Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
  • বৃহস্পতিবার
  • ৪ জুন ২০২৬

৫ মিনিটে দিল্লি ধ্বংসের হুমকি পাক পরমাণু বিজ্ঞানীর

“মাত্র পাঁচ মিনিটের মধ্যেই দিল্লিকে ছাই করে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে পাকিস্তান৷ সেই মতো নিজেদের তৈরিও রেখেছি আমরা৷”

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: মে ৩০, ২০১৬, ০৯:৩৮

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: মে ৩০, ২০১৬, ০৯:৩৮

options
link
৫ মিনিটে দিল্লি ধ্বংসের হুমকি পাক পরমাণু বিজ্ঞানীর zoom

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক:  “মাত্র পাঁচ মিনিটের মধ্যেই দিল্লিকে ছাই করে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে পাকিস্তান৷ সেই মতো নিজেদের তৈরিও রেখেছি আমরা৷” একটি সভায় ভাষণ দিতে গিয়ে এভাবেই সরাসরি ভারতকে হুমকি দিলেন পাকিস্তানের বিতর্কিত পরমাণু বিজ্ঞানী আবদুল কাদির খান৷ জবাবে ভারতের সামরিক ও কৌশলগত বিশেষজ্ঞরা এই দাবিকে ‘রাবিশ’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন৷ তাঁরা জানিয়েছেন, “দিল্লিতে হামলা চালাতে অনেক বেশি সময় নিয়ে ফেললেন খান৷ ওই সময়ের মধ্যে ভারত তো গোটা পাকিস্তানকেই নিশ্চিহ্ন করে দেবে৷”

বিবেকানন্দ ইন্টারন্যাশনাল ফাউন্ডেশনের থিঙ্ক ট্যাঙ্ক তথা প্রাক্তন সেনাপ্রধান এন সি ভিজ জানিয়েছেন, “রাওয়ালপিন্ডির কাছে কাহুটা পরমাণু কেন্দ্র থেকে ক্ষেপণাস্ত্রের মাধ্যমে দিল্লিতে পরমাণু হামলার হুমকি দিয়েছেন খান৷ এটা নতুন কিছু নয়৷ এর আগেও এই হুমকি তিনি দিয়েছেন৷ এরকম বোকা বোকা কথা পাকিস্তান প্রায়ই বলে থাকে৷ ওঁরা একটা কথা জানেনই না, পরমাণু অস্ত্র ক্ষমতা দেখানোর বা যুদ্ধ করার কোনও হাতিয়ার নয়৷ পরমাণু অস্ত্র আত্মরক্ষার একটা চূড়ান্ত ব্যবস্থাপনা যার বহুমুখী দিক আছে৷” তিনি আরও বলেন, “ভারতের হাতে দ্রুততম ব্যবহারযোগ্য, সক্রিয় ও নির্ভুল লক্ষ্যভেদে সক্ষম এত পরমাণু অস্ত্র আছে যে তা পাকিস্তানের ধারণারও বাইরে৷ কিন্তু কতক্ষণের মধ্যে আমরা ওদের উড়িয়ে দেব সেরকম শিশুসুলভ হুমকি আমরা দিই না৷”

২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'নজরে নবান্ন' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

সামরিক বিশেষজ্ঞ ও সোসাইটি ফর পলিসি স্টাডিজের ডিরেক্টর অবসরপ্রাপ্ত কমোডর উদয় ভাস্কর তাচ্ছিল্যের সুরে জানান, এধরনের নাটকবাজি ওই লোকটা প্রায়ই করে থাকেন৷ প্রচারের আলোয় আসার জন্য এটা একটা ব্যর্থ চেষ্টা মাত্র৷ এই সব গরম বুলি আউড়ে কাদির খান ও পাকিস্তানের পরমাণু কর্মসূচি গোটা দুনিয়ার কাছে আরও হাস্যাস্পদ হচ্ছে৷ সবার কাছেই ওদের ভাবমূর্তি আরও খারাপ হচ্ছে৷

এক ধাপ এগিয়ে ডিফেন্স স্টাডিজ অ্যানালিসিসের ফেলো অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার গুরমিত কানোয়াল বলেছেন, একটা কথা নিশ্চিতভাবে বলতে পারি, আমাদের কাছে যা খবর আছে, কালকে পাক সেনাপ্রধান বা ওদের সরকার যদি কোনও এক সময় সিদ্ধান্ত নেন যে ভারতে কিছুক্ষণের মধ্যে পরমাণু অস্ত্র দিয়ে আঘাত হানা হবে তাহলে পাঁচ মিনিট তো দূরের কথা কম করে পাকিস্তানের ছ’ঘণ্টা সময় লাগবে৷ কারণ মিসাইল অ্যাকটিভেশনেই সময় নেবে অনেকটা৷ কিউ খান হাততালি কুড়োবার জন্য চটকদারি কথা বলছেন৷ প্রাক্তন বায়ুসেনা কর্তা মনমোহন বাহাদুর জানিয়েছেন, খানের বাগাড়ম্বর বরাবরই বেশি৷ খান একঘরে হয়ে যাওয়া এক ব্যর্থ পরমাণু বিশেষজ্ঞ৷ বিজ্ঞানীর ভেক ধরে নানা দেশে পরমাণু প্রযুক্তি পাচার করতেন৷ ওঁর মাথা খারাপ, তাই ভুলভাল বকছেন৷ আশা করি পাকিস্তান সরকারের কর্তাব্যক্তিদের খানের মতো মাথা খারাপ হয়নি৷

