সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: একের পর এক বিতর্কে জড়াচ্ছে সবরীমালা। বুধবার যখন একদিকে দুই মহিলার মন্দিরে প্রবেশ নিয়ে বিক্ষোভ চলছে, তখন অন্যদিকে সেই বিক্ষোভের মাঝেই এক মহিলা সাংবাদিককে হেনস্তার শিকার হতে হল। কিন্তু পরিস্থিতি তাঁকে নিজের কর্তব্য থেকে টলাতে পারল না। যন্ত্রণায় কাঁদতে কাঁদতেই নিজের কাজ করলেন তিনি। সেই ছবি এখন ভাইরাল নেটদুনিয়ায়।
বুধবার দুই মহিলার মন্দিরে প্রবেশ নিয়ে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে সবরীমালা। বিক্ষোভের ছবি জনসমক্ষে তুলে ধরতে সেখানে উপস্থিত হয়েছিল একাধিক সংবাদমাধ্যম। স্থানীয় একটি টেলিভিশন চ্যানেল থেকে শাজিলা আবদুলরহমান নামে এক মহিলা চিত্রসাংবাদিকও পেশার খাতিরেই যান বিক্ষোভের ছবি তুলতে। কিন্তু সেখানে গিয়ে তাঁকে হেনস্তার শিকার হতে হয়। তাঁর গলায় ও ঘাড়ে বারবার আঘাত করা হয়। তাঁর ক্যামেরা ছিনিয়ে নেওয়ারও চেষ্টা করা হয়। কিন্তু এমন পরিস্থিতিতেও কর্তব্যচ্যুত হননি ওই মহিলা চিত্রগ্রাহক। ক্রমাগত ছবি তুলে যান তিনি।
[ সুপ্রিম কোর্টে ফের পিছোল অযোধ্যা মামলার শুনানি ]
তাঁর এই পেশাদারিত্বের ছবি প্রকাশ হয় স্থানীয় একটি সংবাদপত্রে। মুহূর্তের মধ্যে সেই ছবি ভাইরাল হয়ে যায়। ছবিতে দেখা গিয়েছে, তীব্র যন্ত্রণা সহ্য করেও নিজের কাজ করে যাচ্ছেন শাজিলা। তাঁর সাহসিকতা ও পেশাদারিত্বের জন্য তাঁকে বাহবা জানিয়েছেন অনেকে। সেই সঙ্গে উঠেছে নিন্দার ঝড়। একজন নিজের পেশার খাতিরে কাজ করতে গিয়েও আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা মেনে নিতে পারছে না নেটিজেনরা। ঘটনাটি নিয়ে সরব হয়েছে তারা।
বুধবার চিরাচরিত প্রথা ভেঙে সবরীমালা মন্দিরে ঢোকেন দুই মহিলা। তাঁদের দু’জনেরই বয়স ৫০-এর নিচে। তাঁদের একজনের নাম বিন্দু, অপরজনের নাম কণকদুর্গা। প্রার্থনা সেরে দিনের আলো ফোটার আগেই চলে যান তাঁরা। তাঁদের নিরাপত্তার জন্য মোতায়েন ছিল পুলিশকর্মী। কিন্তু ঘটনার পর পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হতে থাকে। ঘটনার কথা প্রকাশ্যে আসতেই শুদ্ধিকরণের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয় মন্দিরের দরজা। একঘণ্টা পর ফের দরজা খোলা হয়। ততক্ষণ কোনও ভক্ত মন্দিরে ঢুকতে না পারার জন্যও সমস্যা তৈরি হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজধানী তিরুবনন্তপুরম-সহ বিভিন্ন এলাকায় বিজেপি ও সিপিএম কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। কেরলের রাজধানীতে সেই বিক্ষোভের ছবিই সংগ্রহ করতে গিয়েছিলেন শাজিলা।
[ ট্রাম্পের লাইব্রেরি খোঁচায় মোদির সমর্থনে কংগ্রেস ]