অরূপ বসাক, মালবাজার: বেপরোয়া গাড়ি চলাচলের নিয়ন্ত্রণ এবং সড়ক পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়নের দাবিতে গত বছরই আন্দোলনে নেমেছিলেন বাংলাদেশের পড়ুয়ারা৷ সেই আন্দোলনের ঝাঁজ এতটাই প্রখর ছিল যে, নড়েচড়ে বসেছিল হাসিনা সরকারও৷ এবার সড়ক সংস্কারের দাবিতে এমনই এক ছাত্র-যুব বিক্ষোভের সাক্ষী থাকল এ রাজ্যও৷ খানাখন্দে ভরা রাজ্য সড়কের উন্নয়নের দাবিতে শুক্রবার মালবাজারের ওদলাবাড়ি পঞ্চায়েতের সামনে বিক্ষোভ দেখালেন এলাকার ছাত্র, যুবরা৷
[ আরও পড়ুন: হাসপাতালে ভরতি পূর্ব বর্ধমান জেলা সভাধিপতি, অসুস্থতার কারণ ঘিরে ধোঁয়াশা]
পড়ুয়াদের অভিযোগ, ওভারলোডেড ২০ চাকার ট্রাক যাওয়ার খানাখন্দে ভরে গিয়েছে রাজ্য সড়ক৷ ওদলাবাড়ি থেকে ওদলাবাড়ি চা বাগান পর্যন্ত যে তিন কিলোমিটার সড়ক রয়েছে, বর্ষার সময় তার আরও বেহাল অবস্থা হয়ে যায়৷ ফলে বর্ষায় সময় রাজ্য সড়কের কঙ্কালসার অবস্থা প্রকাশ্যে চলে আসে৷ এবং এরফলে পথ দুর্ঘটনা রোজকার বিষয় হয়ে গিয়েছে এই অঞ্চলে৷ স্থানীয় পড়ুয়া শুভদ্বীপ দত্ত, প্রিয়াঙ্কা রায়, মনোজ দামদের অভিযোগ, গত এক মাসে ওই রাস্তার বিভিন্ন জায়গা বড় বড় গর্তে ভরে গিয়েছে। এলাকার সাধারণ মানুষ এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে পারছে না। প্রতিদিন বাড়ছে দুর্ঘটনা। রাজ্য সড়কে মরণফাঁদ সৃষ্টি হয়েছে৷ তাঁদের দাবি, দ্রুত সড়কের মেরামতি করতে হবে৷ ২০ চাকার পণ্যবাহী ট্রাক চলাচল বন্ধ করতে হবে। বড় গাড়ি যাতে জাতীয় সড়ক দিয়ে চলাচল করে সেই ব্যবস্থা করতে হবে রাজ্য সরকারকে৷
[ আরও পড়ুন: ‘জয় শ্রীরাম’ বলতে বাধ্য করিয়ে কান ধরে ওঠবোস মুসলিম ব্যক্তিকে, গ্রেপ্তার ১ ]
জানা গিয়েছে, এইমর্মে ইতিমধ্যে গ্রাম পঞ্চায়েতকে স্মারকলিপি জমা দিয়েছে পড়ুয়ারা৷ অবিলম্বে রাস্তা মেরামতির কাজ শুরু না হলে, ধর্মঘটের পাশাপাশি বৃহত্তর আন্দোলনেরও ডাক দিয়েছে যুবরা। প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার রাত থেকেই ওই রাজ্য সড়কে ২০ চাকার গাড়ির চলাচল বন্ধ করেছেন স্থানীয়রা। এলাকার মানুষের অভিযোগ, সিঙ্গেল রোড দিয়ে বড় গাড়িগুলি যেভাবে চলাচল করে, তাতে যেকোনও সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এ ব্যাপারে ওদলাবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান মধুমিতা ঘোষ বলেন, ‘‘সমস্ত বিষয় আমরা জলপাইগুড়ি পূর্ত দপ্তরকে জানাব। পাশাপাশি এত বড় গাড়িগুলি কেন এই রাস্তা দিয়ে দ্রুতবেগে চলাচল করছে, তাও খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেব।’’