সৌরভ মাজি, বর্ধমান: ভুয়ো খবরের প্রচার আটকাতে এবার সোশ্যাল মিডিয়াকেই হাতিয়ার করল পুলিশ। শুধু তাই নয়, সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশিত কোনও তথ্য নিয়ে সন্দেহ থাকলে যে কেউ যাতে সাইবার সেলে অভিযোগ জানাতে পারেন, তার জন্য নির্দিষ্ট পোর্টালও তৈরি হল। সচেতনতা বাড়াতে এই উদ্যোগ নিয়েছে পূর্ব বর্ধমান জেলা পুলিশের সাইবার সেল। বর্তমানে ভুয়ো খবর ও গুজবে ছেয়েছে সোশ্যাল মিডিয়া। এর জেরে মানুষের কাছে ভুল বার্তা যাচ্ছে একইসঙ্গে শান্তিও বিঘ্নিত হচ্ছে। এই গোটা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে পুলিশ। স্যোশাল মিডিয়ায় ভুয়ো খবরের শেয়ার আটকাতে সচেতনতার প্রচার শুরু হয়েছে। পাশাপাশি কোনও ভুয়ো খবর প্রচারিত হচ্ছে জানতে পারলে সুনির্দিষ্ট পোর্টালে অভিযোগ জানানোর পরামর্শও দেওয়া হচ্ছে।
জেলা পুলিশের এক কর্তা বলেন,“ভুয়ো খবরের প্রচার আটকাতে সচেতনতাকেই হাতিয়ার করা হচ্ছে। সাধারণ মানুষ সচেতন হলে ভুয়ো খবর রোখা যাবে। তাছাড়া এসব ক্ষেত্রে আইনি পদক্ষেপেরও ব্যবস্থা রয়েছে।” পুলিশের তরফে সাধারণ মানুষকে বার্তা দেওয়া হচ্ছে, ‘আসুন সবাই মিলে মিথ্যা খবরের প্রচার বন্ধ করি।’ সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশিত তথ্যের সত্যতা যাচাই না করে তা শেয়ার না করাই ভাল। যদি দেখা যায় এমন কোনও খবর শেয়ার হচ্ছে তাহলে অবশ্যই সাইবার সেলে জানান। ‘সাইবার পেট্রল ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম’ নামে একটি পোর্টাল চালু করেছে সিআইডি। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভুযো খবর শেয়ার হচ্ছে, এটা দেখতে পেলেই অনলাইনের মাধ্যমে ওই পোর্টালে অভিযোগ দায়ের করতে পারেন।
[মুক্ত সংশোধনাগার দেখাচ্ছে আশার আলো, সৎ পথে ফিরছে সাজাপ্রাপ্ত আসামীরা]
সিআইডি সূত্রের খবর, এই পোর্টাল শুধু অভিযোগই জানানোর জন্যেই কাজ করছে এমন নয়। এখানে কীভাবে ই-মেলের মাধ্যমে আর্থিক প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণা করা হয়, সোশ্যাল মিডিয়ায় কীভাবে অপরাধ সংগঠিত হয়, মোবাইলে অ্যাপ সংক্রান্ত অপরাধ কীভাবে করা হয়, লটারি সংক্রান্ত অপরাধ, অনলাইন লেনদেনে কীভাবে প্রতারিত হতে পারেন সেই সংক্রান্ত যাবতীয় পরামর্শ রয়েছে পোর্টালে।
জেলায় সম্প্রতি সাইবার অপরাধের সংখ্যা বেড়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় কখনও ভুয়ো খবর, গুজব ছড়িয়ে শান্তি বিঘ্নিত করা হচ্ছে।বছর দুয়েক আগে এইভাবে বর্ধমানের কালনা-সহ বিভিন্ন জায়গায় ছেলেধরার গুজব ছড়ায়। তার ফলে গণপ্রহারে কয়েক জনের মৃত্যুও ঘটে। কয়েকমাস আগে একইভাবে ভুয়ো খবরে অজানা জ্বরের আতঙ্ক ছড়ায়। এসব আটকাতেই সচেষ্ট হয়েছে পুলিশ। চলছে সচেতনতামূলক প্রচার।
ছবি: মুকুলেসুর রহমান।