সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: সন্তানদের আগলে রাখাই মায়েদের ধর্ম৷ প্রয়োজনে নিজের প্রাণ বাজি রেখেও নাকি সন্তানদের সুস্থ রাখেন মায়েরা৷ কিন্তু মুম্বইয়ে যে ঘটনাটি ঘটল তা প্রকৃত অর্থে ব্যতিক্রমী৷ রাস্তার পাশের শৌচালয়ে সন্তান জন্ম দেওয়ার পর দেহ লোপাটের চেষ্টা খোদ মায়ের৷ এই কুকর্মের জেরে যদিও ইতিমধ্যেই ওই তরুণীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ৷ প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে তরুণীকে৷ পুলিশ আধিকারিকদের দাবি, সুস্থ হওয়ার পরই তাকে নিয়ে যাওয়া হবে শ্রীঘরে৷
[জলাশয়ে আত্মহত্যা এইডস আক্রান্ত মহিলার, সংক্রমণের ভয়ে জলবদল গ্রামবাসীর]
মর্মান্তিক এই ঘটনাটি ঘটেছে গত সোমবার৷ অভিযুক্ত ওই তরুণীর নাম সুপ্রিয়া সূর্যকান্ত কানেকর৷ ওইদিন রাস্তার পাশে একটি শৌচালয়ে যায় সুপ্রিয়া৷ শৌচালয়ের কমোডেই একটি কন্যাসন্তানের জন্ম দেয় সে৷ অভিযোগ, শিশুটি মারা গিয়েছে বলেই মনে করে সে৷ এরপর কমোডে ফ্লাশ চালিয়ে দেয় তরুণী৷ ইতিমধ্যেই সে বুঝতে পারে বাইরে থেকে কেউ শৌচালয়ে ঢুকছেন৷ সন্তান জন্মানোর ঘটনার সঙ্গে তার নাম জড়াক কিংবা বিষয়টি জানাজানি হোক, তা চায়নি তরুণী৷ তাই শৌচালয়ে কেউ ঢোকার আগেই তড়িঘড়ি ঘটনাস্থল ছাড়ে সে৷ কিন্তু শৌচালয়ে ঢুকে কমোডের দিকে নজর যায় অন্য এক মহিলার৷ সদ্যোজাতের মৃতদেহ দেখে আঁতকে ওঠেন তিনি৷ চিৎকার-চেঁচামেচি করতে শুরু করেন৷ মুহূর্তের মধ্যেই গোটা ঘটনা আশেপাশের বাসিন্দাদের মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়ে৷ স্থানীয় বাসিন্দাদের মাধ্যমে খবর পৌঁছায় পুলিশের কাছেও৷ পুলিশ আধিকারিকরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে সদ্যোজাতের দেহ উদ্ধার করেন৷ তার দেহ ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে৷
[মাতৃদুগ্ধ খাব কোথায়? আদালতের দ্বারস্থ ৯ মাসের শিশু]
তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, সুপ্রিয়া সূর্যকান্ত কানেকর নামে ওই তরুণী আম্বোলির বাসিন্দা৷ সদ্যোজাতকে খুনের অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ৷ পুলিশি জেরায় ভেঙে পড়ে সুপ্রিয়া৷ শারীরিক অসুস্থতার কারণে সুস্থ সন্তান জন্ম দিতে পারেনি সে৷ সন্তানকে মৃত দেখেই কমোডের ফ্লাশ চালিয়ে দিয়েছিল বলেও জেরায় স্বীকার করে সুপ্রিয়া৷ আম্বোলি থানার পুলিশ আধিকারিক ভারত গায়কোয়াড় জানান, সন্তান প্রসব দেওয়ার পর থেকেই ওই তরুণীর শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত খারাপ৷ তাই স্থানীয় হাসপাতালেই আপাতত ভরতি করা হয়েছে তাকে৷ তবে সুস্থ হওয়ার পরই আবারও নিজেদের হেফাজতে নিয়ে জেরা করা হবে ওই তরুণীকে৷