Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩
  • শনিবার
  • ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বিশ্বভারতীতে দুই ছাত্রীকে যৌন হেনস্তা, অভিযুক্ত বিভাগীয় প্রধান

অভিযোগ, ছাত্রীর শরীরে কোথায় পক্সের দাগ, দেখতে চান বিভাগীয় প্রধান!

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: নভেম্বর ২৪, ২০১৬, ১১:৩৪

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: নভেম্বর ২৪, ২০১৬, ১১:৩৪

options
link
বিশ্বভারতীতে দুই ছাত্রীকে যৌন হেনস্তা, অভিযুক্ত বিভাগীয় প্রধান zoom

নিজস্ব সংবাদদাতা: বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিনয় ভবনের এডুকেশন বিভাগে দুই ছাত্রীকে যৌন হেনস্তার অভিযোগ উঠল ওই বিভাগের বিভাগীয় প্রধানের বিরুদ্ধে৷ দু’জনই বিশ্বভারতী উপাচার্যকে প্রথমে অভিযোগ করেন, কিন্তু কর্তৃপক্ষ কোনও ব্যবস্থা না নেওয়ায় শান্তিনিকেতন থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়৷ বিভাগীয় প্রধান রাজর্ষি রায় অবশ্য অভিযোগ অস্বীকার করে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি করেছেন৷

বিশ্বভারতী সূত্রে জানা গিয়েছে, বিশ্বভারতীর বিনয় ভবনে এডুকেশন বিভাগের দ্বিতীয়বর্ষের তৃতীয় সেমেস্টারে পড়েন দুই ছাত্রী৷ একজনের বাড়ি হুগলি, অন্যজনের বর্ধমান৷ দু’জনেই এখানে মেসে থাকেন৷ হুগলি থেকে আসা ছাত্রীটি বিশ্বভারতী গণিত বিভাগে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পাস করেছেন৷ গণিত বিভাগের অন্যতম সফল ছাত্রীটি এডুকেশন বিভাগে এমএড-এ ভর্তি হয়৷ অভিযোগ, প্রথম বর্ষ থেকেই এডুকেশন বিভাগের প্রধান রাজর্ষি রায় তাঁকে তার মেয়েকে টিউশন পড়ানোর প্রস্তাব দেন৷ এতে রাজর্ষিবাবু ও তার পরিবারের সঙ্গে ছাত্রীটির ভাল সম্পর্ক তৈরি হয়৷ আর এর সুযোগ নিয়ে ছাত্রীটিকে ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ এবং ফোনে বিভিন্নভাবে উত্ত্যক্ত করতে শুরু করেন রাজর্ষিবাবু৷ এমনকী, ছাত্রীটির ব্যক্তিগত জীবনে হস্তক্ষেপ, তাঁকে বিভিন্ন অশালীন ইঙ্গিতপূর্ণ মেসেজ পাঠাতে থাকেন রাজর্ষিবাবু, এমনই অভিযোগ ছাত্রীটির৷ পরিস্থিতি এতটাই খারাপ হয় যে, ছাত্রী রাজর্ষিবাবুর মেয়েকে টিউশন পড়ানো বন্ধ করে দেন এবং ফোন, ফেসবুক ও হোয়াটসঅ্যাপে ছাত্রীটি রাজর্ষিবাবুকে ব্লক করে দেন৷ আর এতেই চটে যান রাজর্ষিবাবু৷ এর পরেই বিভিন্নভাবে ছাত্রীটিকে হেনস্তা শুরু করেন৷