উল্লেখ্য, ১৯৯৮ সালের মে মাসে প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপেয়ীর আমলে রাজস্হানের পোখরানে ‘শেষ ও সফল’ পরমাণু পরীক্ষা চালান কিংবদন্তি বিজ্ঞানী এ পি জে আবদুল কালাম ও অনিল কাকোদকর৷ জবাবে কয়েকদিন পরেই চাঘাইতে পরমাণু পরীক্ষা চালায় পাকিস্তানও৷ সেই পরীক্ষার ১৮ বছর পূর্তি উপলক্ষে ভাষণ দিতে গিয়ে একদা গৃহবন্দি বিজ্ঞানী আশি বছরের খান দিল্লি ধ্বংস করার হুমকি দেন৷ তিনি বলেন, প্রাক্তন পাক প্রেসিডেন্ট জিয়াউল হক একটু সাহসী হলেই ১৯৮৪ সালেই পাকিস্তান পরমাণু শক্তিধর দেশ হিসাবে আত্মপ্রকাশ করতে পারত৷  কিন্তু পরমাণু পরীক্ষা চালানোর অনুমতি জেনারেল জিয়া দেননি৷ তিনি আশঙ্কা করতেন, পরমাণু পরীক্ষা চালালে সোভিয়েত রাশিয়া বা পশ্চিমি দেশগুলি ‘অবাধ্য’ পাকিস্তানকে জব্দ করতে সেনা অভিযান চালাবে৷

রবিবার ওই অনুষ্ঠানে আক্ষেপ করে নিজের বক্তৃতায় খান বলেন, “প্রথম মুসলিম দেশ হিসাবে পাকিস্তান পরমাণু শক্তির অধিকারী হয়৷ পাকিস্তানকে এখন গোটা দুনিয়া সমীহ করে৷ আমার অক্লান্ত পরিশ্রমের ফসল এই কৃতিত্ব৷ এজন্য প্রাণপাত করে আমি ও আমার ঘনিষ্ঠ বিজ্ঞানীরা পরিশ্রম করেছ৷ কিন্তু পাক সরকার. ও সামরিক কর্তাদের কাছ থেকে আমরা যা অবহেলা, অশ্রদ্ধা পেয়েছি সেই অপমান ভোলার নয়৷ অথচ আন্তর্জাতিক অবরোধ, হুমকি, প্রতিকূলতার মুখোমুখি হয়েও আমরা নিরন্তর পরিশ্রম করেই এই ক্ষমতা অর্জন করেছিলাম৷ কিন্তু আমাদের প্রাপ্য  স্বীকৃতিটুকু পাক সরকার দেয়নি৷”

এর আগে বহুবার ভারতীয় বিজ্ঞানী এ পি জে আবদুল কালামকে ব্যঙ্গ করেছেন খান৷ কালাম কোনও বিজ্ঞানীই নন, একজন সামান্য অধ্যাপক মাত্র৷ কালাম একজন ব্যর্থ রকেট বিশেষজ্ঞ বলে বার বার ব্যঙ্গ করতেন পরমাণু প্রযুক্তি পাচারের দায়ে ‘ব্ল্যাকলিস্টেড’ কাদির খান৷ কিন্তু বছর খানেক আগে এক সর্বভারতীয় ইংরেজি ম্যাগাজিনকে সাক্ষাৎকারে কাদির খান কবুল করেন, ভারতের মতো দেশে একজন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বিজ্ঞানীকে দেশের সর্বোচ্চ সম্মান (ভারতরত্ন) দিয়ে রাষ্ট্রপতি পদে বসানো হয়৷ তাঁর জীবনী স্কুলে পড়ানো হয়৷ অথচ আমাদের (পাক পরমাণু বিজ্ঞানীদের) ওরা (আইএসআই, পাক সেনাবাহিনী ও সরকার) ‘জাস্ট ব্যবহার করে’ ছুড়ে ফেলে দিল৷ সরকারি সুবিধা, বেতন-পেনশন, প্রাপ্য নিরাপত্তাও বেশিরভাগ পাক পরমাণু বিজ্ঞানী পান না৷

২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'নজরে নবান্ন' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.