সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: দিন কয়েক আগেই লস অ্যাঞ্জেলসের বিউটিকন ফেস্টিভ্যালের মঞ্চে এক পাক অধিবাসিনীর প্রশ্নের উত্তরে পালটা দেশভক্তির বাণী আউরে দেশবাসীর মন জয় করেছিলেন দেশি গার্ল। প্রসঙ্গ ছিল, পাকিস্তানের উপর পরমাণু হামলা। যে ঘটনার জেরে পাকিস্তানের মানবাধিকার কমিশন ভারতীয় অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কাকে শুভেচ্ছা দূতের পদ থেকে অপসারণের জন্য আবেদন জানিয়েছিল রাষ্ট্রসংঘকে। এবার সেই প্রসঙ্গেই প্রিয়াঙ্কা চোপড়াকে সমর্থন জানিয়ে পাকিস্তানকে পালটা দিল রাষ্ট্রসংঘ।
[আরও পড়ুন: পরি পিসির পর ‘ভূত পরী’, নয়া ছবি পরিচালক সৌকর্য ঘোষালের]
রাষ্ট্রপুঞ্জের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেজের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক বলেন, “নিজস্ব স্বার্থের সঙ্গে জড়িত কোনও বিষয়ে রাষ্ট্রসংঘের একজন শুভেচ্ছা দূতের কথা বলার অধিকার রয়েছে। কোনও বিষয়ে তাঁরা নিজস্ব মতামত দিতেই পারেন। তাঁদের ব্যক্তিগত কাজ বা মন্তব্যের কোনওটাই UNICEF উপর প্রভাব ফেলবে না। তাঁরা যখন রাষ্ট্রপুঞ্জের হয়ে কথা বলবেন আশা করব নিরপেক্ষভাবেই কথা বলবেন।” পাশাপাশি তিনি শুভেচ্ছাদূতদের দায়িত্বের কথা উল্লেখ করে বলেন যে “জাতিসংঘের শুভেচ্ছা দূতরা যে যাঁর নিজস্ব ক্ষেত্রে বিশিষ্ট ব্যক্তি। এবং তাঁরা স্বেচ্ছায় চিলড্রেন রাইটস-এর প্রচারের জন্য নিজেদের মূল্যবান সময় দিতে রাজি হয়েছেন।” প্রিয়াঙ্কার সমর্থনে রাষ্ট্রসংঘের তরফে জবাব মেলায় খুশি হয়েছেন অভিনেত্রীর অনুরাগীরা। সম্প্রতি পাকিস্তানের তরফে অভিনেত্রীকে শুভেচ্ছা দূতের পদ থেকে অপসারণের দাবি তুললে জাভেদ আখতার, আয়ুষ্মান খুরানার মতো বলিমহলের অনেকেই তাঁর পাশে দাঁড়ান।
[আরও পড়ুন: নাইজেলদা আমাকে ইচ্ছে করে ফেলে দিয়েছিল: মানালি]
পাকিস্তানের মানবাধিকার কমিশনের তরফে রাষ্ট্রসংঘের কাছে চিঠি পাঠিয়েছিলেন মন্ত্রী শিরিন মাজারি। রাষ্ট্রসংঘে পাঠানো চিঠিতে লেখাছিল, “শ্রীমতি প্রিয়াঙ্কা চোপড়ার সাম্প্রতিক মন্তব্যের উপর আপনাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই। যাকে আপনারা রাষ্ট্রসংঘের শুভেচ্ছা দূত হিসেবে নিযুক্ত করেছেন। বিজেপি সরকারের কাজকর্ম একেবারে নাৎসি মতাদর্শের মতো। ৩৭০ ধারা বিলুপ্তিতে ভারত অধিকৃত কাশ্মীরে মুসলমানদের জাতিগতভাবে নির্মূলকরণের কাজ চলছে। আর প্রিয়াঙ্কা চোপড়া এই ভারত সরকারের এহেন কার্যকলাপকেই মহিমান্বিত করে তুলে ধরে বীরত্ব প্রদর্শন করছেন। এমনকী, পাকিস্তানকে দেওয়া ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের পরমাণু হুমকিকেও সমর্থন জানিয়েছেন তিনি। যা একজন শুভেচ্ছা দূতের আচরণ হওয়া উচিত নয়। তাই অবিলম্বে তাঁকে রাষ্ট্রসংঘের শুভেচ্ছা দূতের পদ থেকে অপসারণ না করা হলে, বিশ্বব্যাপী এই পদের গুরুত্ব ক্ষুণ্ণ হবে এবং তা একপ্রকার বিদ্রূপ হয়ে উঠবে সবার কাছে।”