সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: ভোটের আগে উত্তর-পূর্ব ভারতে বড়সড় ধাক্কা খেল বিজেপি। একযোগে দল ছাড়লেন একগুচ্ছ নেতা। ভোটের আগে আগেই দল থেকে ইস্তফা দিলেন অরুণাচল প্রদেশের দুই মন্ত্রী-সহ মোট ১৮ জন নেতা। এঁদের মধ্যে ৬ জন বিধায়কও আছেন। এঁরা প্রত্যেকেই কনরাড সাংমার দল ন্যাশনাল পিপলস পার্টিতে যোগদান করছেন। মূলত অরুণাচল বিধানসভা নির্বাচনের টিকিট না পেয়েই দল ছাড়লেন এই নেতারা। এই নিয়ে গত এক সপ্তাহে অন্তত ২৫ জন বিজেপি নেতা দল ছাড়লেন উত্তর পূর্ব ভারতে।
[‘আমার উত্তরসূরি ভারত থেকেই’, চিনকে চ্যালেঞ্জ দলাই লামার]
নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল নিয়ে এমনিতেই উত্তর-পূর্ব ভারতে কিছুটা ব্যাকফুটে চলে গিয়েছিল বিজেপি। বিলটি রাজ্যসভায় পাশ না হওয়ায় ধাক্কা সামাল দেওয়া গিয়েছে। কিন্তু এরই মধ্য নয়া ধাক্কা অরুণাচল প্রদেশে। তিব্বত লাগোয়া রাজ্যটিতে লোকসভা নির্বাচনের সঙ্গেই বিধানসভা ভোট। কিন্তু ভোটের আগে অন্তর্কলহে জর্জরিত গেরুয়া শিবির। টিকিট না পেয়ে দল ছাড়া প্রায় নিত্যদিনের ঘটনা। মঙ্গলবারও দল ছাড়লেন ৬ বিধায়ক, ২ মন্ত্রী-সহ মোট ১৮ জন নেতা। তবে স্বস্তির খবর, এরা প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসে যোগদান করেননি। প্রত্যেকেই যোগ দিয়েছেন কনরাড সাংমার দল এনপিপিতে। এর ফলে, অরুণাচলেও প্রভাব বিস্তার করলে প্রয়াত লোকসভার স্পিকার পি এ সাংমার প্রতিষ্ঠিত দলটি। এবার ৬০ আসন বিশিষ্ট অরুণাচল বিধানসভায় অন্তত ৩০-৩৫টিতে প্রার্থী দেবে এনপিপি। এর আগে বিজেপি শিবিরের বেশ কিছু নেতা কংগ্রেসে নাম লিখিয়েছেন।
[দু’বছরে একটিও দাঙ্গা হয়নি উত্তরপ্রদেশে, দাবি মু্খ্যমন্ত্রী যোগীর]
দলে ভাঙনের পাশাপাশি এবার উত্তর-পূর্ব ভারতে জোট নিয়েও সমস্যায় গেরুয়া শিবির। এনপিপি আগে এনডিএ-এরই অংশ ছিল। কিন্তু, নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলের প্রতিবাদে বিজেপির সঙ্গ ছাড়েন মেঘালয়ের মুখ্যমন্ত্রী কনরাড। যদিও, ভোটের পরে জোটের রাস্তা এখনও খোলা থাকছে। অন্যদিকে, সিকিমের পবন চামলিংয়ের দলের সঙ্গেও এবার জোট হয়নি বিজেপির। এখনও পর্যন্ত উত্তরপূর্ব ভারতের মাত্র দুটি রাজ্যে জোট করতে পেরেছে বিজেপি। ত্রিপুরাতেও আইপিএফটির সঙ্গে জোট ভেঙে গিয়েছে তাদের।