স্টাফ রিপোর্টার: আপাতত মোটের উপর শান্তিপূর্ণ। তবে শেষপর্বে সুর কাটবে না তো? অশান্তি এড়াতে কলকাতায় পা রেখেই ক্লোজ ডোর বৈঠকে বসলেন ডেপুটি নির্বাচন কমিশনার সুদীপ জৈন। বৈঠকে হাজির উপরতলার পুলিশ আধিকারিকরা।
[আরও পড়ুন: ডায়মন্ড হারবারের বিজেপি প্রার্থীর গাড়িতে তল্লাশি, তুঙ্গে উত্তেজনা]
সপ্তমী আসতে বাকি আর মাত্র পাঁচদিন। শেষ দফায় ভোট জয়নগর, মথুরাপুর, ডায়মন্ড হারবার, বসিরহাট, বারাসাত, দমদম, কলকাতা উত্তর, কলকাতা দক্ষিণ ও যাদবপুরে। রবিবার মধ্যরাতেই কলকাতায় আসেন ডেপুটি নির্বাচন কমিশনার সুদীপ জৈন। সোমবার সকালে কমিশনার-সহ কলকাতা পুলিশের শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। বেঙ্গল চেম্বার অফ কমার্সে সেই বৈঠক হাজির ছিলেন রিটার্নিং অফিসাররাও। সূত্রের খবর, সপ্তম তথা শেষ দফায় যেসব জেলায় ভোট হবে, সেইসব জেলার রিটার্নিং অফিসারদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন সুদীপ জৈন। বৈঠকের পর ভোটকর্মীদের গণনা সংক্রান্ত একটি প্রশিক্ষণ শিবিরেও যোগ দেন ডেপুটি নির্বাচন কমিশনার। এবারের নির্বাচনে ইভিএম ছাড়াও গণনা হবে ভিভিপ্যাটেও। ভিভিপ্যাটের এই গণনা ভোটকর্মীদের কাছে খানিকটা নতুন। কলকাতা-সহ আশপাশের ভোটকেন্দ্রের রিটার্নিং অফিসারদের সেই সংক্রান্ত প্রশিক্ষণই দিচ্ছেন সুদীপ জৈন।
সপ্তম দফায় ভোট খাস কলকাতায়। শহরাঞ্চলে যাতে কোনও রকম অশান্তি না হয় তা নিয়ে সতর্ক নির্বাচন কমিশন। জয়নগর লোকসভার ক্যানিং, মগরাহাট, কুলতলি, বাসন্তীতে ভোটের আগে একাধিক হিংসার খবর এসেছে। বাজেয়াপ্ত হয়েছে আগ্নেয়াস্ত্রও। জানা গিয়েছে, সপ্তম পর্যায়ের ভোটে এইসব উত্তেজনাপ্রবণ এলাকা নিয়ে ডেপুটি নির্বাচন কমিশনার প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়েছেন রির্টানিং অফিসারদের। কলকাতায় বৈঠক সেরেই মধ্যপ্রদেশ, উত্তর প্রদেশ সহ বেশ কয়েকটি রাজ্যও সফর করবেন তিনি। এই প্রথম নয়, নির্বাচনের দিন ঘোষণার পরেও শহরে এসেছিলেন ডেপুটি নির্বাচন কমিশনার। সেই সময় বেশ কয়েকজন আধিকারিক সুদীপ জৈনের রোষের মুখে পড়েছিলেন। এখনও পর্যন্ত যা খবর, পুলিশ আধিকারিক ছাড়াও রাজ্যের স্বীকৃত ন’টি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলাদা আলাদা বৈঠক করারও কথা ডেপুটি নির্বাচন কমিশনার সুদীপ জৈনের। বৈঠক করবেন জেলাশাসক, পুলিশ কমিশনার এবং পুলিশ সুপারদের সঙ্গেও। সূত্রের খবর, রাজ্যের মুখ্যসচিব মলয় দে, স্বরাষ্ট্রসচিব অত্রি ভট্টাচার্য এবং পুলিশের ডিজি বীরেন্দ্রের সঙ্গে বৈঠক হবে। ষষ্ঠ দফার ভোট শেষ হতে না হতেই বাংলায় একাধিক অভিযোগ উঠতে শুরু করেছে। সেই সব বিষয়ে খতিয়ে দেখছেন সুদীপ। কারও কারও মতে, এ বিষয়ে জবাবদিহিও চাইতে পারেন।