নন্দন দত্ত, সিউড়ি: বাউল গানের আসরে ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনি। আর তা নিয়েই ধুন্ধুমার কাণ্ড বীরভূমের ময়ুরেশ্বরে। তিরের আঘাতে গুরুতর জখম এক বিজেপি কর্মী। তাঁকে লক্ষ্য করে তৃণমূল সমর্থকরা তির ছুঁড়েছেন বলে অভিযোগ। এদিকে এই ঘটনার পর আবার এক তৃণমূল সমর্থকের পানের বরজেও আগুন লাগিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
[আরও পড়ুন: শেষ দফার আগেও রাজনৈতিক উত্তেজনা, শাসকদলের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসের অভিযোগ]
ভোট মিটেছে, কিন্তু হিংসার বিরাম নেই। শুক্রবার থেকে ধর্মরাজের পুজো চলছে বীরভূমে ময়ূরেশ্বরে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, শুক্রবার রাতে বাউল গানের আসর বসেছিল। সেই আসরে আচমকাই ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনি শোনা যায়। স্থানীয় বিজেপি ও তৃণমূলকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়ে যায়। কোনওমতে পরিস্থিতি সামাল দেন গ্রামবাসীরা। অভিযোগ, গণ্ডগোল মেটার পর যখন ফের বাউল গান শুরু হয়, তখন পিছন থেকে বিজেপি কর্মী সন্তোষ সেনের পিঠে একটি তির বিঁধে যায়। প্রথমে তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় সাইঁথিয়া হাসপাতালে। কিন্তু সেখানকার চিকিৎসক তির বের করতে পারেননি। এখন বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজে ভরতি বিজেপি কর্মী সন্তোষ রায়। এদিকে এই ঘটনার পর শুক্রবার গভীর রাতে আবার স্থানীয় তৃণমূল কর্মীর পানের বরজে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।
বিজেপির বীরভূম জেলার সাধারণ সম্পাদক অতনু চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘স্রেফ ‘জয় শ্রীরাম’ বলার জন্য আমাদের দলের কর্মীকে তির মেরেছে তৃণমূলকর্মীরা। তাঁর শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক।’ আর স্থানীয় তৃণমূল নেতা রাজকুমার ফুলমালি অভিযোগ কার্যত অস্বীকার করেছেন। তাঁর বক্তব্য, ‘আমাদের ছেলেরা ধরমপাড়ায় ধর্মরাজ পুজো উপলক্ষে বাউল গানের আসর বসিয়েছিল। সেখানে বিজেপির কয়েকজন জয় শ্রীরাম ধ্বনি দেয়। সকলে মিলে বিষয়টি মিটিয়ে দেয়। পুনরায় বাউল গান শুরু হয়। সে সময় কেউ তির ছোঁড়ে। তিনটি তির মেয়েদের শাড়িতে লাগে। একটি সন্তোষের পিঠে বিঁধে যায়।’