সুরজিৎ দেব, ডায়মন্ডহারবার: থানায় ঢুকে হামলা চালানোর অভিযোগে গ্রেপ্তার হল ডায়মন্ড হারবার শহরের বিজেপি মণ্ডল সভাপতি দেবাংশু পান্ডা। রবিবার ডায়মন্ড হারবারের এসিজেএম আদালতে তোলা হলে তাঁকে দু’দিনের জন্য পুলিশ হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন বিচারক।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ডায়মন্ড হারবারে এক সিভিক ভলান্টিয়ারের সঙ্গে বচসা বেঁধেছিল টোটোচালকের। অভিযোগ, বিজেপি সমর্থক ওই টোটো চালক মদ্যপ অবস্থায় ট্রাফিক আইন ভেঙে গাড়ি চালাচ্ছিলেন। সেই অভিযোগে কর্তব্যরত সিভিক ভলান্টিয়ার তাকে আটকায়। এরপরই দু’জনের মধ্যে বচসা শুরু হয়। পরে ওই টোটোচালককে আটক করে ডায়মন্ডহারবার থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। খবর পেয়ে তাঁকে ছাড়াতে থানায় যান দেবাংশু পান্ডা।
[আরও পড়ুন- পুকুর ভরাট করে বিনোদন পার্ক তৈরির সিদ্ধান্ত, স্থানীয়দের ক্ষোভের মুখে পুরপ্রধান]
পুলিশের অভিযোগ, থানায় ঢুকেই পুলিশের কাজে ক্রমাগত বাধা দিতে থাকেন ওই বিজেপি নেতা। কর্তব্যরত পুলিশ অফিসারদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহারও করেন তিনি। এমনকী থানায় ঢুকে হামলা চালানোরও চেষ্টা করেন। এর জেরে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। রবিবার আদালতে তোলা হলে বিচারক ওই বিজেপি নেতাকে দু’দিনের জন্য পুলিশ হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। ধৃতের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৪৪৭, ৩২৩, ৩২৫, ৩০৭, ৩৩২, ৩৩৩, ৩৫৪, ৩৫৩, ৩৭৯, ৪২৭ ও ৩৪ ধারায় এবং প্রিভেনশন অফ ড্যামেজ টু পাবলিক প্রপার্টি আইনের ৩/৪ ধারায় মামলা করা হয়েছে।
[আরও পড়ুন- ‘ধাপে ধাপে উঠবে গ্যাসের ভরতুকি’, দিলীপের বার্তায় অশনি সংকেত দেখছেন জনতা]
যদিও বিজেপির দক্ষিণ ২৪ পরগনা (পশ্চিম) জেলার সহ-সভাপতি সুফল ঘাঁটুর অভিযোগ, পুলিশের এসব অভিযোগ মিথ্যা। তৃণমূলের কথায় তাঁদের ওই নেতাকে পরিকল্পনামাফিক ক্রমাগত ফাঁসানোর চেষ্টা করছে পুলিশ।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, লোকসভা ভোটের দু’দিন আগে দেবাংশু পান্ডাকে একটি মামলায় গ্রেপ্তার করে হুগলি জেলার চণ্ডীপুর থানার পুলিশ। পরে অবশ্য জামিন পান তিনি। ফের থানায় হামলা চালানো ও পুলিশের কাজে বাধা সৃষ্টির অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার করার ঘটনায় চাপা উত্তেজনা তৈরি হয়েছে ডায়মন্ড হারবারে।