দেবাশিস সেন: বর্হিবিশ্বে তাঁকে নিয়ে যা-ই হোক, তাঁকে ঘিরে যা-ই চলুক, মহেন্দ্র সিং ধোনি আছেন খোশমেজাজেই! আফগানিস্তান ম্যাচের পর ক্যাপ্টেন কুলকে নিয়ে এক কথায় দু’ভাগ হয়ে গিয়েছে ক্রিকেট দুনিয়া। যাঁদের মধ্যে আম ক্রিকেট সমর্থক থেকে শুরু করে ক্রিকেট বিশেষজ্ঞ, সবাই আছেন। একজন বলছেন, অনেক হয়েছে। ধোনি এবার অবসর নিন। তাঁর মন্থর ব্যাটিং আর দেখা যাচ্ছে না। প্রয়োজনের মুহূর্তে তিনি সিঙ্গলসও নিতে চাইছেন না, আর ভুগছে টিম। আর একদল আবার বলছে, ধোনিকে একা দোষারোপ করার কী অর্থ? বাকি মিডল অর্ডারও তো ভোগাচ্ছে। তা হলে একা ধোনিকে টার্গেট করা হচ্ছে কেন?
[আরও পড়ুন: বাংলাদেশকে হারিয়ে বিশ্বকাপ সফর শেষ পাকিস্তানের, নজরকাড়া পারফরম্যান্স আফ্রিদির]
স্বয়ং ধোনিকেই এ নিয়ে জিজ্ঞাসা করা হল। মাঠ ছেড়ে যখন তিনি বেরিয়ে যাচ্ছেন। শুনে ধোনি বললেন, “সবাই তো চাইছে আমি কালই অবসর নিয়ে ফেলি। কবে অবসর নেব, এখনও ঠিক করিনি আমি। কিন্তু কিছু লোক চাইছে শ্রীলঙ্কা ম্যাচের আগেই আমি সরে যাই!” অর্থাৎ, মহেন্দ্র সিং ধোনির কানে সবই পৌঁছেছে। সবই গিয়েছে। কিন্তু তবু তিনি আপাত নির্লিপ্ত থাকার চেষ্টা করছেন। থাকছেন খোশমেজাজে।
এ দিন মাঠে ঢুকে দেখা গেল, ফুরফুরে মেজাজে রয়েছেন প্রাক্তন ভারত অধিনায়ক। তবে ফোকাসড। নেটে মন দিয়ে ব্যাট করছেন। কখনও বিরাট কোহলিকে লেগস্পিন করছেন। কখনও বা আবার দায়িত্বশীল বড় দাদার মতো চলে যাচ্ছেন পিচ দেখতে। ধোনি যখন সব মিটিয়ে পিচ দেখতে চললেন, তখন মোটামুটি সব শেষ। পিচ কভার করে দেওয়া হয়েছে। আশেপাশে কোনও মাঠকর্মীও নেই। তা দেখা গেল, ক্যাপ্টেন কুল দু’জন নেট বোলারকে ডেকে নিলেন। বললেন, “কভারটা সরা তো।” তার পর হাঁটু মুড়ে বসে চলল পিচ তদারকি। শুধু তাই নয়, ভারতীয় কোচ রবি শাস্ত্রীর সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ আলোচনা করতেও তাঁকে দেখা গেল।
[আরও পড়ুন: শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে তিনটি রেকর্ড গড়ার হাতছানি রোহিতের সামনে]
ভারতের এ দিন ঐচ্ছিক প্র্যাকটিস সেশন ছিল। রোহিত শর্মা, হার্দিক পান্ডিয়া আর মহম্মদ সামি আসেননি। যা খবর, তাতে শনিবারের ম্যাচে ভারতীয় টিমে কয়েকটা বদল অবশ্যম্ভাবী। যেমন মহম্মদ সামি আর ভুবনেশ্বর কুমারের মধ্যে যে কোনও একজন বসবেন। জসপ্রীত বুমরার সঙ্গে থাকবেন নাকি যে কোনও একজন। শোনা গেল, টিমে ফিরতে পারেন কুলদীপ যাদব কিংবা রবীন্দ্র জাদেজার মধ্যে যে কোনও একজন। বলের সঙ্গে ব্যাটটাও করতে পারেন বলে জাদেজার সম্ভাবনা শোনা গেল বেশি। তৃতীয়ত, দীনেশ কার্তিককে আরও একটা সুযোগ দেওয়া হয় নাকি কেদার যাদবকে ফেরানো হয়, সেটাও দেখার। পাল্লা ভারি নাকি কেদারের দিকে।