ধীমান রায়, কাটোয়া: বাবা-মা ইটভাটার শ্রমিক, অভাবের সংসার। বড়দিনের আনন্দ ওদের কাছে বিলাসিতা। মঙ্গলবার সান্তাক্লজ সেজে কাটোয়া শহরের শতাধিক শিশুর হাতে ক্রিসমাসের কেক ও মিষ্টি তুলে দিলেন একদল তরুণ-তরুণী।
কেউ শিক্ষকতা করেন, কারও আবার ব্যবসা, খেটে খাওয়া পরিবারের শিশুদের সঙ্গে বড়দিনের আনন্দ ভাগ করে নিলেন কলেজ পড়ুয়ারাও। পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়া শহরের বাসিন্দা দেবপ্রিয় মন্ডল, অনিতা সাহারা জানালেন, ‘প্রতিবছর আমরা পিকনিক যাই। এবছর পিকনিক বাতিল হয়েছে। তাই পিকনিকে খরচের টাকা পথশিশু ও গবির পরিবারের শিশুদের জন্য ব্যয় করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’ কাটোয়া শহরের মরিঘাট এলাকার কাছে রয়েছে একটি ইটভাটা। ইটাভাটায় কাজ করেন একশোরও বেশি শ্রমিক। অনেকে আবার ভিনরাজ্যের। ইটভাটার কাছে ঝুপড়িতে থাকে শ্রমিক পরিবারগুলি। দিনভর কাজে ব্যস্ত থাকেন বাবা-মায়েরা, আর শিশুসন্তানরা ইতিউতি ঘুরে বেড়ায়। কেউ কেউ মাঝেমধ্যে স্কুলে যায় ঠিকই। তবে বেশিরভাগই স্কুলের চৌকাঠ মাড়ায়নি। মঙ্গলবার সকালে সান্তক্লজ সেজে ইটভাটায় পৌঁছে গিয়েছিলেন কাটোয়া শহরের জনা কুড়ি যুবক-যুবতী। শ্রমিকদের পরিবারের শিশুদের হাতে সান্তাক্লজের টুপি, কেক ও মিষ্টি তুলে দিলেন তাঁরা। বড়দিন উপহার পেয়ে বেজায় খুশি কচিকাঁচারা। তবে শুধু ইটভাটায়ই নয়, এদিন বড়দিনের উপহার পেয়েছে কাটোয়া শহরের পথশিশুরাও। এদিকে আবার বর্ধমানে গুসকরায় শতাধিক দুঃস্থ পরিবারের শিশুদের হাতে বড়দিনের উপহার তুলে দিয়েছে তৃণমূল ছাত্র পরিষদ। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আউশগ্রাম ১ ব্লক তৃণমূল ছাত্রনেতা গনেশ পাঁজা।
ছবি: জয়ন্ত দাস
[ ডুয়ার্সের চা বাগানে ফের খাঁচাবন্দি চিতাবাঘ, দেখুন ভিডিও]