Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
  • শনিবার
  • ৬ জুন ২০২৬

সুপার কাপ খেলার দাবিতে অনড় ইস্টবেঙ্গল, কোয়েসকে সময় দেওয়া হল ৪৮ ঘণ্টা

৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই ঠিক হয়ে যাবে কোয়েস-ইস্টবেঙ্গল সম্পর্কের ভবিষ্যৎ।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: মার্চ ১৯, ২০১৯, ০৯:৪১

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: মার্চ ১৯, ২০১৯, ০৯:৪১

options
link
সুপার কাপ খেলার দাবিতে অনড় ইস্টবেঙ্গল, কোয়েসকে সময় দেওয়া হল ৪৮ ঘণ্টা zoom

স্টাফ রিপোর্টার: কোয়েস আর ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের মধ্যে ২৫৫ দিনের মধুচন্দ্রিমা শেষ পর্যন্ত বিচ্ছেদের দিকেই এগোবে কি না, তা নির্ভর করবে আগামী ৪৮ ঘণ্টার উপর। কেন না, এই ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই কোয়েস চেয়ারম্যান অজিত আইজ্যাককে জানাতে হবে, ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের কার্যকরী কমিটির সঙ্গে সম্মতি রেখে তিনি সুপার কাপ আর আইএসএল খেলতে রাজি আছেন কি না। এই মর্মেই কোয়েস চেয়ারম্যানকে চিঠি পাঠানো হয়েছে। যা পাঠানো হয়েছে অল ইন্ডিয়া ফুটবল ফেডারেশনকেও। এই চিঠির কথা কোয়েস কর্ণধার অজিত আইজ্যাক যখন শুনলেন, তখন তিনি সবে ব্যাংককে পৌঁছেছেন। বললেন, “আমি এখনও বিমানের ভেতরে বসে রয়েছি। তাই আমার পক্ষে জানা সম্ভব নয়, ইস্টবেঙ্গল আমাকে কী মেল করেছে।”

[স্পনসর আসবেই, বিক্ষুব্ধ সমর্থকদের আশ্বস্ত করলেন মোহনবাগান সচিব টুটু বোস]

কার্যকরী কমিটির মিটিং উপলক্ষে এদিন বিকেল থেকেই ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের সামনে সদস্য সমর্থকদের ভিড়। কারও হাতে প্ল্যাকার্ড। কারও হাতে পোস্টার। লেখা রয়েছে, আমরা সুপার কাপ, আইএসএল খেলতে চাই। মোহনবাগান আর মিনার্ভার সঙ্গে জোট করা চলবে না। সঙ্গে স্লোগানও চলছে ঘনঘন। যে মিনার্ভা শেষ ম্যাচে অন্যরকম খেলে ইস্টবেঙ্গলকে আই লিগ পাওয়া থেকে বঞ্চিত করেছে, সেই মিনার্ভার সঙ্গে কোয়েস ইস্টবেঙ্গল এফসি কেন জোট বাঁধবে? এই নিয়ে সমর্থকদের ভেতর তখন প্রশ্ন। এর মধ্যেই অবশ্য ক্লাব তাঁবুতে শুরু হয়ে গিয়েছে কার্যকরী কমিটির মিটিং। কিছুদিন আগে ফেডারেশন সচিব কুশল দাস ইস্টবেঙ্গল সভাপতি ডাঃ প্রণব দাশগুপ্তকে চিঠি দিয়ে জানতে চেয়েছিলেন, সুপার কাপ এবং আইএসএল খেলা নিয়ে ক্লাবের সিদ্ধান্ত কী?

২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'নজরে নবান্ন' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

এই মুহূর্তে শহরে না থাকায় সভাপতি নিজে আসতে পারেননি কার্যকরী মিটিংয়ে। মোট ২৯ জন সদস্যদের মধ্যে এদিন মিটিংয়ে উপস্থিত ছিলেন ২৫ জন। তবে মিটিং শুরু হওয়ার আগেই অন্যতম শীর্ষকর্তা দেবব্রত সরকার পরপর মেসেজ বার্তা পান প্রাক্তন ফুটবলারদের। সমরেশ চৌধুরি, সুরজিৎ সেনগুপ্ত থেকে শুরু করে ভাস্কর গঙ্গোপাধ্যায়, অতনু ভট্টাচার্য, চন্দন দাস, অমিত দাসরা পরপর বার্তা পাঠাতে থাকেন, ইস্টবেঙ্গল যেন কোনওমতেই সুপার কাপে ওয়াকওভার না দেয়। অতনু ভট্টাচার্য লেখেন, “ইস্টবেঙ্গল ক্লাবে খেলার পাশাপাশি কোচিং করিয়েছি। কখনও ওয়াকওভার দেওয়ার কথা ভাবিনি।” প্রাক্তন ফুটবলাররা সুপার কাপ এবং আইএসএলে খেলার পক্ষে সম্মতিসূচক বার্তা দেওয়ায় মিটিংয়ে সিদ্ধান্ত নিতে সুবিধা হয়ে যায় কর্তাদের। কেন না, কর্তারা বলেন, “ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের ইতিহাসে আজ পর্যন্ত কখনও কোনও ম্যাচে ওয়াকওভার দেওয়া হয়নি। এবারও হবে না। খেলা হবে সুপার কাপ এবং আইএসএলে।” কিন্তু কোয়েসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা আই লিগের অন্যান্য ক্লাবের সঙ্গে জোটে থেকে খেলবে না সুপার কাপ। তাহলে উপায়? ঠিক হয়, কোয়েস চেয়ারম্যানকে চিঠি পাঠিয়ে বলা হবে, ক্লাবের কার্যকরী কমিটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে, খেলতে হবে সুপার কাপ এবং আইএসএলে। তাই ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে আমাদের সঙ্গে আলোচনায় বসে সুপার কাপে খেলার জন্য সম্মতি দিন।

