রঞ্জন মহাপাত্র, কাঁথি: কাঁকুড়গাছিতে ছেলেধরা সন্দেহে যুবককে মারধরের ঘটনার পর চব্বিশ ঘণ্টাও কাটেনি৷ তারই মধ্যে একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি রাজ্যে। এবার ঘটনাস্থল পূর্ব মেদিনীপুরের কাঁথির গুড়গ্রাম। ছেলেধরা সন্দেহে এক ব্যক্তিকে মারধরের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা এলাকায়। ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার সন্ধেয়। খবর পেয়ে ভগবানপুর থানার পুলিশ গিয়ে ওই ব্যক্তিকে উদ্ধার করে। তবে এখনও আক্রান্তের নাম, পরিচয় জানা যায়নি৷
[২ লক্ষ টাকা করে সাহায্য, শহিদদের পরিবারের পাশে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়]
পুলিশ সূত্রে খবর, শনিবার রাতে পূর্ব মেদিনীপুরের কাঁথির গুড়গ্রাম এলাকায় ঘোরাফেরা করছিলেন ওই ব্যক্তি। তাঁর চেহারা ও আচার আচরণ দেখে সন্দেহ হয় স্থানীয়দের। অভিযোগ, এরপরই তাকে কেলেঘাই নদীর ধারে একটি ইট ভাটায় নিয়ে যায় স্থানীয়রা। সেখানে শিশুচোর সন্দেহে ওই ব্যক্তিকে বেধড়ক মারধর করা হয় বলে সূত্রের খবর। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় ভগবানপুর থানার পুলিশ। আক্রান্ত ব্যক্তিকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায় তাঁরা। পুলিশ সূত্রে খবর, আক্রান্ত ওই ব্যক্তি মানসিক ভারসাম্যহীন। ভবঘুরে হওয়ায় ওই ব্যক্তির নাম-পরিচয় নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করেও কার্যত কিছু জানা যায়নি বলেই সূত্রের খবর।
[‘যেটা পারবেন সেটা বলুন’, কর্মীদের ধমক অনুব্রতর]
শুক্রবার রাতেই কাঁকুড়গাছি এলাকায় অপরিচিত এক ব্যক্তিকে ছেলেধরা সন্দেহে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ ওঠে স্থানীয়দের বিরুদ্ধে। ফুলবাগান থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে তাদের সঙ্গেও হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েছিলেন স্থানীয়রা। ঘটনায় গ্রেপ্তার করা হয়েছিল ১৭ জনকে। অন্যদিকে, কয়েকদিন আগেই পূর্ব মেদিনীপুরের পাঁশকুড়া এলাকাতেই ২ যুবককে ছেলেধরা সন্দেহে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ ওঠে স্থানীয়দের বিরুদ্ধে। প্রশাসনের হাজার প্রচার সত্ত্বেও হঁশ ফিরছে না সাধারণ মানুষের। বারবার রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে শিশুচোর সন্দেহে ঘটছে মারধরের ঘটনা। তবে কি ফাঁক থেকে যাচ্ছে প্রচারেই, উঠছে প্রশ্ন।