নন্দিতা রায়, নয়াদিল্লি: রাজস্থান, ছত্তিশগড়, মধ্যপ্রদেশে বড় ব্যবধানে জয় কংগ্রেসের। দেশের প্রধান বিরোধী দলের এই জয় যেন চাঙ্গা করে দিয়েছে কর্মী-সমর্থকদের। কপিল সিব্বল বলছেন, “এই জয় রাহুল গান্ধীর। এটা কংগ্রেস, দলের কর্মীদের জয়।” তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও দেশের অন্য বিরোধী নেতারা বলছেন, এটা শুধু কংগ্রেসের জয় নয়। মঙ্গলবার সাংবাদিক বৈঠকে কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী জানালেন, আজ বিজেপিকে হারিয়েছি। ২০১৯ সালেও হারাবে কংগ্রেস। এই জয় কংগ্রেস কর্মীদের জয়।
#WATCH live from Delhi: Congress President Rahul Gandhi addresses the media https://t.co/T5Pnun5d8p
Advertisement— ANI (@ANI) December 11, 2018
ভোটের ফল নিয়ে মশকরা সোশ্যাল মিডিয়ায়, মজার মিমে মজে নেটিজেনরা
এদিন সন্ধ্যায় সাংবাদিক বৈঠকে আসেন রাহুল গান্ধী। তিন রাজ্যে বড় জয়ের পর বলেন, “নির্বাচনে পাশে থাকার জন্য রাজ্যের মানুষ, কংগ্রেস কর্মীদের ধন্যবাদ দিতে চাই। তেলেঙ্গানা, মিজোরামের জয়ী প্রার্থীদেরও শুভেচ্ছা। এই জয় কংগ্রেস কর্মী, যুবক, কৃষক, ছোট ব্যবসায়ীদের জয়। রাজ্যে সব সমস্যা গুরুত্ব দিয়ে দেখবে কংগ্রেস। মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান, ছত্তিশগড়ে আমরা বিজেপিকে হারিয়েছি। সেখানকার মুখ্যমন্ত্রীদের হারিয়েছি। তাঁদেরও এতদিন রাজ্যের উন্নয়ন করার জন্য তাঁদের কংগ্রেসের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ।” সাংবাদিক বৈঠকে রাহুল জানান, এই জয়ের পর কংগ্রেসের দায়িত্ব বেড়ে গেল। রাহুল বলেন, “মানুষ জিএসটি, নোটবন্দি নিয়ে খুশি নয়। কংগ্রেসের জয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্পষ্ট বার্তা।” রাহুল বলেন, “বিজেপির একটি ভাবমূর্তি আছে। আমরা সেই ভাবমূর্তিকে হারাতে চাই। আজ হারিয়েছি। ২০১৯ সালেও হারাব।”
রাজস্থান-ছত্তিশগড়ে জয় পেলেও এই বিষয়গুলি চিন্তায় রাখবে কংগ্রেসকে
২০১৯ লোকসভা নির্বাচনের আগে এই বিধানসভা নির্বাচনকে সেমিফাইনাল হিসেবে ধরা হয়েছিল। এই জয় কতটা প্রভাব পড়বে? রাহুল জানান, লোকসভা ভোটে সব বিরোধীকে একজোট হয়ে লড়তে হবে৷ তবেই বিজেপিকে হারানো সম্ভব৷ রাহুল সাফ বলেন, “প্রধানমন্ত্রী যা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তা রাখেননি। গতকাল আপনারা বৈঠক দেখেছেন। আমরা অনেক ঐক্যবদ্ধ। বিজিপিকে মানুষ চাইছে না।” কংগ্রেস হয়তো জিতেছে। কিন্তু নির্বাচনে ইভিএম সমস্যা নিয়ে অনড় থাকলেন রাহুল। তিনি বলেন, “ইভিএমে এখনও সমস্যা আছে। ইলেকট্রনিক যন্ত্রের ভিতরে চিপ আছে। তা বদলালেই গোটা দেশের ভোট পালটে যায়।” লোকসভা নির্বাচনে এবারের ইস্যু নিয়েই আক্রমণ করবে কংগ্রেস ও বিরোধী দলগুলো। রাহুল বলেন, “আমরা অর্থনৈতিক বিষয়গুলো নিয়ে প্রশ্ন করেছি প্রধানমন্ত্রীকে। কিন্তু জানি, প্রধানমন্ত্রী প্রতিক্রিয়া দিতে পারবেন না। মানুষ কী চাইছে, সেটা শুনতে পাচ্ছেন না তিনি। তরুণ প্রজন্ম বা কৃষকরা কী বলছেন, শুনতে পাচ্ছেন না ।”
তিন রাজ্যে কংগ্রেস ক্ষমতায় আসছে। রাহুল জানান. কংগ্রেস ক্ষমতায় এলে সবথেকে বেশি সুবিধা পাবেন কৃষকরা। কংগ্রেস সভাপতি বলেন, “মানুষ যা চেয়েছে, বিজেপি সেগুলো দেশকে দিতে পারেনি। কংগ্রেস গোটা দেশকে দেখিয়ে দিয়েছে, তারা আসলে কী। কংগ্রেস কর্মীদের আমি এই জয়ের জন্য আবার ধন্যবাদ দিতে চাই। দেশের প্রধান ইস্যু রোজগার ও কৃষকদের সমস্যা। জিতলে মানুষের স্বার্থে সেদিকেই আমরা নজর দিতে চাই।”