সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: কিছুদিন আগে পর্যন্ত যে পরিচালক, প্রযোজক ও অভিনেতাদের উপর শ্লীলতাহানির অভিযোগ ক্রমাগত উঠছিল, তা এখন একটু হলেও কমেছে। কিন্তু #MeToo ইস্যু এখনও মুছে যায়নি। সম্প্রতি অজয় দেবগনের উপর তনুশ্রী দত্ত ক্ষোভ প্রকাশ করায় ফের তা মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। অলোক নাথকে ছবিতে নেওয়ার ব্যাপারে অজয় দেবগনের উপর রুষ্ট ছিলেন তনুশ্রী। এবার তারই উত্তর দিলেন অভিনেতা। বললেন, কাউকে ছবিতে নেওয়া বা না নেওয়ার তাঁর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী হয় না।
অজয় দেবগনের পরের ছবি ‘দে দে পেয়ার দে’-তে দেখা যাবে অলোক নাথকে। তনুশ্রীর আপত্তি সেখানেই। অভিনেত্রী বলেছেন, “এর থেকেই বোঝা যায় বলিউড ইন্ডাস্ট্রিতে কত মিথ্যেবাদী এবং শিরদাঁড়াহীন দু’মুখোরা রয়েছেন। বলছি অজয় দেবগনের কথা।” অভিনেত্রীর এও অভিযোগ, ‘দে দে প্যায়ার দে’ ছবির নির্মাতারা চাইলেই অলোক নাথকে বাদ দিতে পারতেন, কিন্তু দেননি। এ থেকেই বলিউডের দু’মুখো নীতি স্পষ্ট।
এর উত্তরে অজয় দেবগন বলেছেন, যখন #MeToo আন্দোলন হয়, তিনি তাঁর ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির সহকর্মীদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। বলেছিলেন, তিনি কর্মক্ষেত্রে সমস্ত মহিলাদের সম্মান করেন। কোনও অন্যায়কে সমর্থন করেন না। অলোক নাথে বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছিল গত বছর অক্টোবরে। কিন্তু ছবির শুটিং হয়ে গিয়েছিল আগস্টে, মানালিতে। তাই ছবিতে অলোক নাথ থাকার ব্যাপারে তাঁর কোনও হাত নেই। বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৪০ দিন ধরে ১০ জন অভিনেতাকে নিয়ে শুটিং হয়েছে। যখন অলোক নাথের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে তখন অজয় নিজে এবং অন্য অভিনেতারা অন্য শুটিংয়ের কাজে ব্যস্ত হয়ে গিয়েছিলেন। ফলে নতুন করে ‘দে দে পেয়ার দে’ ছবির শুটিং করা সম্ভব ছিল না। অজয় এও বলেছেন, ছবি বানানো কারওর একার কাজ নয়। এটা মিলিত প্রচেষ্টা। তিনি একা কোনও সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না। সবার অনুমোদন লাগে। দুঃখের বিষয়, অলোক নাথের ক্ষেত্রে এটাই নাকি অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছিল।
[ আরও পড়ুন: মা হলেন সুরভিন, মেয়ের ছবি দিলেন সোশ্যাল সাইটে ]
অজয়ের সঙ্গে একটি ছবিতে কাজ করেছিলেন তনুশ্রী দত্তের বোন ঈশিতা দত্ত। তিনি জানিয়েছেন, যেটা সত্যি সেটা সত্যিই। তাঁর বোন সত্যির পক্ষে দাঁড়িয়েছেন। অজয় স্যরের সঙ্গেও তাঁর সম্পর্ক ভাল। পরিস্থিতি অনুযায়ী কাজ করেছেন তনুশ্রী। ঈশিতার মনে হয় না এনিয়ে অজয় স্যর কিছু মনে করবেন। তিনি এও জানিয়েছেন, ‘দে দে পেয়ার দে’ ছবির প্রযোজক নন। তাই তাঁর একার উপর সমস্ত দোষ চাপিয়ে দেওয়াটা ঠিক নয়। গত বছর অক্টোবরে নিজের সোশ্যাল মিডিয়ায় বিনতা অভিযোগ করেছিলেন, অলোক নাথ একাধিকবার তাঁকে যৌন নিগ্রহ করেছেন। এমনকী, ওশিওয়ারা পুলিশ স্টেশনে অভিযোগও দায়ের করেছিলেন বিনতা। তাঁর পরেই অলোক নাথের বিরুদ্ধে মুখ খোলেন একাধিক মহিলারা। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য নাম হল- সন্ধ্যা মৃদুল, দীপিকা আমন। এরা প্রত্যেকেই অলোকের লালসার শিকার হয়েছিলেন বলে খবর পাওয়া গিয়েছে।
[ আরও পড়ুন: পুলওয়ামায় শহিদদের শ্রদ্ধা জানিয়ে আসছে গান, ভিডিওতে অমিতাভ-আমির-রণবীর ]