[সুপার কাপ নিয়ে অন্তর্দ্বন্দ্ব, কোয়েসের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্নের পথে ইস্টবেঙ্গল]

এই চিঠির প্রতিলিপি ফেডারেশনে পাঠিয়ে বলা হয়েছে, ক্লাবের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানোর জন্য আরও ৪৮ ঘণ্টা সময় দিতে। কেন না, কোচ, ফুটবলার সবই কোয়েস ইস্টবেঙ্গল এফসির নথিভুক্ত। তাই ক্লাব চাইলেও কোয়েস যদি খেলতে না চায়, খেলা সম্ভব হবে না সুপার কাপে।
ইস্টবেঙ্গলের অন্যতম শীর্ষ কর্তা দেবব্রত সরকার বললেন, “আমরা আশাবাদী অজিত আইজ্যাক ক্লাবের কার্যকরী কমিটির সিদ্ধান্তকে মান্যতা দিয়েই আমাদের সঙ্গে আলোচনায় বসে সুপার কাপ খেলার জন্য সম্মতি দেবেন।” আর যদি সুপার কাপে খেলার ব্যাপারে সম্মতি না দেন? দেবব্রত সরকার বললেন, “৪৮ ঘণ্টা সময় দেওয়া হয়েছে। তার মধ্যে সম্মতিসূচক কিছু না এলে আমরা পরবর্তী পদক্ষেপ নেব।”
এদিন, কার্যকরী কমিটির সভায় ঠিক হয়েছে, ৪৮ ঘন্টার মধ্যে অজিত আইজ্যাক যদি সুপার কাপ এবং আইএসএল খেলার ব্যাপারে কোনওরকম সম্মতি না দেন, তাহলে পরবর্তী পদক্ষেপ ঠিক করার জন্য আর কার্যকরী কমিটির মিটিং ডাকার দরকার নেই। সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে পাঁচ সদস্যর কমিটির উপর। যে কমিটিতে রয়েছেন কল্যাণ মজুমদার, শান্তিরঞ্জন দাশগুপ্ত, দেবব্রত সরকার, সৈকত গঙ্গোপাধ্যায় এবং অজিত বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন মিটিংয়ে অন্যান্য সদস্যরা দেবব্রত সরকারের কাছে জানতে চান, যদি শেষ পর্যন্ত কোয়েসের সঙ্গে বিচ্ছেদ ঘটে যায়, তা হলে ইস্টটবেঙ্গল ক্লাবের আর্থিক ভবিষ্যৎ কী? দেবব্রত সরকার বলেন, “চিন্তার কিছু নেই। বেশ কয়েকজনের সঙ্গে কথা হলেও এই মুহূর্তে একটি সংস্থার সঙ্গে আমাদের কথা বার্তা অনেকদূর এগিয়ে রয়েছে। যেহেতু চুক্তি হয়নি, এই মুহূর্তে সেই কারণেই নাম বলা যাচ্ছে না। ”

তাহলে কি বিচ্ছেদ অবশ্যম্ভাবী? দেবব্রত সরকার বললেন, “আমরা এখনই খারাপটা কেন ভাবব। কোয়েস চেয়ারম্যান হয়তো নিজেই খেলার জন্য রাজি হয়ে যাবেন।” সাংবাদিক সম্মেলনে কথা ওঠে, শোনা যাচ্ছে কোয়েস নাকি মোহনবাগানের হাত ধরতে পারে? ইস্টবেঙ্গল কর্তাটি বললেন, “কোন বাগানে কী হবে, তা নিয়ে আমাদের মাথা ব্যথা নেই।” তাঁবুর ভেতরে যখন কার্যকরী কমিটির মিটিং চলছে, বাইরে তখন সমর্থকরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষায়। শেষ পর্যন্ত কী সিদ্ধান্ত নেন কর্তারা। মিটিং শেষ করে বাইরে এসে দেবব্রত সরকার সমর্থকদের উদ্দেশ্য করে বললেন, “চিন্তার কোনও কারণ নেই। আমরা সুপার কাপেও খেলব। আইএসএলেও খেলব।”

২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'নজরে নবান্ন' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.