সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: অন্তর্বর্তী বাজেটে ভারপ্রাপ্ত অর্থমন্ত্রীর একের পর এক ঘোষণায় ভ্রূ কুঁচকেছিলেন বিরোধীরা। সাধারণত ভোটের আগের শেষ বাজেটে বড় কোনও ঘোষণা করে না সরকার। ভোট অন অ্যাকাউন্ট পেশ করা হয়। যাতে মূলত ভোট শেষ হওয়া পর্যন্ত তিন মাসের আয়ব্যায়ের হিসেব দেওয়া হয়। নতুন সরকার ক্ষমতায় এসে পেশ করে অন্তর্বর্তী বাজেট। কিন্তু এবছর মোদি সরকার প্রথা ভেঙেছে। ভোট অন অ্যাকাউন্ট নয়, তাঁরা পেশ করেছেন অন্তর্বর্তী বাজেট। আর এতেই আপত্তি জানিয়েছেন এক আইনজীবী। তাঁর দাবি, পীযূষ গোয়েল যে বাজেট পেশ করেছেন তা বেআইনি। এই বাজেট খারিজ করারও দাবি জানিয়েছেন তিনি।
[বাজেটে পরপর ছক্কা মোদির, গালে হাত দিয়ে বসে রইলেন ‘হতাশ’ রাহুল]
অ্যাডভোকেট মনোহরলাল শর্মার দাবি, সংবিধান মতে শুধুমাত্র পূর্ণাঙ্গ বাজেট বা ভোট অন অ্যাকাউন্ট পেশ করা যায়। কোনওভাবেই অন্তর্বর্তী বাজেট পেশ করা যায় না। সংবিধানে এই ধরনের বাজেটের কোনও উল্লেখ নেই। বাজেট পেশের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তিনি সুপ্রিম কোর্টে আবেদনটি করেন। তাঁর দাবি, এই বাজেট সম্পূর্ণ বেআইনি এবং তা বাতিল হওয়া উচিত। যদিও, সর্বোচ্চ আদালত এই মামলা গ্রহণ করবে কিনা তা জানতে এখনও অপেক্ষা করতে হবে সোমবার পর্যন্ত।
[‘ভোটের জন্য মন্দিরের কথা বলে ওঁরা’, কেন্দ্রকে তোপ মোহন ভগবতের]
শুক্রবারই সংসদে অন্তর্বর্তী বাজেট পেশ করেছেন অর্থমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল। বাজেটে ঘোষণা করা হয়েছে, ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত রোজগার হলে কোনও আয়কর দিতে হবে না। যে সব কৃষকদের ২ হেক্টরের কম জমি আছে তাদের জন্য বার্যিক ৬ হাজার টাকা অনুদান ঘোষণা করা হয়েছে। অসংগঠিত ক্ষেত্রের শ্রমিকদের জন্য বিশেষ পেনশন স্কিম চালুর কথা ঘোষণা করা হয়েছে। শিল্পক্ষেত্রের শ্রমিকদের ন্যূনতম পেনশন, এবং দুর্ঘটনা হলে ক্ষতিপূরণের পরিমাণ বাড়ানো হয়েছে। মোদি সরকারের এই বিপুল ঘোষণাকে বিরোধীরা জুমলা বলে কটাক্ষ করতে ছাড়ছেন না। প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী পি চিদম্বরম বলছেন, এটা ভোট অন অ্যাকাউন্ট নয়, অ্যাকাউন্ট অন ভোট বাজেট। এরই মধ্যে এই আইনজীবীর আবেদন বাজেটের ভবিষ্যত নিয়েই প্রশ্ন তুলে দিল।