সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: ছবি মুক্তির আগে তা নিয়ে বিতর্ক যেন এখন বলিউডে ট্রেন্ডে পরিণত হয়েছে। ‘কেদারনাথ’ থেকে ‘মণিকর্ণিকা’, ‘দ্য অ্যাক্সিডেন্টাল প্রাইম মিনিস্টার’ থেকে ‘পদ্মাবত’, মুক্তি পাওয়ার আগে সব ছবিকেই কিছু না কিছু বিপাকে পড়তে হয়েছে। যে তালিকায় ইতিমধ্যেই নাম লিখিয়েছে নওয়াজউদ্দিন সিদ্দিকির ‘ঠাকরে’। মুক্তির আগে আরও একবার বিতর্কের মুখে ছবিটি।
[#10yearchallenge-এ গা ভাসিয়েছেন? জানেন কী বিপদ ডেকে আনছেন?]
শিব সেনার প্রতিষ্ঠাতা বাল ঠাকরেকে নিয়ে তৈরি হয়েছে ছবিটি। ইতিমধ্যেই মুক্তি পেয়েছে ছবির ট্রেলার। এবং ট্রেলার প্রকাশ্যে আসার পরই সমালোচনায় বিদ্ধ হয়েছিল ঠাকরে। ছবিতে নওয়াজউদ্দিনের একটি সংলাপ আছে যেখানে তিনি বলেছেন, ‘উঠাও লুঙ্গি, বাজাও পুঙ্গি’। আর এই সংলাপ নিয়েই তৈরি হয়েছে বিতর্ক। সেন্সর বোর্ডের তরফে সাফ জানানো হয়েছে, এমন সংলাপ ছবি থেকে বাদ দিতেই হবে। মহারাষ্ট্রে অবস্থিত দক্ষিণ ভারতের বাসিন্দাদের কটাক্ষ করে ১৯৬০ সালে এই ভাষাই ব্যবহার করত শিব সেনা। সেই ঘটনাকেই ছবিতে তুলে ধরা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে এর আগে আপত্তি তুলেছিলেন দক্ষিণী অভিনেতা সিদ্ধার্থও। অভিনেতা টুইট করেন, “একাধিক জায়গায় এই কথাটি আওড়েছেন নওয়াজ অভিনীত ‘ঠাকরে’। এটি দক্ষিণ ভারতীয়দের জন্য খুবই অপমানজনক। ঘৃণা বিক্রি করা বন্ধ করুন।”
[রণবীরের জন্য তিনটি নতুন নিয়ম চালু করেছেন দীপিকা!]
সেন্সর বোর্ড আপত্তি দেখালেও নিজেদের অবস্থানে অনড় ছবির নির্মাতারা। জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, বাল ঠাকরের জীবনকাহিনি যখন দেখানো হবে, তখন তাঁর ভাল-মন্দ সবদিকই তুলে ধরা হবে। তাই ছবিতে কাঁচি চালাতে দিতে নারাজ তাঁরা। প্রসঙ্গত, এর আগে ছবির দুটি দৃশ্য নিয়ে আপত্তি তুলেছিল সেন্সর বোর্ড (সিবিএফসি)। একটি দৃশ্যে বাবরি মসজিদ ভাঙার উল্লেখ রয়েছে। যে ইস্যু এখন বিচারাধীন। তাই সেন্সর বোর্ড চায় না, ছবিতে এমন কোনও বিতর্কিত ইস্যু থাকুক। আরও একটি দৃশ্য কেটে বাদ দিতে চায় বোর্ড। যেখানে নওয়াজ ওরফে বাল ঠাকরে মুম্বইয়ে বসবাসকারী দক্ষিণ ভারতীয়দের ‘ইয়ুন্ডু-গুন্ডু’ বলে উল্লেখ করেছেন। তবে রাউত জানিয়েছিলেন, কোনও ঘটনাই বাদ দেওয়া হবে না। পরে অবশ্য ছবির মারাঠি ভার্সন থেকে ওই দুই দৃশ্য সরিয়ে ফেলতে রাজি হন তাঁরা। এখন দেখার আগামী ২৫ জানুয়ারি হিন্দি ভাষায় ছবিটি এসব দৃশ্য নিয়েই মুক্তি পায় কি না।