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

পুজোর ছুটির পর বিভাগে যোগ দিলে হেনস্তা চরমে ওঠে৷ ছাত্রীর অভিযোগ, ক্লাসে কোনও প্রশ্ন করলে তাঁকে কোনও উত্তর দেওয়া হত না৷ বিভিন্ন ইঙ্গিতপূর্ণ কথা বলা হত৷ এমনকী তাঁর পেটে সিস্ট হয়েছিল, সে বিষয়টি নিয়ে অশালীন মন্তব্যকে করেন রাজর্ষিবাবু৷ এর মধ্যে এমএড-এর তৃতীয় সেমেস্টার পরীক্ষার জন্য ক্লাসে ৬০ শতাংশ উপস্থিতি নেই বলে বেশ কয়েকজন ছাত্রছাত্রীর পরীক্ষা আটকে দেওয়া হয়৷ অভিযোগকারী ছাত্রীটির ৫৯ শতাংশ উপস্থিতি ছিল বলে দাবি৷ উপস্থিত না থাকতে পারার জন্য ডাক্তারি সার্টিফিকেটও জমা দেন ওই ছাত্রী৷ কিন্তু রাজর্ষিবাবু ছাত্রীকে ডেকে কুপ্রস্তাব দেন বলে অভিযোগ৷

একইভাবে, দ্বিতীয় ছাত্রীটির ৬০ শতাংশ উপস্থিতি না থাকার জন্য তাকে আটকে দেওয়া হয়৷ দ্বিতীয় ছাত্রীটির অভিযোগ, “আমি রাজর্ষিবাবুকে জানাই, আমার পক্স হয়েছিল৷ তখন রাজর্ষিবাবু বলেন তোমার মুখে তো কোনও দাগ নেই, শরীরে কোথাও দাগ থাকলে দেখাও৷” এর পরই দুই ছাত্রী ১৫ নভেম্বর বিনয় ভবনের অধ্যক্ষ সবুজকলি সেনকে লিখিত অভিযোগ জানান৷ সেইদিনই অভিযোগ ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য স্বপন দত্তর কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হয়৷ কিন্তু উপাচার্য না থাকার জন্য ভারপ্রাপ্ত কর্মসচিব অমিত হাজরা কোনও ব্যবস্থা নেননি৷ ১৮ তারিখে সকালে হুগলির ছাত্রীটিকে উপাচার্য মেল করে জানিয়ে দেন, তিনি পরীক্ষায় বসতে পারবেন৷ দ্বিতীয় ছাত্রীর বিষয়ে কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি৷ অভিযোগগুলি সেক্সুয়াল হ্যারাসমেন্ট কমিটি বা বিশাখা কমিটির কাছে পাঠানো হয়নি বলে অভিযোগ ছাত্রীদের৷

আর এর মধ্যে বিভাগীয় প্রধান রাজর্ষি রায়ের বিরুদ্ধে কর্তৃপক্ষ কোনও ব্যবস্থা না নেওয়ার জন্য ২১ তারিখ দুই ছাত্রী শান্তিনিকেতন থানাতে অভিযোগ দায়ের করেন৷ কিন্তু প্রায় দু’দিন পার হওয়ার পরেও পুলিশ কোনও তদন্ত শুরু করেনি বলে অভিযোগ৷ এ সম্পর্কে বিনয় ভবনের অধ্যক্ষ সবুজকলি সেন জানান, “আমি দুই ছাত্রীর অভিযোগ পেয়েছি, সেই দিনই উপাচার্যের কাছে পাঠিয়ে দিয়েছি৷” ভারপ্রাপ্ত কর্মসচিব অমিত হাজরা জানান, “আমরা অভিযোগ, দু’টি কমিটিতে পাঠিয়েছি৷ একজন ছাত্রী পরীক্ষা দিতে পারবে৷” যার বিরুদ্ধে অভিযোগ সেই অধ্যাপক রাজর্ষি রায় জানান, “আমাকে ফাঁসানোর চেষ্টা হচ্ছে৷ যাদের উপস্থিতি নেই তাদের বিরুদ্ধে আমি বিভাগে কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছিলাম৷ আমি পুরো ঘটনা কোনও স্বাধীন সংস্থাকে দিয়ে তদন্তের দাবি জানাচ্ছি৷”

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.