সুমিত বিশ্বাস, পুরুলিয়া: রেলের মানবিকতায় স্টেশনের প্ল্যাটফর্মেই কন্যা সন্তান প্রসব করলেন এক যাত্রী। শনিবার পুরুলিয়া স্টেশনের দু’নম্বর প্ল্যাটফর্মে সন্তান প্রসব করেন আসামের ডিব্রুগড়ের বাসিন্দা মুসকান কেরকেট্টা। বর্তমানে সন্তান-সহ তিনি দেবেন মাহাতো পুরুলিয়া সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ওই শিশুকন্যাটি হাসপাতালের নবজাতক শিশু পরির্চযা কেন্দ্রে ভরতি রয়েছে। রেল স্টেশনে সন্তান প্রসবের সময় রেলের সহযোগিতায় ভীষণই খুশি কেরকেট্টা দম্পতি।
এদিন তামবরম-ডিব্রুগড় এক্সপ্রেসে কেরকেট্টা দম্পতি তাঁদের মূল বাড়ি ডিব্রুগড় যাচ্ছিলেন। স্ত্রী মুসকান সন্তানসম্ভবা থাকায় স্বামী অভিরাম কেরকেট্টা ওই ট্রেনে রাতে জেগেই ছিলেন। তবে ভোরের দিকে তিনি ঘুমিয়ে গিয়েছিলেন। সেইসময় তার স্ত্রী মুসকান প্রসব যন্ত্রনায় ছটফট করতে থাকেন। ওই অবস্থায় ট্রেনেই চিল চিৎকার শুরু করেন তিনি। তখনই ঘুম ভেঙে যায় অভিরামের।
[ ছেলেধরা সন্দেহে ফের গণপিটুনি, বর্ধমানের জামালপুরে আক্রান্ত যুবক ]
সেইসময় ওই এক্সপ্রেস ট্রেনটি পুরুলিয়া স্টেশনে ঢুকছিল। অভিরামবাবু ট্রেন থেকেই ‘হেল্প-হেল্প’ বলে চিৎকার করতে থাকেন। কোনও এক্সপ্রেস ট্রেনে ঢুকলেই স্টেশনে টহল দেন রেল রক্ষী বাহিনীর জওয়ানরা। ফলে তাঁরা ওই চিৎকার শুনতে পান। ট্রেন থামতেই সঙ্গে সঙ্গে তারা সমগ্র বিষয়টি শুনে রেলের চিকিৎসক, নার্সদের খবর দেন। নিয়ে আসা হয় চাদর। তারপর প্ল্যাটফর্মের এক প্রান্তে চাদর ঘিরে সন্তান প্রসবের কাজে হাত লাগান রেলের স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মীরা। এদিন তার স্ত্রী কন্যা সন্তান জন্ম দেওয়ার পরেই অভিরাম কেরকেট্টা জানান, “রেলকর্মীরা এভাবে পাশে না দাঁড়ালে কি হত কে জানে। তাঁরা যে কাজ করলেন সেজন্য তাদের কাছে আমি চিরকালই ঋণী থাকব।”
ছবি: সুমিতা সিং
[ মধুচক্রের প্রতিবাদ, মালদহে বৃদ্ধকে পিটিয়ে খুনের অভিযোগ ]