণ মুম্বইতে বন্ধ ছিল স্কুল। মুম্বইয়ের বিখ্যাত ‘ডাব্বাওয়ালা’দের মধ্যে বেশিরভাগই মারাঠা। তাঁরাও আন্দোলনে যোগ দেন।
[ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ৩০০ ফুট গভীরে পড়ল বাস, নিহত অন্তত ১৪ যাত্রী ]